Image description

দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৪০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের হারও ইতোমধ্যে ৫৬ জেলায় ছড়িয়েছে। হঠাৎ দেশব্যাপী হামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনায় কারও দায় আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে সরকার। ইতোমধ্যে কোনো অবহেলার কারণে এতজন শিশুর প্রাণ ঝরল তা খতিয়ে দেখার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রণালয়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা মহামারিজনিত টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন, বিগত পাঁচ বছর ধরে ক্যাম্পেইন না হওয়া, গত বছর স্বাস্থ্য সহকারীদের নানা দাবিতে টিকা কার্যক্রম বন্ধ রেখে আন্দোলন, ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন না হওয়ার কারণেই দেশে হামের আউটব্রেক (প্রাদুর্ভাব) হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইপিআইতে ক্যাম্পেইনের জন্য আসা টিকা দিয়ে যদি তাৎক্ষণিক ক্যাম্পেইন করা যেত তাহলে হয়তো আউটব্রেক থেকে রক্ষা পাওয়া যেত।

দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, যাতে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ৪০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং সংক্রমণ ৫৬ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। হঠাৎ এই মৃত্যুর মিছিলের কারণ ও কারও অবহেলা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘ ৫ বছর ধরে জাতীয় টিকাদান ক্যাম্পেইন না হওয়াকে এই আউটব্রেকের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন

নাম প্রকাশ না করার শর্তে টিকা সংশ্লিষ্ট একাধিক ইপিআই কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে জানান, অন্যান্য টিকার বিভিন্ন সময়ে ঘাটতি থাকলেও হামের এমআর টিকার কখনও ঘাটতি হয়নি। প্রতি তিন মাস অন্তর চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন জেলায় টিকা সরবরাহ করা হতো। অনেক জেলায় আগে পাঠানো টিকা অবশিষ্ট থাকার কারণে তারা গত তিন মাসে তেমন চাহিদা দেয়নি। এমনকি বর্তমানে চলমান ক্যাম্পেইনের টিকাও গত সেপ্টেম্বরে ইপিআইয়ের কেন্দ্রীয় গুদামে এসে পৌঁছে। টিকা আসার পরপরই একাধিকবার ক্যাম্পেইনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেটা বিভিন্ন কারণে আলোর মুখ দেখেনি। এসব কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বলেন, পূর্বঘোষিত টাইফয়েডের টিকা ক্যাম্পেইন, স্বাস্থ্য সহকারীদের ডিসেম্বর মাসজুড়ে আন্দোলন এবং জাতীয় নির্বাচনের কারণে ক্যাম্পেইনের তারিখ বারবার পিছিয়ে যায়।

ইউনিসেফের মতে, হামের বিস্তার বাড়ার অন্যতম কারণ হলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক শিশুর টিকা গ্রহণ না করা। গত কয়েক বছর ধরে তৈরি হওয়া এই রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতিই সাম্প্রতিক হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া, অভিভাবকদের মধ্যে টিকা নিয়ে ভুল তথ্য বিরাজ করায় টিকাদানের হার কমেছে এবং হামের বিস্তার সহজ হয়েছে বলে দাবি ইউনিসেফের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ইপিআই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে হামের (এমআর) টিকার কোনো ঘাটতি ছিল না। এমনকি বর্তমান ক্যাম্পেইনের টিকাও গত বছরের সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল। কিন্তু টাইফয়েড ক্যাম্পেইন, জাতীয় নির্বাচন এবং পদোন্নতিসহ বিভিন্ন দাবিতে ডিসেম্বর মাসজুড়ে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য সহকারীদের কর্মবিরতি ও আন্দোলনের কারণে হামের বিশেষ ক্যাম্পেইনটি বারবার পিছিয়ে যায়, যা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে

নিয়মিত টিকা কার্যক্রমে ঘাটতি

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে দেশের ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় নিয়ে আসতে পারলে দেশে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হয়। ২০২৩ সালের কভারেজ মূল্যায়ন সমীক্ষা অনুসারে, এমআর১ (টিকার প্রথম ডোজ)-এর কভারেজ ২০১৯ সালের ৮৮.৬ শতাংশ থেকে সামান্য কমে ৮৬ শতাংশে দাঁড়ায়। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো এমআর২ (টিকার দ্বিতীয় ডোজ)-এর কভারেজের পতন, যা ২০১৯ সালের ৮৯ শতাংশ থেকে কমে ২০২৩ সালে ৮০.৭ শতাংশে নেমে এসেছে। ফলে, প্রায় এক কোটি শিশু (এমআর১-এর জন্য) এবং দুই কোটি শিশু (এমআর২-এর জন্য) হামের সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিগত কয়েক বছরে জমা হওয়া এই ক্রমবর্ধমান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি, হামের ঘটনা বাড়ার পেছনে সাম্প্রতিককালে ভূমিকা রেখেছে।

