Image description

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় এবার ২৭টি অস্থায়ী পশুর হাট বসবে। এসব হাটের ইজারা নিতে ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। নগর ভবনে দুদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটেছে। এই দুই দলের পাশাপাশি ইজারা নিতে সক্রিয় রয়েছেন এনসিপির নেতারাও। অন্যদিকে, হাট নিয়ন্ত্রণে প্রভাবশালী রাজনৈতিক চক্রের পাশাপাশি তৎপর হয়ে উঠেছে আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীরাও। এ-সংক্রান্ত বিরোধে এরই মধ্যে একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী খুন হয়েছেন বলে দাবি করেছে তার পরিবার। তবে হাটগুলোর ইজারা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছ নিশ্চিত করতে এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ১৬টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ১১টি অস্থায়ী পশুর হাট বসবে। ঈদের দিনসহ পাঁচ দিন কোরবানির পশু বেচাকেনার জন্য এসব অস্থায়ী হাট বসানো হবে। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ের দরপত্র উন্মুক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর রাজধানীর পশুর হাট নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রতিযোগিতা। বিগত প্রায় দুই দশক সিন্ডিকেটের কারণে প্রতিযোগিতা ছাড়া তুলনামূলক কম মূল্যে হাটগুলো ইজারা হতো। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হতো দুই সিটি করপোরেশন। এবার প্রতিযোগিতা থাকায় সিটি করপোরেশন কিছুটা লাভবান হচ্ছে। যদিও এবার অনেক হাটের নাম পরিবর্তন করে সরকারি মূল্য তুলনামূলক কম ধরা হয়েছে। তবে হাটের নাম পরিবর্তন করে খাতা-কলমে জায়গা কমিয়ে সরকারি মূল্য কমালেও এ বছর বিএনপি নেতাদের সঙ্গে জামায়াত নেতারা ইজারায় অংশ নেওয়ায় ডিএসসিসির ১১টি হাটের দরে প্রতিযোগিতা বেড়েছে।

যাত্রাবাড়ী এলাকার কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল মৃধাবাড়ি পর্যন্ত হাটের সরকারি ইজারা মূল্য ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। আগের বছর এ হাটের মূল্য ছিল ৪ কোটি ৭২ লাখ টাকা। খাতা-কলমে এ হাটের সীমানা দনিয়া কলেজের পূর্ব পাশ থেকে শুরু করে সনটেক মহিলা মাদ্রাসার পূর্ব-পশ্চিমের খালি জায়গা পর্যন্ত ছিল; কিন্তু এবার এটি মাতুয়াইল মৃধাবাড়ি পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশের খালি জায়গা নিয়ে নির্ধারণ করে গত ৩০ এপ্রিল হাটের ইজারার দর উন্মুক্ত করা হয়। তবে সরকারি মূল্য কমলেও হাটটির জন্য প্রতিযোগিতা হয়েছে সর্বোচ্চ। চারটি দরপত্রের মধ্যে তিনটিতে ৪ কোটি টাকার বেশি দর এসেছে, আরেকটির দর না এলেও সর্বোচ্চ পে-অর্ডার জমা দিয়েছেন।

জানা গেছে, গত বছর দনিয়া কলেজের পূর্ব পাশে ও সনটেক মহিলা মাদ্রাসার পূর্ব-পশ্চিমের খালি জায়গা নামে হাটটি স্থানীয় বিএনপির নেতা তারিকুল ইসলাম তারেক ইজারা নেন। তবে এ কার্যক্রমের পেছনে ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক নেতা নবীউল্লাহ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটির সাবেক কাউন্সিলর জুম্মন। এ বছরও তারেক দরপত্রের জন্য ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার জমা দিলেও কোনো দর উল্লেখ করেননি। অন্যদিকে এবার স্থানীয় জামায়াত নেতা শামীম খানের প্রতিষ্ঠান কেবি ট্রেড সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা দর দিয়েছে। সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি বিভাগ দর উন্মুক্ত করার সময় এ হাটটি চূড়ান্ত না করে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঘোষণা দেয়

এর আগে গত ২৭ এপ্রিল দুপুরে ডিএসসিসির সম্পত্তি বিভাগে যাত্রাবাড়ীর কাজলা, পোস্তগোলা শ্মশানঘাট এবং শ্যামপুর কদমতলী ট্রাক স্ট্যান্ড-সংলগ্ন জায়গা নামে হাটের দরপত্র সংগ্রহ করতে আসেন শ্যামপুর থানা জামায়াতের আমির মোহাম্মদ মহিউদ্দিনসহ দলের নেতাকর্মীরা। এ সময় শ্যামপুর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিমেল, যাত্রাবাড়ী থানা বিএনপির নেতা শ্যামলের সঙ্গে তাদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে ডিএসসিসির সব আঞ্চলিক কার্যালয় এবং ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দরপত্র বিক্রি নিশ্চিত করে সংস্থাটি। এ সময় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়েন করা হয়।

ডিএসসিসির হাটের ইজারায় অংশগ্রহণ নিয়ে জামায়াত নেতা শামীম খানকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা ভালো বলতে পারবেন। কেন্দ্রের নির্দেশনায় এ বছর হাটের ইজারায় অংশ নিয়েছি।’

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের একাধিক নেতা জানান, এ বছর ঢাকার দুটি নির্বাচনি এলাকার পশুর হাটসহ বিভিন্ন পশুর হাটে নেতাকর্মীরা ইজারায় অংশ নেন। আওয়ামী লীগের সময় তারা কোনো ধরনের সরকারি দরপত্রের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেননি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরের বছর তারা অংশ না নিলেও এ বছর ডিএসসিসির হাটে অংশ নিয়েছেন।

ডিএসসিসি সূত্র জানায়, পোস্তগোলা শ্মশানঘাটের নদীর পাড়ের খালি জায়গার পশুর হাটটির এ বছর সরকারি মূল্য ছিল ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা। কাজী মাহবুব মওলা হিমেল হাটটি ৪ কোটি ১ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছেন। স্থানীয় জামায়াত নেতাদের সমর্থনে মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন হাটটিতে ৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা দর দেন।

হাজারীবাগ অস্থায়ী পশুর হাটের সরকারি মূল্য ছিল ৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। স্থানান্তরের কারণ দেখিয়ে হাটটির ৭৪ লাখ টাকা কমিয়ে সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা। গণঅভ্যুত্থানের আগের বছর হাটটি হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবুল হাসনাত ৬ কোটি ৬ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছিলেন। গত বছর মেসার্স সাব্বির এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী নাফিজ কবির ৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকায় হাটটির ইজারা নেন। এ বছরও তিনি সরকারি মূল্যের চেয়ে মাত্র ১০ হাজার টাকা বেশি দিয়ে ইজারা নিয়েছেন।

গত বছর উত্তর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ হাটের সরকারি মূল্য ছিল ১ কোটি ৮২ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৪ টাকা। চলতি বছর সরকারি মূল্য কমিয়ে ১ কোটি ৭৪ লাখ ৭২ হাজার ৩৩৪ টাকা করা হয়। গত বছর সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা সিকদার কনস্ট্রাকশনের আনিসুর রহমান টিপু ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা দিয়ে ইজারা নিলেও একই হাট এবার তিনি ৩ কোটি ১২ লাখ ৩৬ হাজার টাকায় সর্বোচ্চ মূল্য দিয়ে ইজারা নেন।

আমুলিয়া মডেল টাউনের খালি জায়গার সরকারি মূল্য ছিল ৫৬ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৭ টাকা। এ বছর তা কমিয়ে ৫৩ লাখ টাকা করা হয়। গত বছর হাটটি ডেমরা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদিন রতন ৫৫ লাখ টাকায় নেন। এ বছর হাটটি তিনি ২ কোটি ১৫ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছেন। এই হাটের দরপত্রেও জামায়াতের নেতারা প্রতিযোগিতা করেছেন।

বনশ্রী হাউজিংয়ের খালি জায়গায় ৭০ লাখ টাকার সরকারি মূল্যে ইজারা বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। তিনজন দরদাতার মধ্যে মোহাম্মদ গোলাম হোসেন ২০ হাজার টাকা বেশি দিয়ে হাটের ইজারা নিয়েছেন। বাকি দুজনের দরের ব্যবধান ছিল ৫ ও ১০ হাজার টাকা।

