Image description

হাসিখুশি, প্রাণবন্ত মেয়েটি এবার ‘ঘুমিয়ে’ রইলেন চিরদিনের জন্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাঁর উপস্থিতি ছিল উচ্ছ্বাস আর প্রাণের, সেই কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারকে শেষবিদায় জানাতে আজ সোমবার সকালে ভিড় জমেছিল মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার আবদুল্লাহপুর গ্রামে। তবে প্রিয় মানুষটিকে বিদায় জানানোর শেষ মুহূর্তটুকু একান্ত নিজেদের মধ্যেই রাখতে চেয়েছিল পরিবার। তাই দাফন সম্পন্ন হয়েছে পুরোপুরি পারিবারিক আবহে। সেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার ছিল না, মুঠোফোন বা ক্যামেরা নিয়েও কাউকে ভেতরে যেতে দেওয়া হয়নি। ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রয়াত এই তরুণ অভিনেত্রীকে নানির বাগানবাড়ির আঙিনাতেই চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে।

আজ সকাল সাতটার দিকে গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর বাসস্ট্যান্ডের পেছনে আবদুল্লাহপুর গ্রামে তাঁর শেষ জানাজা হয়। জানাজা শেষে একই গ্রামের নানির বাগানবাড়ির আঙিনায় তাঁকে দাফন করা হয়।

কারিনা কায়সার ছিলেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় কায়সার হামিদ ও লোপা কায়সার দম্পতির মেয়ে। তিনি গজারিয়া উপজেলার পুরান বাউশিয়া সরকারবাড়ির প্রয়াত আবুল খায়ের ও জোহরা খানমের নাতনি। বরেণ্য দাবাড়ু রানী হামিদ তাঁর দাদি।

বাবা কায়সার হামিদের সঙ্গে কারিনা কায়সার
বাবা কায়সার হামিদের সঙ্গে কারিনা কায়সারফেসবুক থেকে

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় গতকাল রোববার সব আনুষ্ঠানিকতা ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাতেই কারিনার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় গজারিয়ায়। তাঁর নানাবাড়ি পুরান বাউশিয়া গ্রামে হলেও নানি জোহরা খানমের আবদুল্লাহপুর গ্রামের বাগানবাড়িতেই রাখা হয় মরদেহ। সেখানেই সম্পন্ন করা হয় দাফনের সব প্রস্তুতি।

প্রিয় তারকা ও এলাকার ‘নাতনি’–কে শেষবিদায় জানাতে স্থানীয়ভাবে মাইকিং করা হয়েছিল। আজ ভোর থেকেই এলাকার মানুষ জড়ো হতে থাকেন। অনেকেই শেষবারের মতো একনজর দেখতে চেয়েছিলেন তাঁকে। তবে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জানাজা ও দাফনের পুরো আয়োজন সম্পন্ন হয় একেবারে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আবহে। সেখানে মুঠোফোন বা ক্যামেরা নিয়ে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এমনকি গণমাধ্যমকর্মীদেরও ঘটনাস্থল থেকে দূরে থাকার অনুরোধ জানানো হয়।

দাফনের পর গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন কারিনার ছোট ভাই সাদাত হামিদ। তিনি বলেন, ‘ঢাকায় তিনটি জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে গণমাধ্যমকর্মীরা ছিলেন। তবে দাফনের সময় পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো মিডিয়াকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। আমরা মূলত প্রচার ও অতিরিক্ত লোকসমাগম থেকে কিছুটা আড়ালে থাকার জন্যই গ্রামে এসেছি। আশা করি, আপনারা আমাদের মানসিক অবস্থা ও বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।’

লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় কয়েক দিন ধরে সংকটাপন্ন ছিলেন কারিনা। প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় তাঁকে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ মে তাঁর মৃত্যু হয়।

গতকাল বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে কারিনার মরদেহ। সন্ধ্যা ৫টা ২০ মিনিটে মরদেহ গ্রহণ করেন তাঁর বাবা কায়সার হামিদ। পরে মাগরিবের নামাজের পর রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস মাঠে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম জানাজা। এরপর বাদ এশা বনানী দরবার শরিফে হয় দ্বিতীয় জানাজা। রাত ১০টার দিকে তাঁর মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

আজ ফজরের পর মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার আবদুল্লাহপুর গ্রামে পৌঁছায় কারিনা কায়সারের মরদেহ। কয়েক ঘণ্টা পর সেখানেই চিরবিদায় নেন তিনি।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন কারিনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট তরুণ দর্শকদের কাছে তাঁকে জনপ্রিয় করে তোলে। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।