Image description

অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়া, ব্যভিচার ও মানহানির মামলায় দোষী প্রমাণিত হলে ক্রিকেটার নাসির হোসাইনের সর্বোচ্চ ৭ বছর ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির ২১ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান।

আজ বুধবার (৬ মে) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ মামলার যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের জন্য আগামী ১০ জুন দিন ধার্য করেন। এ মামলা প্রমাণিত হলে আসামিদের কেমন সাজা হতে পারে জানতে চাইলে বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান গণমাধ্যমে এ প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ক্রিকেটার নাসিরের বিরুদ্ধে মামলায় দুইটি ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

রায়ে দোষী প্রমাণিত হলে ব্যাভিচারের অভিযোগে দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারায় তার ৫ বছর ও দণ্ডবিধির ৪৯৮ ধারায় দুই বছরের সাজা মিলে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়া তামিমার বিরুদ্ধে পৃথক তিন ধারায় সাত বছর করে সর্বোচ্চ ২১ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে, যদি দোষী সাব্যস্ত হয়। এছাড়া বিচারক যদি প্রত্যেক ধারায় সাজা দেন ও একেকটি ধারার সাজা শেষ হলে আরেকটি ধারা চলমানের আদেশ দেন, তাহলে এমন সর্বোচ্চ সাজা পাবেন আসামিরা। আইনজীবী আরো বলেন, ‘এ মামলায় যদি সাজা হয়, তাহলে সমাজ থেকে ব্যভিচার, পরকীয়া, সংসার রেখে চলে যাওয়া এবং ডিভোর্স না দিয়ে এ ধরণের অপকর্ম করা দূর হবে। সমাজে বার্তা যাবে। সমাজের ব্যভিচার বন্ধ হওয়ার জন্য এ মামলায় কঠোর দৃষ্টান্তমূলক সাজা হওয়া উচিত।’

 
 

অন্যদিকে নাসিরের পক্ষে অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু গণমাধ্যমে বলেন, ‘আসামিদের বিরুদ্ধে মমালার অভিযোগ ‘প্রমাণিত হয়নি।’ যথাযথ তালাক দিয়ে আসামিদের বিয়ে হয়েছে। মূলত ক্রিকেটার নাসিরের সম্মানহানী ও হয়রানি করতে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার রায়ে আসামিরা খালাস পাবেন বলে আমাদের প্রত্যাশা।’

 
 

এর আগে গত ১৬ এপ্রিল মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। মামলাটিতে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি একই আদালত ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। তবে নাসিরের শাশুড়ি সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

 

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাম্মির সাবেক স্বামী রাকিব হাসান বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তাম্মি ও রাকিবের বিয়ে হয়। তাদের আট বছরের একটি মেয়েও রয়েছে। তাম্মি পেশায় একজন কেবিন ক্রু। ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে তাম্মি ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। পরে পত্র-পত্রিকায় তিনি ঘটনার বিষয়ে সম্পূর্ণ জানেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, রাকিবের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান অবস্থাতেই তাম্মি নাসিরকে বিয়ে করেছেন; যা ধর্মীয় এবং রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। তাম্মিকে প্রলুব্ধ করে নিজের কাছে নিয়ে গেছেন নাসির। তাম্মি ও নাসিরের এমন অনৈতিক ও অবৈধ সম্পর্কের কারণে রাকিব ও তার আট বছর বয়সী কন্যা মারাত্মভাবে মানসিক বিপর্যস্ত হয়েছেন। আসামিদের এমন কার্যকলাপে রাকিবের চরমভাবে মানহানি হয়েছে, যা তার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।