বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) অডিটে দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল অপারেটরের বিরুদ্ধে আর্থিকসহ নানা অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছিল। বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির তথ্যও পাওয়া যায়। সেই অডিটের ভিত্তিতে গ্রামীণফোনের কাছে বিটিআরসির পাওনা প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা দাবির বিষয়টি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। এরই মধ্যে মোবাইল অপারেটরটির কার্যক্রম যাচাইয়ে আবারও অডিট করার উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। তবে নতুন এ অডিট শুরুর আগেই বিটিআরসির এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন এবং নানা আপত্তি তুলে স্থগিতের আবেদন করেছে গ্রামীণফোন। একই সঙ্গে অডিট স্থগিত রেখে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে মোবাইল অপারেটরটি।
যদিও বিটিআরসি বলছে, অডিট প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতেই প্রশ্ন তুলছে গ্রামীণফোন। কারণ বিটিআরসি যে কোনো সময় লাইসেন্সধারীদের নিয়ন্ত্রক, আর্থিক এবং পরিপালন অডিট পরিচালনা করতে যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত, যা লাইসেন্সধারী হিসেবে গ্রামীণফোন ভালোভাবেই অবগত। আর এ অডিটের সার্বিক কার্যপ্রণালিও এরই মধ্যে গ্রামীণফোনকে জানানো হয়েছে। এরপরও স্থগিত করার আবেদন অডিট প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত ও বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্য হিসেবে দেখছে বিটিআরসি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গ্রামীণফোনের কার্যক্রম নিয়ে ১০ বছরের অডিট করতে চায় বিটিআরসি। অডিট করতে ‘হাওলাদার ইউনুস অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস’কে নিয়োগ দিয়েছে বিটিআরসি। গ্রামীণফোনের ‘অপারেটরস প্রসিডিউর অ্যান্ড সিস্টেমস অডিট’ করার লক্ষ্যে পাঁচটি ফার্মের মধ্যে কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়নে বিজয়ী হয় হাওলাদার ইউনুস অ্যান্ড কোং। ৩ কোটি ১৭ লাখ ২ হাজার ৭০৩ টাকায় বিটিআরসি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি করেছে। বিটিআরসি চেয়ারম্যানের অনুমোদনের পর এ অডিট কার্যক্রমের কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
তবে ‘অপারেটরস প্রসিডিউর অ্যান্ড সিস্টেমস অডিট’ শুরুর আগেই এর পরিধি, আইনগত ভিত্তি, তথ্য যাচাই পদ্ধতি এবং নিরীক্ষকদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে গ্রামীণফোন। কর, বৈদেশিক মুদ্রা স্থানান্তর, শেয়ার লেনদেন ও মানবসম্পদ নীতিমালার মতো বিষয় নিরীক্ষার আওতায় আনার বিরোধিতা করে প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এসব বিষয় বিটিআরসির এখতিয়ারের বাইরে। একই সঙ্গে টানা ১০ বছরের তথ্য যাচাই বাস্তবসম্মত নয় বলেও দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিটিআরসি সূত্রে জানা যায়, ৪ মে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে গ্রামীণফোন নতুন অডিট শুরুর আগে ‘সুগঠিত আলোচনা’ শুরুর আহ্বান জানিয়ে পুরো অডিট কার্যক্রম স্থগিত রাখার অনুরোধ জানায়। চিঠিতে তারা দাবি করে, আগের ইনফরমেশন সিস্টেম অডিটে পদ্ধতিগত ভুল ছিল। যদিও সেই অডিটের ভিত্তিতেই গ্রামীণফোনের কাছে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার দাবি তোলে বিটিআরসি ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
