ইরানি কর্তৃপক্ষ আজ সোমবার গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তেহরানের একটি অভিজাত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীকে ফাঁসি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ধারাবাহিক মৃত্যুদণ্ডের সর্বশেষ ঘটনা এটি।
ইরানের বিচার বিভাগের মিজান অনলাইন ওয়েবসাইট জানিয়েছে, ২৯ বছর বয়সী এরফান শাকুরজাদেহকে সিআইএ ও মোসাদের সঙ্গে সহযোগিতার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ফাঁসি দেওয়া হয়।
নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস এবং হেঙ্গাও জানিয়েছে, শাকুরজাদেহ তেহরানের মর্যাদাপূর্ণ ইরান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির শিক্ষার্থী ছিলেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে লেখা এক বার্তায় অভিযোগগুলোকে সাজানো বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তিনি।
তাকে ‘মেধাবী শিক্ষার্থী’ হিসেবে বর্ণনা করে আইএইচআর জানিয়েছে, ‘তাকে একাকী কারাবন্দি রাখা হয়েছিল এবং নির্যাতন চালিয়ে বাধ্য করা হয়েছিল মিথ্যা স্বীকারোক্তি দিতে।’
ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ফাঁসি কার্যকরের এটি পঞ্চম ঘটনা।
আইএইচআরের তথ্যমতে, এরপর থেকে জানুয়ারির বিক্ষোভের ঘটনায় অভিযুক্ত ১৩ জন, ২০২২ সালের বিক্ষোভের ঘটনায় আরও একজন এবং নিষিদ্ধ বিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে ১০ জনকে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বহুবার অভিযোগ করেছে। আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উত্তেজনার সময়ে সমাজে ভীতি ছড়িয়ে দিতে মৃত্যুদণ্ডকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ইরা।
হেঙ্গাও জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রেপ্তার হওয়া শাকুরজাদেহকে চলতি মাসের শুরুতে হঠাৎ তেহরানের এভিন কারাগার থেকে স্থানান্তরের পর ভোরে তেহরানের বাইরে গেজেল হেসার কারাগারে ফাঁসি দেওয়া হয়।
তাবরিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করার পর ‘তিনি ইরান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সেরা স্থান পাওয়া মাস্টার্স শিক্ষার্থী ছিলেন’ বলে জানিয়েছে হেঙ্গাও।
গ্রেপ্তারের পর ‘জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য তাকে একাকী কারাবন্দি রেখে ৯ মাস ধরে ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছিল’ বলেও উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।
মিজান জানিয়েছে, তিনি স্যাটেলাইট প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতেন। বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে ‘তার কর্মস্থল, প্রবেশাধিকার স্তর, দায়িত্ব ও অন্য সংবেদনশীল তথ্য’ সরবরাহ করেছিলেন তিনি।
তাদের দাবি, সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচার করা হবে তার ‘স্বীকারোক্তি’।
তবে হেঙ্গাও ও আইএইচআরের প্রকাশিত এক বার্তায় শাকুরজাদেহ বলেছেন, অভিযোগগুলো ‘ভিত্তিহীন’ এবং তাকে ‘মিথ্যা স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়েছিল’ নির্যাতনের মাধ্যমে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যার দিক থেকে চীনের পরই ইরানের অবস্থান। আইএইচআরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ইরানে অন্তত ১ হাজার ৬৩৯ জনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে এবং ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত নথিভুক্ত হয়েছে অন্তত ১৯০টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা।