Image description

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সন্ত্রাসীগ্রুপগুলো বেশ কিছুদিন নীরব থাকার পর আবার নতুন করে খুনোখুনিতে মেতেছে। আজ বুধবার আরো একজন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নিহত হলেন দুজন। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে আজকে নিহত হন আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি (এআরএ) বা নবী হোসেন গ্রুপের প্রধান নবী হোসেনের ছোট ভাই মোহাম্মদ কামাল (৩৫)।

 

বুধবার (৬ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্প-৮ ইস্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গতকালের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়ও আরাকান স্যালভেসন আর্মি-আরসার সন্ত্রাসীরা জড়িত বলে সাধারণ রোহিঙ্গারা অভিযোগ করেছেন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রিয়াজুদ্দিন আহমদ গুলির ঘটনায় একজন নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কামালকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

 

তিনি আরো জানান, বর্তমানে ঘটনাস্থলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, নিহত মোহাম্মদ কামাল ৮ ইস্ট ক্যাম্পের নিজ ঘর থেকে বের হয়ে বালুখালী এক নম্বর ক্যাম্পের দিকে আসছিলেন। জুমেরছড়া নামক স্থানে তিনি এসে পৌঁছালে সেখানে ওত পেতে থাকা সশস্ত্র সন্ত্রাসীর দল কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে। এতে ঘটনাস্থলে পড়ে যান কামাল।

 

ক্যাম্পের সাধারণ রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, আরাকান ভিত্তিক সশস্ত্র রোহিঙ্গা গ্রুপগুলো সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা নীরব থাকলেও গত কয়েক দিন ধরে আবার হানাহানিতে লিপ্ত হয়ে পড়েছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একদিকে আরাকান স্যালভেসন আর্মি-আরসা এবং অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের অপর গ্রুপগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার কুতুপালং ক্যাম্পের নৌকা মাঠে গুলিতে নিহত হয়েছিলেন আরাকান রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন (এআরও)-এর কমান্ডার কেফায়েত উল্লাহ হালিম। আর আজকে বুধবার নিহত হলেন আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি-এআরএর সক্রিয় সদস্য মোহাম্মদ কামাল।

রোহিঙ্গাদের সুত্রে আরো জানা গেছে, একসময়ের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী রোহিঙ্গা নবী হোসেন নিজেই গঠন করেছিলেন নিজের নামে নবী হোসেন গ্রুপ।

পরবর্তীতে নবী হোসেন নিজের গ্রুপের নাম এআরএ হিসেবে পরিচয় দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে থাকেন। নবী হোসেন গ্রুপ মূলত মায়ানমার থেকে ইয়াবার চালান এনে ক্যাম্পে মজুদ গড়ে তুলে টাকা আয়ের পর অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহের মাধ্যমেই শক্তিশালী করে তুলে নিজের গ্রুপকে। গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে নিহত কামালই পরিচালনা করে আসছিলেন। সর্বশেষ আরসা গ্রুপের সাথে আধিপত্য নিয়ে লেগেে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে জানা গেছে। ক্যাম্পগুলোতে এখনো অন্তত এক ডজন সন্ত্রাসী গ্রুপের তৎপরতা রয়েছে।