গরু-খাসির চামড়া থেকে ছাড়ানো মাংস (লানি) কিনছেন নারীরা। প্রকারভেদে বিক্রি হচ্ছে মাংসগুলো। মাংস ছাড়াও কান, ঠোট, লেজ, নাকের অংশও কিনে নিচ্ছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যার পর ময়মনসিংহ নগরীর ৩৩ নম্বর ওয়াডের ঐতিহ্যবাহি শম্ভুগঞ্জ চামড়া বাজারে ঘুরে ঘুরে চামড়া থেকে ছাড়ানো মাংস কিনতে দেখা যায় কোরবানি দিতে না পারা কয়েকজনকে। এ ছাড়াও শহরের বিভিন্ন অলি-গলিতে বসা হালিম বিক্রেতারাও এই মাংস কিনে নিচ্ছেন।
চামড়া বাজার ঘুরে দেখা যায়, রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশা, ট্রাকে করে বাজারে চামড়া আসতে শুরু করেছে। শ্রমিকরা চামড়া থেকে মাংস, কান, নাক, থুতনি, লেজ কেটে আলাদা করে রাখছেন চামড়া শ্রমিকরা। চামড়া থেকে ছাড়ানো মাংস, কান, নাক, থুতনি, লেজ মাটিতে পলিথিনের ওপর ফেলে বন্টন করে রাখছে। নারীরা দরদাম করে এগুলো কিনছেন। অন্তত ৪৫ থেকে ৫০ জন নারী এগুলো কিনে সংগ্রহ করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নারী বলেন, ‘এগুলো খাওয়ার জন্য কিনে নিচ্ছি। এই মাংস বাড়িতে নিয়ে গরম পানিতে সিদ্ধ করা হবে। সিদ্ধ করার পর মাংস থেকে ময়লা ছাড়িয়ে রান্না করা হয়। এগুলো মাংসের চাইতেও বেশি স্বাদ বলে দাবি করেন ওই নারী।’
অপর আরেক নারী বলেন, আমি নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাসকান্দা এলাকা থেকে এই মাংস কিনতে আসছি। আমরা তো কোরবানি দিতে পারি না। যারা কোরবানি দেয়, তারা সামান্য মাংস দেয়, এতে হয় না। তাই চামড়া থেকে ছাড়ানো মাংস কিনে নিতে আসছি।
চামড়া থেকে মাংস ছাড়ানো শ্রমিক শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রতি বছরই চামড়ার কাজ করি। চামড়া থেকে ছাড়ানো মাংস, কান, নাক, থুতনি, লেজ আলাদা করে বিক্রি করি। এগুলোর চাহিদাও আছে। বাজারে নারী এই মাংসগুলো কিনে নিচ্ছে। এগুলো আমাদের বাড়তি ইনকাম।
অপর শ্রমিক সায়িদ মিয়া বলেন, কান ১০ টাকা থেকে ২০ টাকা দামে বিক্রি হয়। এগুলো কিনে পরিস্কার করে ফ্রিজে রেখে দেয়। পরে এই মাংস, কান, নাক দিয়ে শহনের বিভিন্ন পার্কে, রাস্তার পাশে, ফুটপাতে বসে হালিম বানিয়ে বিক্রি করে। মানুষও না জেনে খায়। এগুলো ৪/৫ বছর আগেও ফেলে দেওয়া হতো। এখন মানুষ এগুলো কিনে নিয়ে খায়।