 

এদিকে, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) সূত্রে জানা যায়, বিগত বছরগুলোতে রুটিন হামের টিকা কভারেজ অনেক বেশি ছিল। ২০২৪ সালে রুটিন এমআর টিকার হার ছিল ৯৮ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০২৩ সালে ৯৭ দশমিক ৩ শতাংশ, ২০২২ সালে ৯৩ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ কভারেজ ছিল। চলতি বছরের মার্চ মাসে ইপিআইয়ের ওয়েবসাইটে ২০২৫ সালে টিকার কভারেজ ৫৯ শতাংশ দেখানো হয় (পরে এই তথ্য ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়)। ঢাকা পোস্টের হাতে আসা এক নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৫ সালে দেশব্যাপী টিকা কাভারেজের হার অন্যান্য বছরের মতোই চলতি বছরও প্রথম ১১ মাসে মাঠ পর্যায়ে এমআর১ টিকার কাভারেজ হয়েছে ৯৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ ও এমআর২-এর কাভারেজ হয়েছে ৯৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ। কিন্তু ডিসেম্বর মাসে এমআর১ কাভারেজ হয়েছে ২৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং এমআর-২ কাভারেজ হয়েছে ২৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে (রুটিন ইপিআই) গত কয়েক বছরে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে হামের প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের কভারেজ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত টিকা থেকে বাদ পড়া এবং গত এক বছর ধরে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকায় শিশুদের অপুষ্টি ও নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বেড়েছে, যার ফলে হামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার এত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে

ক্যাম্পেইন বন্ধ ৬ বছর

নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি থেকে যেসব শিশু বাদ পড়ে, তাদের জাতীয় ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে টিকার আওতায় আনা হয়। সর্বশেষ ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বরে। শেষ হয় ২০২১ সালের জানুয়ারিতে। পরবর্তী ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা ছিল ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে। তারপর তারিখ পরিবর্তন করে নেওয়া হয় সেপ্টেম্বরে; কিন্তু টাইফয়েডের টিকা ক্যাম্পেইনের কারণে তা আবার পেছানো হয়। তা পরিবর্তন করে নেওয়া হয় ডিসেম্বরে; এ সময় দেশব্যাপী স্বাস্থ্য সহকারীদের আন্দোলনের কারণে তখনও তা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এরপর চলে আসে নির্বাচন। সেই ক্যাম্পেইন চলতি বছরের ২০ এপ্রিল শুরু হয়েছে। ক্যাম্পেইন শুরুর আগেই সারা দেশে হাম ছড়িয়ে পড়েছে।

dhakapost

২০২৫ সালে স্বাস্থ্য সহকারীদের ৩ দফায় আন্দোলন

গত জানুয়ারি থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত দেশব্যাপী শিশুদের হামের টিকা কাভারেজ স্বাভাবিক থাকলেও ডিসেম্বরে নেমে আসে ধস। দেশের মাঠ পর্যায়ে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টিকাকেন্দ্রে কর্মরত ১৫ হাজার স্বাস্থ্য সহকারী পরিদর্শক ও সহপরিদর্শক দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি, নিয়োগবিধি সংশোধন এবং টেকনিক্যাল পদমর্যাদা প্রদানসহ বিভিন্ন দাবিতে গত বছরের ২৫ মে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের আন্দোলনের সূচনা হয়। পরবর্তীতে একই বছরের ৯ জুলাই দেশব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২৯ নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাসজুড়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামনে বৃহৎ কর্মসূচি পালন করেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।

ডিসেম্বরে টিকা কার্যক্রম বন্ধের বিষয় স্বীকার করে বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান সমন্বয়কারী মো. ওয়াসি উদ্দিন রানা বলেন, আমরা ৬ দাবি নিয়ে নভেম্বরের ২৭ তারিখ থেকে টানা তিন দিন শহীদ মিনারে আন্দোলন শুরু করি। পরে ৩০ তারিখ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভবনের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করি। এ সময় সারা দেশের টিকা কার্যক্রম বন্ধ রেখে পুরো ডিসেম্বর মাস ডিজি অফিসের সামনে আন্দোলন করি। পরে ২৯ ডিসেম্বর তৎকালীন ডিজি স্যারের অনুরোধে এবং দাবি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পেয়ে আমরা অবস্থান কর্মসূচি শেষ করি। এ সময় দেশব্যাপী আমাদের অস্থায়ী টিকা কেন্দ্রগুলোতে টিকা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। তবে, কিছু কিছু স্থায়ী টিকা কেন্দ্রে টিকা কার্যক্রম আংশিক চলমান ছিল।

