মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও তার স্ত্রী হযরত আয়েশাকে (রা.) নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘অবমাননাকর’ মন্তব্য পোস্ট করার অভিযোগে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে উপজেলার উমরমজিদ ইউনিয়নের তালুক সুবল গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার যুবকের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে জন অসন্তুষ্টি সৃষ্টির অভিযোগের সঙ্গে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে।
আইনজীবীরা জানান, বিশ্বের অনেক দেশে ধর্মীয় অবমাননার বিরুদ্ধে কঠোর আইন রয়েছে। বাংলাদেশের আইনে ধর্ম অবমাননা এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচিত। ইচ্ছাকৃতভাবে দেশের কোন নাগরিককে মৌখিক, লিখিতভাবে বা অন্য কোন উপায়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হলে তা ধর্মীয় অবমাননা বলে গণ্য হবে। এরকম অপরাধের ক্ষেত্রে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয়দণ্ড হতে পারে।
আর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন- ২০১৮ তে বলা হয়েছে, যদি কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করার বা উসকানি প্রদানের অভিপ্রায়ে ওয়েবসাইট বা অন্যকোনও ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা প্রচার করেন বা করান, যা ধর্মীয় অনুভূতি বা ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর আঘাত করে, তাহলে ওই ব্যক্তির অনুরূপ কাজ হবে একটি অপরাধ। এই অপরাধ প্রমাণিত হলে তিনি অনধিক পাঁচ বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত যুবক তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে মহানবী (সা.) ও তার স্ত্রী আয়েশাকে (রা.) নিয়ে অবমাননাকর পোস্ট করেন। পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মুসলিম ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। অনেকে অভিযুক্ত মাইদুলকে দ্রুত আইনের আওতায় নেওয়ার দাবি তোলেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় রাজারহাট থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে স্থানীয় এক ব্যক্তি বাদী হয়ে অভিযুক্ত মাইদুলের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অবমাননা এবং ডিজিটাল নিরপত্তা আইনের ধারায় মামলা করেন।
রাজারহাট থানার ওসি মামুনুর রশীদ বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে মন্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ওই যুবকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাকে শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।