গত বছর কমলাপুরে সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারের পূর্ব পাশের খালি জায়গার সরকারি মূল্য ছিল ৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। প্রতি বছর এই হাট ব্রাদার্স ক্লাব থেকে সাদেক হোসেন কমিউনিটি সেন্টার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। এবার হাটটির ইজারা বিজ্ঞপ্তিতে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের দক্ষিণ পাশের খালি জায়গার নাম উল্লেখ করা হয়। শুধু আয়তন কম দেখিয়ে এবার মাত্র ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয়, যা আড়াই গুণ কম। তবে হাটটিতে শেষ পর্যন্ত পাঁচটি দরপত্র জমা পড়েছে। এ বছর মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন নামে স্থানীয় এক নেতা ৩ কোটি ১ লাখ টাকা সর্বোচ্চ মূল্যে হাটের ইজারা পেয়েছেন। আরও দুজনের দর ২ কোটি টাকার বেশি ছিল।

গোলাপবাগ মাঠসংলগ্ন খালি জায়গায় এ বছর নতুন করে দেওয়া হাটের সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। হাটটিতে ছয়টি দরপত্রের মধ্যে ২ কোটি ৫ লাখ টাকায় আহসানউল্লাহ নামে স্থানীয় বিএনপি নেতা হাটটির ইজারা নিয়েছেন। এই হাটে জামায়াত ও এনসিপির নেতারা পৃথক ইজারা দর দিয়েছিলেন।

সাদেক হোসেন খোকা মাঠের দক্ষিণ পাশের খালি জায়গা ও ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনালের আশপাশের খালি জায়গা-সংলগ্ন হাটটির গত বছরের সরকারি মূল্য ছিল ৪ কোটি ৬৪ লাখ ১৫ হাজার ২৮০ টাকা। এ বছর ইজারা বিজ্ঞপ্তিতে শুধু মাঠের দক্ষিণ পাশের খালি জায়গা উল্লেখ করে সরকারি মূল্য করা হয়েছে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। গত বছর হাটটির প্রথম পর্যায়ে ২ কোটি টাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা তুষার আহমেদ ইমরান ইজারা দর দেন। পরবর্তীতে দ্বিতীয় পর্যায়ে এনসিপির এক নেতা সরকারি মূল্যের চেয়েও বেশি মূল্য দিলেও শেষ পর্যন্ত সিন্ডিকেটের কারণে হাটের ইজারা নিতে পারেননি। এ বছরও স্থানীয় বিএনপি নেতা তুষার আহমেদ ইমরান একমাত্র দরদাতা হিসাবে মাত্র ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা দর দিয়েছেন। এই হাটটির সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য, সূত্রাপুর, কোতোয়ালি এবং ওয়ারী থানা বিএনপির নেতারা জড়িত আছেন বলে জানা গেছে। তুষার আহমেদ বলেন, ‘হাটের সঙ্গে সবাই জড়িত আছেন। একা তো হাটের ইজারা নেওয়া যায় না।’

এদিকে, বেশিরভাগ হাটে এবার তীব্র প্রতিযোগিতা হলেও ডিএসসিসির দুটি হাটে কোনো দরপত্র জমা পড়েনি। অভিযোগ উঠেছে, সিন্ডিকেট গড়ে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক কমে হাটগুলো ইজারা নেওয়ার চেষ্টা চলানো হচ্ছে। শ্যামপুর কদমতলী ট্রাকস্ট্যান্ড-সংলগ্ন খালি জায়গার গত বছর সরকারি মূল্য ছিল ৬৩ লাখ ১৭ হাজার টাকা। এ বছর হাটটির সরকারি মূল্য দাঁড়ায় ৬৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। তবে এখন পর্যন্ত হাটটির কোনো দরপত্র জমা হয়নি। অন্যদিকে, লালবাগের রহমতগঞ্জ ক্লাবের খালি জায়গার পশুর হাটের গত বছর সরকারি মূল্য ছিল ৬৭ লাখ ৩১ হাজার ৬৬৭। সে সময় চকবাজার বিএনপি নেতা টিপু সুলতান ৭৪ লাখ টাকায় হাটটি ইজারা নিয়েছেন। এ বছর হাটটির সরকারি মূল্য কমে ৬২ লাখ ৬৭ হাজার টাকায় দাঁড়ায়। তবে এখন পর্যন্ত হাটটির কোনো দরপত্র জমা হয়নি।

জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসসিসির সম্পত্তি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সংস্থাটির দায়িত্বে থাকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ছিল হাটের দর কমানোর। তাই হাটের জায়গার নাম বদলে আয়তন কমিয়ে সরকারি মূল্য কমানো হয়েছিল। দরপত্র বিক্রি ও জমাদানেও বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ হাটে দরদাতারা একাধিক রাজনৈতিক দলের হওয়ায় দরপত্রে প্রতিযোগিতা হয়েছে। ডিএসসিসির পশুর হাটে দুই দশক পর এ রকম প্রতিযোগিতা দেখা গেছে।’

