বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী প্রস্তাব বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ। বাসদ সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেছেন, সরকার পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সমন্বয় করে খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিটে সর্বোচ্চ এক টাকা ৩৮ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে। এই প্রস্তাব আমলে নিয়ে বিইআরসি ইতিমধ্যে কারিগরি কমিটিও গঠন করেছে, যা স্পষ্টভাবে গণবিরোধী, অযৌক্তিক এবং জনজীবনবিধ্বংসী।
বুধবার (৬ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে নির্বাহী আদেশে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়ে ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং অকটেন ১৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন ভাড়া, কৃষি উৎপাদন খরচ এবং নিত্যপণ্যের দাম ইতিমধ্যেই বেড়েছে। সাধারণ মানুষ ও শ্রমজীবী পরিবারগুলো চরম সংকটে পড়েছে।
বাসদ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিদ্যুৎ খাতে সিস্টেম লস, অপচয়, দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনা দশকের পর দশক ধরে কোটি কোটি টাকার ক্ষতির কারণ হয়ে চলেছে। গত আওয়ামী লীগ সরকার বিশেষ দায় মুক্তি আইনে দরপত্র ছাড়াই একের পর এক রেন্টাল কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করে ক্যাপাসিটি পেমেন্টের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা জনগণের পকেট থেকে বেসরকারি মালিকদের হাতে তুলে দিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় অন্তর্বর্তী সরকার গত অর্থবছরে ৫৮ হাজার কোটি টাকার রেকর্ড ভর্তুকি দিয়েছে, যা পুরোপুরি করদাতা ও সাধারণ ভোক্তার অর্থ থেকেই মেটানো হয়েছে।
বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ খাতে সিস্টেম লস অর্থাৎ চুরি বন্ধ করতে হবে। এটা করতে পারলে উৎপাদন খরচের অন্তত ৪০ শতাংশ বাড়তি ব্যয় কমানো সম্ভব। এছাড়া বিদ্যুৎ খাতে ভাড়াভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর অনুৎপাদনশীল ক্যাপাসিটি পেমেন্ট বন্ধ করতে হবে এবং সব আর্থিক অনিয়ম ও লুটপাটের জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।