তিনি আরও বলেন, আমরা গত জুলাই থেকে তিন মাস টিকা প্রদান কার্যক্রম পরিচালনা করলেও সে রিপোর্ট ইনপুট দেওয়া থেকে বিরত ছিলাম। কিন্তু টিকার ভায়ালের ব্যবহার অনুযায়ী সিভিল সার্জন অফিসের মাধ্যমে কাভারেজ রেট সমন্বয় করেছে। এটা হওয়ার পর আমরা কঠোর আন্দোলনে যাই। কিন্তু আমাদের দাবি এখনও অগ্রগতি হয়নি।

dhakapost

এ বিষয়ে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) তৎকালীন উপ-পরিচালক শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, গত বছর স্বাস্থ্য সহকারীরা তিন দফায় আন্দোলন করে। এ আন্দোলন চলাকালে অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে টিকা কার্যক্রম বন্ধ থাকে। সর্বশেষ ডিসেম্বর মাসে তাদের আন্দোলনের সময় টিকা কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়ে। এ সময় স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে কিছু টিকাদান কর্মসূচি চললেও অস্থায়ী সব কেন্দ্রে টিকার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে টিকার একটা গ্যাপ তৈরি হয়। ইপিআই থেকে কখনও টিকা সরবরাহ বন্ধ কিংবা এমআর টিকার ঘাটতি হয়নি। আমাদের কাছে যখনই সিভিল সার্জন অফিস থেকে টিকার চাহিদা এসেছে আমরা তখনই তা পৌঁছে দিয়েছি। স্বাস্থ্য সহকারীদের দাবি বাস্তবায়নের বিষয় মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাজ, ইপিআইয়ের এখানে কোনো ভূমিকা নেই।

 

এক বছর ধরে বন্ধ ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন

দেশে শিশুদের ভিটামিন এ ঘাটতি পূরণের জন্য প্রতি বছর দুবার ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও এ ক্যাম্পেইন হয়েছে সর্বশেষ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে। পরবর্তী ক্যাম্পেইন একই বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে হওয়ার কথা থাকলেও সেটা আর অনুষ্ঠিত হয়নি। রোগতত্ত্ববিদরা ঢাকা পোস্টকে বলেন, ভিটামিন এ ক্যাপসুল ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব রোধ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। বর্তমানে হামে আক্রান্ত ও মারা যাওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ শিশুদের অপুষ্টি ও নিউমোনিয়া। এসব শিশুদের যদি ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো থাকত তাহলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকায় তারা দ্রুত সুস্থ হয়ে যেত। হয়তো এত শিশু আমাদের হারাতে হতো না।

dhakapost

জনস্বাস্থ্য ও টিকা বিশেষজ্ঞ ড. তাজুল ইসলাম বারী বলেন, সর্বশেষ ২০২১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী টিকার ক্যাম্পেইন হওয়ার পর আর ক্যাম্পেইন হয়নি। ফলে একটা পুঞ্জীভূত গ্যাপ তৈরি হয়। পরে স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্দোলনে টিকা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আউটব্রেকটা অল্প সময়ের মধ্যেই সৃষ্টি হয়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ক্যাম্পেইনের জন্য ইপিআইয়ে আসা টিকা দিয়ে যদি তাৎক্ষণিক ক্যাম্পেইন করা যেত তাহলে হয়তো আমরা আউটব্রেক থেকে রক্ষা পেতাম।

 

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, বিগত কয়েক বছর থেকে আমাদের শিশুদের একটা বড় অংশ টিকা কাভারেজের বাইরে ছিল। সর্বশেষ ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল কিন্তু সেটা হয়নি। প্রতি বছর রুটিন টিকার বাইরে থাকা শিশুদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া এবং ন্যাশনাল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় আজকের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটকে (আইইডিসিআর) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হামে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে গবেষণা করতে, যাতে করে সেই অনুযায়ী আমরা আরও পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি। আমরা আশা করি অতি দ্রুত হাম মোকাবিলা করতে সক্ষম হব।