এক জিনিসের কত নাম থাকে! যদি শুধু ‘পুকুর’ নামের সমার্থক বা প্রতিশব্দ খোঁজেন, তাহলে পেয়ে যাবেন পুষ্করিণী, জলাশয়, জলাধার, দীঘি, সরোবর, তড়াগ ও পুস্কর নাম।
এসব নামের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি আছে। মানে এসব শব্দ অভিধানে পাওয়া যায়। তবে আমাদের এলাকায় পুকুরের চেয়ে ‘পুস্কুনি’ ডাকার চল বেশি, যেটা অভিধানে কেউ খুঁজে পাবেন না।
অভিধানে আছে এমন শব্দকে ভিন্ন নামে ডাকার এমন উদাহরণের অভাব নেই। আর এই কাতারে এখন যুক্ত হয়েছে ‘মব’ (উচ্ছৃঙ্খল জনতার সংঘবদ্ধ আক্রমণ)।
ঠিক এক বছরের মধ্যে ‘মব’-এর নতুন আরও দুটি নাম পেয়ে গেল জনগণ। অথবা বলা যায়, মবের সমার্থক শব্দ বাড়ল।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ২০২৫ সালের ২৬ জুন ‘মব’–কে ‘প্রেসার গ্রুপ’ বলে অভিহিত করেছিলেন। আর চলতি বছরের ৪ মে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ‘মব’-এর নতুন নাম দিলেন, ‘রিঅ্যাকশন অব দ্য পিপল’।
আমজনতা হিসেবে মনে প্রশ্ন জাগছে, ‘চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী’ বা ‘জনগণের প্রতিক্রিয়া’ নিয়ে আতঙ্কিত হব কি হব না?
কারণ, এরই মধ্যে ‘মব’ সহিংসতায় নিজের কর্মস্থল প্রথম আলো ভবন পুড়ে যেতে দেখলাম। ডেইলি স্টার পুড়ল। ছায়ানটে হামলা-ভাঙচুর হলো। কুষ্টিয়ায় পীরকে মেরে ফেলা হলো। বাউলদের আক্রমণ করা হলো। মাজার ভাঙা হলো। ভাস্কর্য ভাঙা হলো।
মনে প্রশ্ন জাগছে, এসব নিয়ে আর ক্ষোভ প্রকাশ করব কি করব না?
এই যে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের মতো দেশীয় মানবাধিকার সংগঠন আবেদন জানাচ্ছে মব থামাতে। মানবাধিকারকর্মীরা জোরালোভাবে বলছেন মব থামাতে। এখন কি আমরা তাঁদের অনুরোধ করব থেমে যেতে?
অপরাধবিজ্ঞানীরা যে বলছেন, ‘মব’-এর বিরুদ্ধে এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের সহিংসতা বাড়তে থাকবে। তা হলে এই কথায় তো ভীত না হলেও চলবে?