তবে বিটিআরসি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রামীণফোনের দাবি অযৌক্তিক। বিটিআরসি অডিট পরিচালনা করতে যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত। মূলত সামগ্রিক অডিট প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত ও বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে তারা এ ধরনের প্রশ্ন উত্থাপন করছে, যা গ্রামীণফোনের মতো একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত অপারেটর করতে পারে না। নতুন অডিটেও আগের মতো বড় ধরনের আর্থিক দাবি উঠতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই গ্রামীণফোন নতুন অডিট ঠেকাতে চায় বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এর আগে বিটিআরসির ইনফরমেশন সিস্টেম অডিটে গ্রামীণফোনের বড় ধরনের আর্থিক অসংগতি, রাজস্ব ফাঁকি এবং রেগুলেটরি আইন লঙ্ঘনের তথ্য উঠে এসেছিল। ১৯৯৭ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়কালের ওপর পরিচালিত অডিটে ভয়াবহ সব আর্থিক ও কারিগরি অনিয়ম ধরা পড়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়, অপারেটরটি বিভিন্ন খাতে সরকারকে কয়েক হাজার কোটি টাকা কম প্রদান করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অনেক শর্ত পালনে ব্যর্থ হয়েছে।
ওই নিরীক্ষায় অভিযোগ ওঠে আন্তর্জাতিক কলের আয় কম দেখানো, রাজস্ব ভাগ কম দেওয়া, তরঙ্গ ফি নির্ধারণে অসংগতি, কল তথ্যের হিসাবে গরমিল এবং বিটিআরসির অনলাইন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় পূর্ণাঙ্গ তথ্য না দেওয়ার মতো নানা অনিয়মের। এ ছাড়া চুরি হওয়া মোবাইল শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন না করা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি সহায়তা ব্যবস্থায় ঘাটতির অভিযোগও ছিল।
বিটিআরসির ইনফরমেশন সিস্টেম অডিটের ভিত্তিতে গ্রামীণফোনের কাছে প্রায় ১২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা দাবি করে বিটিআরসি ও এনবিআর। এর মধ্যে বিটিআরসির দাবি ছিল প্রায় ৮ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অংশ ছিল প্রায় ৪ হাজার ৮৫ কোটি টাকা, যা নিয়ে বিটিআরসি এবং গ্রামীণফোনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে এ বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়ায়, যা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। জানা যায়, সম্প্রতি আদালতের বাইরে সালিশির মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা করছে গ্রামীণফোন।
সিম নিবন্ধন ও সীমান্তবর্তী টাওয়ার নিয়ে অনিয়মের তথ্যও উঠে আসে ওই অডিটে। অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৮ সালে গ্রামীণফোন প্রায় পৌনে ৬ লাখ অনিবন্ধিত সিমের কথা ঘোষণা করেছিল, যা বিটিআরসির নির্দেশনার পরিপন্থি। সীমান্তবর্তী এলাকায় অনুমোদনহীনভাবে টাওয়ার স্থাপনের তথ্যও উঠে আসে অডিটে। এ ছাড়া অপারেটরের নিজস্ব সিস্টেম এবং বিটিআরসিতে জমা দেওয়া তথ্যের মধ্যে গ্রাহক সংখ্যার পার্থক্য ছিল বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।
এ ছাড়া অডিট প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ সিম কার্ড, ব্যান্ডউইথ এবং কলার পরিচয় গোপন সংক্রান্ত বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রতিবেদন অডিট টিমকে সরবরাহ করতে পারেনি। নজরদারি ব্যবস্থাতেও বড় ধরনের ঘাটতির কথা উঠে আসে প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বৈধ নজরদারি সহায়তা ব্যবস্থা এবং বিটিআরসির অনলাইন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে গ্রামীণফোনের পূর্ণাঙ্গ সংযোগ ছিল না।
গ্রামীণফোন শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, ওই অডিট ‘ত্রুটিপূর্ণ’ ছিল এবং অর্থ দাবির বড় অংশই সুদ ও ভুল হিসাবের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা। যদিও বিটিআরসির দাবি গ্রামীণফোনের কাছে এটা তাদের বকেয়া পাওনা। এদিকে, আগের অডিটের আর্থিক গরমিল নিষ্পত্তি না হলেও নতুন করে ১০ বছরের নিরীক্ষা শুরু করতে যাচ্ছে বিটিআরসি।
