সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় বোরো ধানের ফসলি জমিতে জোঁকের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষক ও কৃষি শ্রমিকরা। কয়েক দিনের টানা বর্ষণে নিচু জমিগুলোতে পানি জমে যাওয়ায় সেখানে জোঁকের আধিক্য দেখা দিয়েছে। রক্তচোষা এই প্রাণীর আক্রমণ থেকে বাঁচতে শ্রমিকরা হাত ও পায়ে কাপড়ের মোজা, মোটা পলিথিন অথবা গামবুট পরে ধান কাটার কাজ করছেন।
উপজেলার তালম, বারুহাঁস, দেশীগ্রাম ও মাধাইনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, জমিতে নামলেই ছোট-বড় জোঁক শ্রমিকদের শরীরে জড়িয়ে ধরছে। এ কারণে ধান কাটার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে জোঁকের ভয়ে শ্রমিকরা ধান কাটতে অনীহা প্রকাশ করছেন অথবা স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত পারিশ্রমিক দাবি করছেন।
বারুহাঁস ইউনিয়নের বস্তুল গ্রামের কৃষি শ্রমিক ফরিদুল ইসলাম জানান, পানি আছে এমন জমিতে নামলেই জোঁক জড়িয়ে ধরে রক্ত চুষে নিচ্ছে। তার ভাষ্য, জোঁক কামড়ানো স্থানে দীর্ঘক্ষণ রক্ত ঝরে এবং অসহ্য চুলকানি হয়। এ কারণে বাধ্য হয়েই তারা বাজার থেকে গামবুট কিনছেন অথবা কাপড় ও পলিথিন দিয়ে বিশেষ ধরনের মোজা তৈরি করে সতর্কতার সাথে মাঠে নামছেন বলেও জানালেন তিনি।
স্থানীয় কৃষক ইজ্জত আলী ও সোলায়মান ফকির জানান, জোঁকের এই উপদ্রব তাদের জন্য ‘বোঝার ওপর শাকের আঁটি’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে বৃষ্টির কারণে ধান নুয়ে পড়ে পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে, অন্যদিকে জোঁকের ভয়ে শ্রমিকরা চড়া দাম হাঁকাচ্ছেন। ফলে বিঘাপ্রতি উৎপাদিত ধানের প্রায় অর্ধেকই পারিশ্রমিক হিসেবে দিতে হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে তাড়াশে ২৩ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। বর্তমানে ধান কাটার ভরা মৌসুম চললেও বিরূপ আবহাওয়া ও জোঁকের উপদ্রবে কৃষকের স্বপ্নভঙ্গের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী কৃষকরা বলছেন, অনেক শ্রমিক জোঁক আছে এমন জমিতে কাজ করতেই চাচ্ছেন না।
তাড়াশ পৌর এলাকার ভাদ্রাস ফসলি মাঠেও একই চিত্র দেখা গেছে। যেখানে শ্রমিকরা শরীর ঢেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত রোদ না উঠলে এবং জমির পানি না শুকালো জোঁকের এই উপদ্রব কমবে না যা বোরো ধান ঘরে তোলার লক্ষ্যমাত্রাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৃষকদের এই সংকটময় মুহূর্তে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।