মাথায় এমন সব প্রশ্নের মধ্যেই ‘মব’-এর সংজ্ঞা আসলে কী, সেটা জানতে অনলাইনে অক্সফোর্ড লারনার্স ডিকশনারি ও কেমব্রিজ ডিকশনারি ঘুরে এলাম।
অক্সফোর্ড লারনার্স ডিকশনারি অনুসারে, ‘মব’ হচ্ছে বৃহৎ ও উচ্ছৃঙ্খল জনতার ভিড়। প্রায় ক্ষেত্রেই এ ধরনের জনতা সহিংস আচরণ করে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এই গোষ্ঠীর সৃষ্ট বিশৃঙ্খলতাকে ‘মব ভায়োলেন্স’ বা মব সহিংসতা বলে।
কেমব্রিজ ডিকশনারি অনুসারে, ‘মব ভায়োলেন্স’ হচ্ছে এমন একটি পরিস্থিতি, যখন এক বিশাল, ক্রুদ্ধ জনতা মানুষকে আঘাত করতে বা আক্রমণ করতে শক্তি ব্যবহার করে।
এই সংজ্ঞা বিবেচনায় নিলে মবকে ‘প্রেসার গ্রুপ’ বা ‘রিঅ্যাকশন অব দ্য পিপল’ ডাকাটা অপরাধী সন্তানকে ‘দুষ্টু’ নামে অভিহিত করার শামিল। এই ডাকে অপরাধ হয়ে যায় হালকা। ‘অপরাধী সন্তান’ সাজা ভোগের চাপ থেকে রেহাই পেয়ে যায়। আইনের কঠোর প্রয়োগসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ গুরুত্ব হারায়। ‘আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না’ বার্তা অর্থহীন হয়ে যায়।
‘মব ইজ আ রিঅ্যাকশন অব দ্য পিপল’

গত সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানকে প্রশ্ন করেন, ‘মাননীয় মন্ত্রী, এই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের যে সংজ্ঞা, সেখানে…ওয়াইডস্প্রেড, পূর্বপরিকল্পিত এ ধরনের যে কাজগুলো হয়, পরিকল্পিতভাবে যে হত্যাকাণ্ড হয়, সেগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধ। ৫ আগস্ট পর্যন্ত আপনারা দায়মুক্তি দিয়েছেন। ৫ আগস্টের পরে যে মবগুলো হয়েছে, সেগুলোও একধরনের সিস্টেমেটিক ওয়েতে (পদ্ধতিগতভাবে) হয়েছে এবং ওয়াইডস্প্রেড (ব্যাপক মাত্রায়) হয়েছে। এগুলোও কি ভবিষ্যতে তদন্ত করে ট্রাইব্যুনালে বিচার করা যাবে কি না?’
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মব ইজ নট সিস্টেমেটিক অর ওয়াইডস্প্রেড (মব পদ্ধতিগত বা ব্যাপক মাত্রার নয়)। মব ইজ আ রিঅ্যাকশন অব দ্য পিপল (মব জনগণের প্রতিক্রিয়া) এবং সেটা যদি অর্ডিনারি ক্রাইমের (সাধারণ অপরাধ) মধ্যে পড়ে, সেটা অর্ডিনারি আইন অনুসারে দেখা হবে। আপনি যদি সেই বিচার করতে যান, অনেক বিষয় চলে আসবে এর পেছনে। তাহলে যেকোনো স্বাধীনতাসংগ্রাম, যেকোনো গণ-অভ্যুত্থান, যেকোনো বিপ্লবকে আপনার অসম্মান করা হবে।’
‘মব’-এর সঙ্গে স্বাধীনতাসংগ্রাম, গণ-অভ্যুত্থানকে মেলানোর যৌক্তিকতা কোথায়, সেটা অবশ্য মন্ত্রীর কথায় বোঝা গেল না।

এর আগে গত বছরের ২৬ জুন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ‘মব’-কে ‘প্রেসার গ্রুপ’ বলেছিলেন। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা: সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও অভিযোগ নিষ্পত্তির আইনি কাঠামোর পর্যালোচনা’শীর্ষক সেমিনারে শফিকুল আলম বলেছিলেন, ‘আপনি যেটাকে মব বলছেন, সে তো তৈরি হচ্ছে, আমি এটাকে মব বলছি না, বলছি প্রেসার গ্রুপ। সে তৈরি হচ্ছে আগের জার্নালিজমের (সাংবাদিকতার) ফেইলিয়রের (ব্যর্থতার) কারণে। সে কেন তৈরি হওয়ার গ্রাউন্ড (ভিত্তি) তৈরি হচ্ছে? কারণ, সে তো অ্যাফেক্টেড (ক্ষতিগ্রস্ত) হয়েছে। ১৫ বছরে তো তার (প্রেসার গ্রুপ) মিনিমাম সিভিল লিবার্টি (ন্যূনতম নাগরিক স্বাধীনতা) রাখা হয়নি।’
শফিকুল আলম আরও বলেছিলেন, ‘সে (প্রেসার গ্রুপ) তো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এখন তার যে উদ্বেগ—২৮ জুলাই ২০২৪-এ বাংলাদেশের শীর্ষ সাংবাদিকেরা যে শেখ হাসিনাকে বলেছেন, “এদের খুন করেন”, “পুলিশ কেন গুলি করছে না”, এখন এই জিনিসের তো আবার পুনরাবৃত্তি হতে পারে। এই ভয় থেকে এই প্রেসার গ্রুপ তৈরি হচ্ছে।’
একের পর এক ‘মব’

