ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেছেন, বিগত ‘ফ্যাসিস্ট আমলে’ দীর্ঘ ১৮ বছরের চাকরি জীবনে তিনি পদবঞ্চনা, বৈষম্য, অপমান ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শ থেকে ‘একচুলও বিচ্যুত হননি’।
সোমবার পুলিশ সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আবেগঘন বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যে রেজাউল করিম মল্লিক তাঁর শৈশব স্মৃতির কথা তুলে ধরে বলেন, সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় মাদারীপুরের শিবচরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে ধানের শীষের মালা পরিয়ে বরণ করার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। সেই মুহূর্তকে তিনি জীবনের অন্যতম সৌভাগ্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সালের মধ্যে আরও কয়েকবার জিয়াউর রহমানের সান্নিধ্যে যাওয়ার সুযোগ হয় তাঁর। সর্বশেষ ১৯৮১ সালের ২৫ জানুয়ারি আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জুনিয়র ক্যাডেট কোর ক্যাম্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে শহীদ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল। অনুষ্ঠান শেষে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে করমর্দন করে গাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দেওয়ার স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি।
ডিআইজি রেজাউল করিম বলেন, “সেদিনের অনুভূতি ছিল এমন, যেন আমি বিশ্ব জয় করেছি। কিন্তু কয়েক মাস পরই ৩০ মে সেই বিষাদময় সংবাদ শুনতে হয়। নিজেকে আর স্থির রাখতে পারিনি, কান্নায় ভেঙে পড়েছিলাম।”
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, জীবনের কঠিন সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার একটি আশ্বাস কিংবা স্নেহমাখা বাক্য তাঁকে নতুন করে বেঁচে থাকার শক্তি দিয়েছে। তাঁকে তিনি ‘আশ্রয় ও সাহসের প্রতীক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি বলেন, তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ নতুন আশার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে তিনি জাতীয়তাবাদী শক্তিকে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ করেছেন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছেন।
বক্তব্যের শেষদিকে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আজ আপনার সামনে এসে মনের গভীরে জমে থাকা স্মৃতিগুলো ব্যক্ত করেছি। আমার ভুল–ত্রুটি মার্জনা করার জন্য বিনীতভাবে আবেদন করছি।”
ঢাকাটাইমস