বিটিআরসির এখতিয়ার নিয়ে গ্রামীণফোনের প্রশ্ন: নতুন অডিট স্থগিতের আবেদনে বিটিআরসির এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে গ্রামীণফোন বলছে, অডিটের শর্তাবলিতে (টিওআর) এমন কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা বিটিআরসির আইনি ক্ষমতার বাইরে। অপারেটরটি বলছে, কর ফাঁকি, অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা স্থানান্তর, দেশি-বিদেশি ঋণ, শ্রম আইন, ভ্যাট-ট্যাক্স-শুল্ক, শেয়ার ট্রান্সফার এবং শেয়ার মূল্যায়ন যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে। গ্রামীণফোনের দাবি এ বিষয়গুলো বাংলাদেশ ব্যাংক, বিডা, এনবিআর এবং বিএসইসির মতো অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অধীনে পড়ে, বিটিআরসির এখতিয়ারে নয়। তাই এ বিষয়গুলোতে বিটিআরসির অডিট করা অপ্রয়োজনীয় এবং আইনগতভাবে জটিলতা তৈরি করতে পারে।
অডিটের কিছু শর্তকে অপ্রাসঙ্গিক হিসেবে আখ্যা দিয়ে গ্রামীণফোন দাবি করছে, ২০০৬ সালে বন্ধ হওয়া ‘হ্যান্ডসেট রয়্যালটি’ যাচাইয়ের বিষয়টি এ অডিটে রাখা হয়েছে, যা ২০১৫-২০২৪ সময়ের অডিটে অন্তর্ভুক্ত করা বিভ্রান্তিকর। এ ছাড়া ডাটা প্রাইভেসি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড না দিয়ে শুধু আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম অনুশীলন অনুসরণ করার কথা বলা হয়েছে, যা গ্রামীণফোনের মতে অস্পষ্ট। এ বিষয়গুলো অডিট প্রক্রিয়ার পরিবর্তে বিটিআরসি এবং অপারেটরদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা বেশি কার্যকর হতে পারে।
গ্রামীণফোন জানিয়েছে, ১৯৯৭ থেকে ২০১৪ সালের অডিটে কিছু পদ্ধতিগত ভুল ছিল, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। এ অডিটেও একই ভুলের পুনরাবৃত্তি হতে পারে। অডিটরদের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছ গ্রামীণফোন। চিঠিতে অপারেটরটি জানিয়েছে, নতুন অডিট টিমের এমন কিছু সদস্য রয়েছেন, যারা এর আগের অডিটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাদের দাবি, আগের অডিটে যুক্ত ছিলেন—এমন কাউকে বর্তমান অডিটে অন্তর্ভুক্ত করা হলে নিরপেক্ষতার অভাব দেখা দিতে পারে। তাই বিটিআরসিকে অডিট টিমের গঠন পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে অপারেটরটি।
এ ছাড়া টানা ১০ বছরের অডিট কার্যক্রম পরিচালনাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে গ্রামীণফোন। অপারেটরটি বলছে, লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী, বিটিআরসির বার্ষিক ভিত্তিতে অডিট করার কথা। কিন্তু এখানে টানা ১০ বছরের অডিট শুরু করা হয়েছে। এত দীর্ঘ সময়ের তথ্যের প্রাপ্যতা এবং যাচাইযোগ্যতায় ব্যবহারিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে; কারণ রেগুলেটরি নিয়ম অনুযায়ী অনেক তথ্য নির্দিষ্ট সময়ের পর সংরক্ষণ করা হয় না, যা অডিট প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে।
এসব কারণ দেখিয়ে অডিট স্থগিত করে বিটিআরসির কাছে একটি ‘সুগঠিত আলোচনার’ প্রস্তাব দিয়েছে গ্রামীণফোন। অপারেটরটির দাবি, অডিট শুরুর আগে অডিটের পরিধি পুনর্মূল্যায়ন করা, তথ্য যাচাইয়ের পদ্ধতি স্পষ্ট করা এবং অডিট টিমের সদস্যদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। উদ্ভূত সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য চিঠি দিয়ে তারা বিটিআরসির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
অডিট প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্থের চেস্টা: এদিকে, অডিট স্থগিতের আবেদনকে কেন্দ্র করে টেলিকম খাতের জবাবদিহি ও বিটিআরসির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। বিটিআরসি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টেলিযোগাযোগ আইনের অধীনে অপারেটরদের অডিট করার পূর্ণ এখতিয়ার বিটিআরসির রয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অডিট স্থগিতের আবেদন গ্রামীণফোন করতে পারে না, অডিট প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতেই তারা এমন হস্তক্ষেপ করছে বলেও মনে করছেন অনেকে।