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ‘মব’ সহিংসতার একের পর এক ঘটনা আলোচনায় আসে। মব সহিংসতার মাধ্যমে পিটিয়ে হত্যা করা, মাজার ভাঙা, বাউলগানসহ লোকজ অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়ে পণ্ড করে দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে তোফাজ্জল হোসেন নামের মানসিকভাবে অসুস্থ এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পিটিয়ে হত্যার আগে তাঁকে হলের ক্যানটিনে ভাত খাওয়ানো হয়েছিল। সেই ভিডিও ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছিল মব সহিংসতার বিরুদ্ধে। এর ১০ দিন আগে ৭ সেপ্টেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আবদুল্লাহ আল মাসুদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
২০২৫ সালের ৯ আগস্ট রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় ভ্যানচোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয় রূপলাল দাস (৪০) ও প্রদীপ লাল দাসকে (৩৫)।
ময়মনসিংহের ভালুকায় গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার কর্মী দীপু চন্দ্র দাসকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে কারখানা থেকে এক কিলোমিটার দূরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভাজকের একটি গাছে ঝুলিয়ে তাঁর মরদেহ আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই বছর গণপিটুনি বা ‘মব সন্ত্রাসের’ শিকার হয়ে প্রাণ গেছে ১৯৭ জনের। ২০২৪ সালে সংখ্যাটি ছিল ১২৮।
আসক ১০টি সংবাদপত্র ও নিজস্ব তথ্য–সংকলিত করে জানায়, এ বছর জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত, তিন মাসে ৪৩টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ঢাকায় ১৪টি, চট্টগ্রামে ৮টি, রাজশাহীতে ৫টি, খুলনায় ৫টি, ময়মনসিংহে ৫টি, রংপুরে ৩টি ও বরিশালে ৩টি ঘটনা ঘটে।
প্রথম আলোর অনুসন্ধান অনুসারে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় দেড় হাজার ভাস্কর্য, রিলিফ ভাস্কর্য, ম্যুরাল ও স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করা হয়। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। এগুলোর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর পরিবারের সদস্য, জাতীয় চার নেতাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ভাস্কর্য-ম্যুরাল, মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনাসহ নানা ভাস্কর্য-ম্যুরাল রয়েছে।
সুফি সমাজকেন্দ্রিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৭ মাসে ৯৭টি মাজারে হামলা করা হয়েছে।
প্রথম আলোর গত ১৪ এপ্রিলের একটি প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় গ্রামবাংলার লোকজ উৎসব ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে হামলা-ভাঙচুরের মতো ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। এতে ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হচ্ছে অনেক উৎসব। কমছে সাংস্কৃতিক আয়োজন। পুলিশের একটি শাখার তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মাসে এ ধরনের ১৩৫টি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর মাসেই ৯৪টি ঘটনা ঘটেছে। আর এ বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ঘটেছে ১৬টি ঘটনা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কয়েকটি গণমাধ্যমও আক্রান্ত হয়। সবশেষ গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর মধ্যরাতে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো ভবনে হামলা চালায় উগ্রপন্থী একটি গোষ্ঠী। তারা ভবনের ফটকের শাটার ভেঙে ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। একই রাতে তারা হামলা চালায় দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয় ও ছায়ানট ভবনে। পরদিন হামলা চালানো হয় উদীচী কার্যালয়ে।

