বাংলাদেশ বিমানের টরন্টোগামী একটি ফ্লাইটের কোপাইলট মাঝ আকাশে অসুস্থ হয়ে পড়লে জরুরি ভিত্তিতে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণ করতে হয়। পরে বিকল্প পাইলটের ব্যবস্থা করে ফ্লাইটটি পুনরায় টরন্টোর উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।
বিমান সূত্রে জানা গেছে, বিমানের ফ্লাইট বিজি ৩০৫ গতকাল ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কানাডার টরন্টোর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এটি সপ্তাহে তিন দিন পরিচালিত একটি নিয়মিত ফ্লাইট, যা ইতালির রোমের লিওনার্দো দা ভিঞ্চি-ফিউমিচিনো বিমানবন্দর হয়ে টরন্টো যায়।
ফ্লাইটটি একটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ দিয়ে পরিচালিত হচ্ছিল। স্থানীয় সময় রাত ৩টা ১৬ মিনিটে ঢাকা থেকে উড্ডয়নের পর সকাল ৮টা ৩৯ মিনিটে রোমে পৌঁছে বিমানটি। সেখানে ক্রু পরিবর্তন ও জ্বালানি নেওয়ার জন্য প্রায় এক ঘণ্টা যাত্রাবিরতি করা হয়।
পরে স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে টরন্টোর উদ্দেশ্যে রোম ত্যাগ করে ফ্লাইটটি। ফ্লাইট পরিচালনায় ছিলেন ক্যাপ্টেন এনাম তালুকদার ও ফার্স্ট অফিসার আদিব।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রোম থেকে উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর ইউরোপের আকাশসীমায় উড়োজাহাজটি অবস্থানকালে কোপাইলট হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্যাপ্টেন দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফ্লাইটটি লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরের দিকে সরিয়ে নেন।
বিমান সূত্র বলছে, যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে উড়োজাহাজটি নিরাপদে হিথ্রোতে অবতরণ করে। সেখানে আগে থেকেই জরুরি চিকিৎসা দল প্রস্তুত ছিল। অবতরণের পর অসুস্থ কোপাইলটকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এভিয়েশন সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘপাল্লার এই ধরনের ফ্লাইট পরিচালনায় সাধারণত অতিরিক্ত পাইলট রাখা হয়ে থাকে। তবে এই ফ্লাইটটি মাত্র দুইজন পাইলট দিয়ে পরিচালিত হচ্ছিল বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে এভিয়েশন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
পরে লন্ডনে বাধ্যতামূলক বিশ্রামে থাকা বিমানের আরেকজন পাইলটকে দায়িত্বে যুক্ত করা হয়। এরপর স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে ফ্লাইটটি পুনরায় টরন্টোর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।
বিমান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কো পাইলটের শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হওয়ায় বড় ধরনের ঝুঁকি এড়ানো গেছে।