রাজধানীর মতিঝিল থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার রাসেল আহমেদকে অপহরণ করে শারীরিক নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ওই ভুয়া ডিবি পুলিশের সদস্যরা হলেন মো. আনোয়ার সরকার (৩০) ও মো. জহিরুল ইসলাম জহির ওরফে বাবু (২৩)।
বুধবার (৬ মে) বিকেলে মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) এন এম নাসিরুদ্দিন এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে মতিঝিল মেট্রো স্টেশনসংলগ্ন রাসেলের আইটি প্রতিষ্ঠান থেকে গত ১০ মার্চ বিকেলে ৫ থেকে ৬ জন ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তার প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। রাসেল চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে সিএনজিতে তুলে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে সবুজবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আনোয়ার সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই রাতেই দক্ষিণ বনশ্রী থেকে জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় জহিরুলের কাছ থেকে ভিকটিমের স্বাক্ষর করা সেই স্ট্যাম্পগুলো উদ্ধার করা হয়।
ডিসি নাসিরুদ্দিন জানান, অপহরণের পর ভুয়া ডিবির সদস্যরা ইঞ্জিনিয়ার রাসেলকে নন্দীপাড়ার একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যায়। সেখানে আটকে রেখে রাসেলের পরিবারের কাছে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এ সময় তার মোবাইল, ল্যাপটপ ও ক্রেডিট কার্ড ছিনিয়ে নিয়ে তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়।
তিনি বলেন, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ভিকটিম রাসেল তার স্বজনদের মাধ্যমে দফায় দফায় বিভিন্ন মাধ্যমে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা এনে দেন। পরবর্তীতে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ভিকটিমের কাছ থেকে তিনটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে তাকে গোড়ান টেম্পো স্ট্যান্ডে ফেলে যায় অপহরণকারীরা।
নাসিরুদ্দিন আরও বলেন, ঘটনার পর অপহরণকারীদের আতঙ্কে চুপ ছিল। কিন্তু সম্প্রতি অপহরণকারীরা হোয়াটসঅ্যাপে কল করে আরও ৫ লক্ষ টাকা দাবি করে এবং তা না হলে স্ট্যাম্প দিয়ে মামলা করার হুমকি দেয়। পরে নিরুপায় হয়ে সোমবার (৪ মে) ভিকটিম রাসেল মতিঝিল থানায় একটি মামলা করেন।
পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতায় প্রথমে সবুজবাগ থেকে আনোয়ার হোসেনকে এবং পরে দক্ষিণ বনশ্রী থেকে জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর করা স্ট্যাম্পগুলো উদ্ধার করা হয় বলেও তিনি জানান।
গ্রেপ্তারের পর তাদেরকে বুধবার (৬ মে) আদালতে পাঠানো হয়েছে। সেই সঙ্গে ভুয়া ডিবি পুলিশ চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তার ও মুক্তিপণ হিসাবে আদায়কৃত টাকা উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান ডিসি এন এম নাসিরুদ্দিন।