এ বছর বিএনপি সরকার গঠনের পর ১৮ ফেব্রুয়ারি নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, ‘মব কালচার শেষ।’ এর দুই মাসের মধ্যেই রাজধানীর শাহবাগে কয়েকজন নারী-পুরুষকে ‘সমকামী’, ‘ট্রান্সজেন্ডার’ অভিহিত করে হামলা চালানো হয়।
গত মাসেই কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় স্থানীয়ভাবে পীর হিসেবে পরিচিত শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীরকে তাঁর দরবারে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পুরোনো একটি ভিডিও সামনে এনে তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে এই হামলা চালানো হয়েছিল।
শাহবাগ ও কুষ্টিয়ায় সহিংস ঘটনার পর কথা হয়েছিল অর্থনীতিবিদ, শিক্ষক ও ত্রৈমাসিক জার্নাল সর্বজনকথার সম্পাদক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সোহাগের সঙ্গে। তাঁরা একবাক্যে বলেছিলেন, আগের ঘটনার বিচার না হওয়ায় মব সহিংসতার ঘটনা আবার ঘটেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এই প্রবণতা বেড়ে যাওয়া নিয়ে আনু মুহাম্মদ বলেছিলেন, অনেক ঘটনায় তারা নিষ্ক্রিয় ছিল, নমনীয় ছিল। অনেক ঘটনায় তাদের পৃষ্ঠপোষকতা ছিল। কোনো ক্ষেত্রে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা ছিল। ফলে মব সহিংসতা আরও ডালপালা ছড়িয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেছিলেন, ‘এ ধরনের অপরাধের ঘটনায় যে রকম শাস্তি হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। একই অপরাধের বিচার না হওয়ায় তা বারবার ঘটছে, অভ্যাসগত অপরাধে পরিণত হচ্ছে। এখনই ঘটনাগুলোকে আইনের আওতায় নিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত না করলে মব সহিসংতা আরও বাড়বে।’
শব্দের মোড়কে অপরাধের লঘূকরণ বন্ধ হোক
আইনগতভাবে বিচার না পাওয়ার ক্ষোভ সমাজে থাকে। তবে এসব ক্ষোভ যখন আইনকে পাশ কাটিয়ে সংঘবদ্ধ আক্রমণের মাধ্যমে বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, শব্দ দিয়ে যখন অপরাধের লঘূকরণ করা হয়, তখন সেই নিয়ন্ত্রণহীন সহিংসতায় যে কারও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। ব্যক্তিগত বিরোধ, রাজনৈতিক বিরোধ, মতাদর্শগত বিরোধে ‘মব’ নাম দিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা করা হয়। ক্ষমতায় বসে শব্দের মোড়কে অপরাধকে লঘু করে দেখে স্বস্তি পাওয়ার আগে চিন্তা করা উচিত, এসব শব্দ মানুষকে কতটা নিরাপত্তাহীন করে তুলতে পারে।
এই বিষয়টি নিয়ে লিখতে গিয়ে গত বছরের একটি ঘটনা মনে পড়ল। গত বছরের ১৫ মার্চ ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি) ও সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের এক অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তৎকালীন কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী গণমাধ্যমে ‘ধর্ষণ’ শব্দটি ব্যবহার না করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। এর বদলে তিনি ‘নারী নির্যাতন’ বা ‘নারী নিপীড়ন’ শব্দ ব্যবহারের অনুরোধ করেছিলেন। যুক্তি হিসেবে বলেছিলেন, এ শব্দ শুনতে খারাপ লাগে। তা ছাড়া যেসব ঘটনা জনমনে আতঙ্ক বা ভয় সৃষ্টি করে, তা কম দেখানোর অনুরোধও করেছিলেন তিনি।
‘নারী নির্যাতন’ শব্দ দিয়ে ধর্ষণের ভয়াবহতা বোঝানো যায় না। একইভাবে মব সহিংসতাকে ‘প্রেসার গ্রুপ’ বা ‘রিঅ্যাকশন অব দ্য পিপল’ বলে অপরাধের মাত্রা বোঝানো যায় না। ফলে মবকে ‘মব’ হিসেবেই চিহ্নিত করতে হবে। এ ধরনের অপরাধের ঘটনাগুলো স্বীকার করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য জোরালো পদক্ষেপ দরকার।