বিটিআরসি সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, অন্য অপারেটররা অডিটে সহযোগিতা করলেও গ্রামীণফোনের এমন আপত্তি বড় ধরনের আর্থিক দুর্বলতা বা অনিয়ম আড়ালের প্রচেষ্টা হতে পারে। অতীতে বিভিন্ন আবেদন থাকলেও কোনো অপারেটর এভাবে প্রকাশ্যে রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি বলেও জানান তারা। বড় ধরনের আর্থিক বা পরিচালনাগত অনিয়ম আড়াল করার লক্ষ্যেই গ্রামীণফোন অডিট প্রক্রিয়ায় বাধা দিচ্ছে। এমনকি নিরীক্ষা প্রক্রিয়া প্রভাবিত করতে গ্রামীণফোন থেকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন অনেকে।
আগের অডিট ত্রুটিপূর্ণ—জিপির এমন দাবির বিষয়ে বিটিআরসি কর্মকর্তারা বলছেন, আগের অডিটে গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার দাবি ওঠে, যার মধ্যে বিটিআরসির পাওনা ছিল প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা এবং বাকি অংশ এনবিআরের। বিষয়টি এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকলেও আদালতের নির্দেশে গ্রামীণফোন একটি অংশ জমা দিয়েছে। তাদের দাবি, আদালত অযথা এমন নির্দেশ দেয়নি। অডিট ত্রুটিপূর্ণ হলে আদালত এমন আদেশ দিতেন না, বরং এতে পাওনার ভিত্তি প্রতিফলিত হয়েছে।
এ বিষয়ে গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ কালবেলাকে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘গ্রামীণফোন সবসময়ই বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) আইনগত ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করে আসছে। তবে আমরা মনে করি, ১৯৯৭ থেকে ২০১৪ সময়কালের পূর্ববর্তী অডিট-সংক্রান্ত যে বিষয়গুলো এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে, সেগুলোর একটি স্বচ্ছ, ন্যায়সংগত ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধান হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রেক্ষাপটে, নতুন অডিট কার্যক্রম শুরুর আগে আমরা কিছু প্রক্রিয়াগত ও আইনগত বিষয়ে স্পষ্টতা চেয়েছি, যাতে পুরো প্রক্রিয়াটি সুশাসন, নিরপেক্ষতা ও যথাযথ পদ্ধতির আলোকে পরিচালিত হয়। আমরা আশা করি, আমাদের উত্থাপিত বিষয়গুলো সুচারুরূপে বিবেচিত হবে। আমাদের বিশ্বাস, একটি স্থিতিশীল, স্বচ্ছ ও আস্থাভিত্তিক নিয়ন্ত্রক পরিবেশ টেলিযোগাযোগ খাতের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং গ্রাহকসেবার স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে।
জানতে চাইলে লিখিত বক্তব্যে বিটিআরসি চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী কালবেলাকে বলেন, অপারেটর কার্যপ্রণালি ও সিস্টেম অডিট সংক্রান্ত বিষয়ে গ্রামীণফোন লিমিটেড কর্তৃক দাখিলকৃত চিঠিতে উত্থাপিত বিষয়গুলো কমিশন পর্যালোচনা করেছে। এ প্রসঙ্গে দেখা যায় যে, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সময়কালের বর্তমান অডিট পর্বটি ১৯৯৭ থেকে ২০১৪ সময়কালের পূর্ববর্তী অডিট পর্ব থেকে স্বতন্ত্র ও পৃথক। অতএব, বর্তমান অডিটটি বিচারাধীন বলে দাবীকৃত কোনো বিষয়ের আওতাভুক্ত নয়। এ ছাড়া অডিটের পরিধি, কার্যপরিধি (টিওআর) এবং প্রাসঙ্গিক কার্যপ্রণালি এরই মধ্যে গ্রামীণফোনকে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১ এবং প্রাসঙ্গিক মোবাইল অপারেটর লাইসেন্সের শর্তাবলি অনুসারে, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) যে কোনো সময় লাইসেন্সধারীদের নিয়ন্ত্রক, আর্থিক এবং পরিপালন অডিট পরিচালনা করতে যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত।
তিনি বলেন, গ্রামীণফোন সামগ্রিক অডিট প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত ও বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের প্রশ্ন উত্থাপন করছে, যা গ্রামীণফোনের মতো একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত অপারেটরের কাছ থেকে প্রত্যাশিত বা কাম্য নয়। কমিশন প্রত্যাশা করে, গ্রামীণফোন নিরীক্ষা প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা করবে এবং নিরীক্ষার শর্তাবলি অনুযায়ী সময়মতো সব প্রয়োজনীয় তথ্য, নথি ও সিস্টেম অ্যাক্সেস জমা দেওয়া নিশ্চিত করবে।