Image description

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বাড়ি ফেরার পথে বিএনপির এক সাবেক নেতাকে মারধর করে নগদ টাকা ও চেক বই ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রায়গঞ্জ পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়কের নেতৃত্বে এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে ভুক্তভোগী নেতার দাবি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আবু সাইদ হোসেন রায়গঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

 

লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ আবু সাইদ হোসেন গত রবিবার দুপুরে সোনালী ব্যাংক পিএলসি-এর ধানগড়া শাখা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলন করেন। টাকা নিয়ে রায়গঞ্জ পৌর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হক মার্কেট এলাকায় পৌঁছালে পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেন ও আলাউদ্দিনসহ কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তার পথরোধ করেন।

অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা আবু সাইদকে ঘিরে ধরে গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করেন। এসময় তার কাছে থাকা নগদ ১ লাখ ২০ হাজার ৫০০ টাকা এবং সোনালী ব্যাংকের একটি চেক বই ছিনিয়ে নেওয়া হয়। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

 

ভুক্তভোগী আবু সাইদ হোসেন বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। প্রকাশ্যে আমাকে মারধর করে টাকা ও চেক বই ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমি আমার টাকা ফেরত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায়ও কোনো সাড়া মেলেনি।

তবে জেলা বিএনপির সদস্য ও রায়গঞ্জের সাবেক এমপিপুত্র রাহিদ মান্নান লেলিন দাবি করেন, ‘সাদ্দামকে ফাঁসানো হয়েছে বলে শুনেছি।’ অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শামসুল আলম মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকায় কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, ‘বিষয়টি আমরাও জেনেছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় সংসদকে দ্রুত জানানো হবে।’

 

রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ‘লিখিত অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’