এদিকে ডিএনসিসির ১৬টি হাটের মধ্যে ‘উত্তরা দিয়াবাড়ী ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টরসংলগ্ন বউবাজার এলাকার খালি জায়গা’ হাটে সর্বোচ্চ দর দিয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এস এফ করপোরেশনের মালিক শেখ ফরিদ হোসেন। তিনি হাটটির জন্য সর্বোচ্চ ১৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা দর দিয়েছেন।

মস্তুল চেকপোস্ট-সংলগ্ন পশ্চিমপাড়ার খালি জায়গা এবং ‘ভাটুলিয়া সাহেব আলী মাদ্রাসা থেকে ১০ নম্বর সেক্টর রানাভোলা অ্যাভিনিউ-সংলগ্ন উত্তরা রানাভোলা স্লুইসগেট পর্যন্ত খালি জায়গা’ এ দুই হাটের জন্য একটি করে দরপত্র পেয়েছে ডিএনসিসি। এর মধ্যে ৯৩ লাখ ২২ হাজার টাকা মূল্যের মস্তুল হাটের জন্য বিল্লাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি দর দিয়েছেন ৩ কোটি ৬০ হাজার টাকা। তবে রানাভোলা হাটের জন্য সরকার নির্ধারিত দর ৮৮ লাখ ২০ হাজার ৭৫০ টাকা। একমাত্র দরদাতা মেসার্স লামিয়া এন্টারপ্রাইজের নুর আলম দর দিয়েছেন ৮৮ লাখ টাকা।

খিলক্ষেত বাজারসংলগ্ন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের খালি জায়গা, মেরুল বাড্ডা কাঁচাবাজার-সংলগ্ন খালি জায়গা, মোহাম্মদপুরের বছিলায় ৪০ ফুট রাস্তাসংলগ্ন খালি জায়গা এবং ভাটারা সুতিভোলা খাল অস্থায়ী হাটের জন্য কোনো দরপত্র জমা পড়েনি।

ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত ওসমান বলেন, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি দরদাতাদের দেওয়া পে-অর্ডারসহ যাবতীয় নথিপত্র যাচাই-বাছাই করবে। কোনো হাটের দরপত্র নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের কোনো অভিযোগ থাকলে লিখিত দিতে হবে। ডিএনসিসির চারটি হাটের জন্য কোনো জমা পড়েনি জানিয়ে তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী যেসব হাটের জন্য কোনো দর পাওয়া যায়নি, সেগুলোর জন্য পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হবে।

এদিকে পশুর হাট নিয়ন্ত্রণে তৎপরতা চালাচ্ছে আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীরাও। নিউমার্কেট এলাকায় খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যাকাণ্ডের পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। নিহতের বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপনের দাবি—মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি ও নিউমার্কেট এলাকায় প্রভাব বিস্তার এবং পশুর হাটের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যেই টিটনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলাল।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা কিন্তু লুকোচুরি করে কাউকে পশুর হাট দিচ্ছি না। টেন্ডার করে তা ওপেন হয়; তাদের সামনেই খোলা হয়। নিজের চোখে তারা দেখে যখন আমাদের কাছে আপিল করে, আমরা ফাইল প্রসেস করে দিই, তারা টাকা জমা দেয়। সবাইকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার জন্য আমরা তিন ধাপে টেন্ডারের ব্যবস্থা করে থাকি।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানান, ‘১১টি অস্থায়ী হাটের ইজারা ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে হয়েছে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাবে এবার টেন্ডার হয়নি। যাদের ইচ্ছে তারাই অংশগ্রহণ করেছে। নির্দিষ্ট সময়ের আগে কোথাও হাট বসতে পারবে না। আমরা তাদের নির্দিষ্ট সীমানাও টেনে দিচ্ছি। এর বাইরে বসলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

জানা গেছে, তিন ধাপে আগামী ১০ দিনের মধ্যে পশুর হাটের ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। অস্থায়ী হাটগুলোর পাশাপাশি রাজধানীর দুই স্থায়ী পশুর হাট গাবতলী ও সারুলিয়াতে যথারীতি কোরবানির পশু কেনাবেচা হবে।