চলতি হজ মৌসুমে এখন পর্যন্ত ১৫৭টি হজ ফ্লাইটে মোট ৬০ হাজার ৯৯১ বাংলাদেশি হজযাত্রী পৌঁছেছেন সৌদি আরবে।
আজ রবিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন।
এ বছর পবিত্র হজ পালনে সৌদিতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৬ বাংলাদেশির (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ ও চারজন নারী। এর মধ্যে মক্কায় মারা গেছেন ১২ জন এবং মদিনায় চারজন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ ম্যানেজমেন্ট পোর্টালের মৃত্যুসংক্রান্ত তথ্যে এসব তথ্য জানা গেছে।
সর্বশেষ ১৬ মে ঢাকার তেজগাঁওয়ের এন এম মনিরুল হক (৪৪) মক্কায় মারা গেছেন। তার মৃত্যু স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানিয়েছে ধর্মমন্ত্রণালয়।
পোর্টাল সূত্রে জানা যায়, এ বছর হজে গিয়ে প্রথম মৃত্যু হয় গত ২১ এপ্রিল। ওই দিন জয়পুরহাট সদরের মো. নইম উদ্দীন মণ্ডল (৭৫) মারা যান। এরপর ২২ এপ্রিল টাঙ্গাইল সদরের মো. আবুল কাশেম (৭০), ২৫ এপ্রিল ময়মনসিংহের পাগলার মো. সেরাজুল হক (৬৬), ২৬ এপ্রিল দিনাজপুরের বিরামপুরের মো. খলিলুর রহমান (৬৪) মারা যান।
এ ছাড়া ২৭ এপ্রিল শেরপুরের শ্রীবরদীর মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন (৫৮) ও জামালপুরের মাদারগঞ্জের মো. আব্দুল হাই (৬১), ২৮ এপ্রিল মারা যান রংপুরের কোতোয়ালি মেট্রোর মো. শামসুল আলম (৬৩)।
পরে ৩ মে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেলের মাহফুজা বেগম (৫২) ও ফরিদপুর সদরের মো. নাসিরউদ্দিন বিশ্বাস (৫৮) এবং ৪ মে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরের মোছা. নিলুফা বেগম (৫৭) মারা যান।
১১ মে সাভারের নুসরাত শারমীন (৬২) মারা যান। তার মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া ৮ মে যশোর কোতোয়ালির মো. আব্দুল মতিন (৫৩) ও দিনাজপুর নবাবগঞ্জের মো. আজহারুল হকের মৃত্যু হয়। হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাদের।
১২ মে গাজীপুর সদরের নাসরীন জাহান (৩৭) মদিনায় মারা যান। তার মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল বলে জানানো হয়েছে। গত ১৫ মে দুর্ঘনায় নিহত হয় টাঙ্গাইল গোপালপুরের মো. এ মজিদ।
সৌদি আইন অনুযায়ী, হজে গিয়ে কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তার মরদেহ দাফন করা হয় সে দেশেই। মরদেহ নিজ দেশে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় না। পরিবার-পরিজনের আপত্তিও গ্রহণ করা হয় না।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে এবারের হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজযাত্রীদের সৌদি যাওয়ার ফ্লাইট শুরু হয়েছে গত ১৮ এপ্রিল। আগামী ২১ মে পর্যন্ত ফ্লাইট চলবে। হজ শেষে ৩০ মে শুরু হবে ফিরতি ফ্লাইট। দেশে ফেরার শেষ ফ্লাইট আগামী ৩০ জুন।