Image description
 
আল্লাহ আমাকে তিনটি বাচ্চা দিয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ। প্রতিটি বাচ্চা ধারণ থেকে প্রসব পর্যন্ত, ও প্রসবান্তে পোস্ট নাটাল ডিপ্রেশানের সম্ভাবনাময় সময় গুলোতে আমাকে আমার স্ত্রীর প্রতি সংবেদনশীল শুধু থাকতে হয়েছে তা-ই নয়, সেরা বন্ধুত্বের শ্রেষ্ট নমূনা যা আছে, তা সব দেখাতে হয়েছে।
 
ঐ সময় প্রতিটা নারী জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে থাকে, ভালোবাসার কাঙাল থাকে, মুখে খানা নেয়ার রুচি থাকেনা, সামান্য নড়াচড়াতে শ্বাস প্রশ্বাস ভারী হয়ে যায়, হেমোগ্লোবিন কমতে থাকে, আইরনের ঘাটতি হয়, ডি/ বি ভিটামিনের সরবরাহে টান পড়ে। মাথা ঘোরে, বমির উদ্রেক মুহুর্মুহ, আশঙ্কা প্রতিটি ক্ষেত্রে। বাচ্চা ভালো আছেতো, ভালো থাকবে তো? স্বামী ঠিক ঠাক খাচ্ছে তো, বাবা মা ভালো আছে তো, তাদেরকে আবার দেখবো তো?! তার মনে ভয়, আশংকা, মরণের হাতছানি, জীবনের লোভ, আদরের তৃষ্ণা, বাঁচার উদগ্র কাংক্ষা।
 
আমার বৌকে সবচেয়ে চেনার সময় পেয়েছি তার গর্ভধারণের দিন-সপ্তাহ-মাসগুলোতে। সে ও আমাকে চিনেছে, পেয়েছে, ধরেছে ও আস্থার পূর্ণতা পেয়েছে ঐ সময়ে। এইটার নাম আল্লাহ দিয়েছেন "রাহমাহ" বা দয়া। এই সময় "মাওয়াদ্দাহ" বা রোমান্স খুব বেশি কাজে লাগেনা। রমনী তো রোমান্সের স্বাদ এখন বুঝতেছে, পেটে আপনার ভ্রুণ নিয়েছে। সে এখন "রহমাহ" চায়। আল্লাহ ঐটাই বলেছেন, আমি তোমাদের মাঝে মাওয়াদ্দাহ ও রহমাহ ঢেলে দিয়েছি।
 
একজন স্বামী যখন কোন মরণব্যধির কবলে পড়ে, ঐ সময় তার স্ত্রীর কাছে ঐ টি ই আশা করেঃ রহমাহ এবং সীমাহীন দয়া, আদর, পেলব হাতের মসৃনতা, মায়ার চোখের আশাদাত্রী চাহনি, কোমল কণ্ঠে পাশে থাকার সুর। তখন স্ত্রী বলতে চায় না, ও স্বামী আমার এখন চরিত্র বাঁচাতে এই দরকার ঐ দরকার। সে জীবন মেলে দেয়, দয়া ঢেলে দেয়, চোখের পানি দেয়, হৃদয়ের ধড়কান শেয়ার করে, এবং দুয়ার কম্পিত হাত আকাশে উঠায়।
 
এটা স্বামী স্ত্রীর সুকুনের যায়গা, এটাই তাদের মানুষ হিসেবে পরিচয়ের সুযোগ। এখানে শুধু দেহের তড়িৎ প্রবাহের জানান দেয়া নয়, এখানে ষাঁড়ের গোঁগোঁ শব্দ নয়, এখানে কার্তিকে কুকুরের লেজে লেজে মোচড়ানো নয়।
আহ, স্ত্রীর পেটে স্বামীর ভ্রুণ আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে। পেটে বাবার হাতের স্পর্শ পেলেই নড়ে ওঠে, মায়ের হাসির সংকেত পায়, কান্নার লোনা জলের স্বাদ পায়। হে স্বামী, ঐ সময় আপনি আপনার সন্তানকে বুঝতে দেন কী ভালো একজন বাবা আপনি তার জন্য অপেক্ষা করছেন। আপনার লাম্পট্যের কাছে ভ্রুণটা আপনার পরাজিত স্ত্রীর কান্না যেন না শোনে, আপনার লকলকে চোখে কামনার বহ্নি যেন না দেখে। ঐ সন্তানই হবে আপনার প্রতিচ্ছবি, ফটোগ্রাফ, এবং জীবন্ত ক্লোন-ইন শা আল্লাহ।
 
বিশ্বাস করুন আর না-ই করুন, আমি আমার মায়ের প্রতি ভালোবাসা বাড়াতে পেরেছি আমার বাচ্চা হওয়ার দিনগুলোতে। বাবার প্রতি সম্মান দিতে শিখেছি আমার বাচ্চাকে বড় করতে যেয়ে কাঠিণ্যের সময়। বাচ্চা আসায় আমার মানবতা পূর্ণতা পায়, আমার চরিত্র আরশের আলো মেখে জান্নাতি হয়ে হয়ে ওঠে। আমি "রাব্বিরহামহুমা কামা রাব্বায়ানী সাগীরার" মজা অনুভব করি।