Image description

কৌশলগত লড়াইয়ের অংশ হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারে নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মাহফুজ আলম ও নিজের স্ত্রী ফরিদা আখতারকে পাঠিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। 

নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং মাহফুজ আলম নতুন বন্দোবস্ত তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগও তার। 

সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীনের সঞ্চালনায় ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন অনুষ্ঠানে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

বিষয়টির ব্যাখ্যা করে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘আমার স্ত্রী, মাহফুজ, নাহিদ এবং আসিফকে আমি সে সরকারে (অন্তর্বর্তী সরকার) থাকতে বলেছি। এটা হলো কৌশলগত প্রশ্ন। আমি তো স্টুপিড না, ফলে আমাকে তো এই লড়াইটা চালাতে হবে। আমার স্ত্রী না গেলে কী এমন পরিবর্তন হতো ওখানে? ওই লড়াইয়ে থাকার কারণে আমি এখন অন্তত কিছু কিছু মন্ত্রণালয়ের তথ্য আপনাকে বলতে পারছি...। অন্য কিছু হোক বা না হোক, মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদ কী করে পুনর্গঠন করতে হয় তার সম্পূর্ণ একটা চিত্র এখন আমার মধ্যে আছে।’

নীতির প্রশ্নটি হলো আমার স্ত্রী যখন ছিল (সরকারে), তখন আমি যা বলছি এখনো তাই বলছি। নতুন তো কিছু বলছি না। তিনি তার লড়াই চালিয়ে গেছেন, তিনি তার কাজ করেছেন। তিনি যদি মন্ত্রণালয় থেকে কোনো কিছু ভুল করে থাকেন বা তার মন্ত্রণালয় ঠিকমতো পরিচালনা করতে না পারেন সেটা আমাকে বলেন। আমরা অবশ্যই তার সমালোচনা করব।’

অন্তর্বর্তী সরকারে যাওয়া তিন ছাত্র প্রতিনিধির ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন ফরহাদ মজহার। সাবেক এই তিন উপদেষ্টার ওপর নিজের প্রভাবের কথাও তিনি সরাসরি তুলে ধরেন।

ফরহাদ মজহার বলেন, ‘নাহিদকে বারবার বলেছি মন্ত্রণালয় ঠিকমতো চালাতে। কেন বলেছি... নাহিদ শুনবে নিশ্চয় আমার এ কথা। বলেছি, তোমরা যদি মন্ত্রণালয় ঠিকমতো না চালাও তাহলে আগামী দিনে আমি তোমাদের বয়সী কোনো তরুণকে মন্ত্রিত্বের পদে নিতে পারব না। তোমরা গেছ, এত বড় সুযোগ পেয়েছ, এত বড় ঐতিহাসিক সুযোগ কেউ পায়নি। কিন্তু তারা কেউই মন্ত্রণালয় ঠিকমতো পরিচালনা করেনি। আমি তো এখন পাবলিকলি অভিযোগটা তুললাম।’

আসিফ মাহমুদের পারফরম্যান্স নিয়েও হতাশা জানান ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, ‘আসিফ কোনো (মন্ত্রণালয়) পরিচালনা করেনি। তার বিরুদ্ধে এখন দুর্নীতির অভিযোগ আসছে। এগুলো তো আমরা শুনতে চাইনি। আমরা চেয়েছি তারা মন্ত্রণালয় চালিয়ে দেখাক যে, তারা একটা মন্ত্রণালয় চালাতে সমর্থ।’

আরেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম নিয়েও ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘মাহফুজও (মন্ত্রণালয়) চালায়নি। বন্ধুদের জন্য মাহফুজের যে কাজগুলো করার দরকার ছিল, তার কোনো কাজই সে করেনি। মাহফুজ তার সময়ে সে সমস্ত গণমাধ্যম যাদেরকে দিয়েছে তার সবগুলো আওয়ামী লীগের। তাহলে সে আজকে কোন মুখে আওয়ামী লীগ আসার কথা বলছে! তাকে বারবার বলা হয়েছে যে, তুমি টেলিভিশন করো। ও তো তখন ওই দায়িত্বে ছিল। বলা হয়েছে, তুমি পত্রিকা বের করো, যারা সত্যিকারে গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত তাদেরকে সাপোর্ট করো। সে তো কিছু করেনি।’

হতাশা নিয়ে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘আপনি এখন দেখছেন যত আওয়ামী লীগাররা অ্যাকটিভ হয়েছে, ওটা তো তার (মাহফুজ) আমলেই হয়েছে। এখন সে যে এসে বড় বড় বার্তা দিচ্ছে—আওয়ামী লীগ এসে যাচ্ছে, এটা তো ওর জন্য হয়েছে। আপনি যদি আওয়ামী লীগকে মোকাবেলা করতে চান, তাহলে আওয়ামী লীগকে আপনি আগে ডিল করবেন তো ইডিওলজিক্যাল ক্ষেত্রে, মতাদর্শিক ক্ষেত্রে। বাঙালি জাতিবাদের তো আপনার ক্রিটিক করতে হবে। বাঙালি জাতিবাদ কী করে এখানে একটা ফ্যাসিজমে রূপ নিল সেটার ক্রিটিক করতে হবে। অথচ আপনি চলে গেছেন একাত্তরের বিরুদ্ধে।’

ড. মুহাম্মদ ইউনূস যাকে জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন, সেই মাহফুজ আলমের কঠোর সমালোচনা করেন ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, ‘মাহফুজের চিন্তা এবং তত্ত্ব ক্ষতিকর, তার ব্যক্তিগত আচরণও ক্ষতিকর। কারণ মাহফুজ কোনো বন্ধুর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখেনি। মাহফুজের কারণে কিন্তু আজকে পরিস্থিতিটা এত নেতিবাচক জায়গায় পৌঁছে গেছে। ছাত্রদের মধ্যে যে বিভেদ ও বিভাজন—সেটি মাহফুজের ব্যক্তিগত চরিত্রের কারণে হয়েছে।’