জন্ম থেকে যমজ হিসেবে বড় হয়েছেন মিশেল ও লাভিনিয়া। একই পরিবার, একই পরিচয়— সব কিছুই ছিল একই রকম। কিন্তু একটি ডিএনএ পরীক্ষার ফল হঠাৎ করেই পাল্টে দেয় তাদের পুরো জীবনের চিত্র।
মিশেল ও লাভিনিয়া ওসবোর্ন নামের দুই যমজ বোন দীর্ঘদিন ধরে মনে করতেন, তারা একই মা-বাবার সন্তান।
পরীক্ষার ফল অনুযায়ী, তারা একই মায়ের সন্তান হলেও তাদের বাবা আলাদা। অর্থাৎ জৈবিকভাবে তারা পূর্ণ যমজ নন, বরং সৎবোন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই বিরল ঘটনাকে বলা হয় হেটারোপ্যাটারনাল সুপারফেকান্ডেশন।
বিশেষজ্ঞরা জানান, এক ঋতুচক্রে একাধিক ডিম্বাণু তৈরি হলে এবং অল্প সময়ের ব্যবধানে ভিন্ন পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক হলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত এমন ঘটনার সংখ্যা হাতে গোনা—প্রায় ২০টির মতো। যুক্তরাজ্যে নথিভুক্ত ঘটনাগুলোর মধ্যে মিশেল ও লাভিনিয়ার ঘটনাই প্রথম।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদসংস্থা বিবিসি জানায়, ১৯৭৬ সালে নটিংহামে জন্ম নেওয়া এই দুই বোনের শৈশব ছিল কঠিন।
কৈশোরে জেমস নামের এক ব্যক্তিকে তারা বাবা হিসেবে চিনে আসছিলেন। তবে মিশেলের মনে সন্দেহ ছিল।
২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ তাদের মায়ের মৃত্যুর দিনই পরীক্ষার ফল আসে। সেখানে জানা যায়, জেমস মিশেলের জৈবিক বাবা নন। পরে তিনি জানতে পারেন, তার প্রকৃত বাবা অ্যালেক্স নামের একজন ব্যক্তি।
এরপর লাভিনিয়াও ডিএনএ পরীক্ষা করেন। ফলাফলে দেখা যায়, জেমস তারও বাবা নন। তার জৈবিক বাবা আর্থার নামের অন্য একজন।
বর্তমানে লাভিনিয়া আর্থারের কাছাকাছি থাকেন এবং সম্পর্কও গড়ে উঠেছে। আর্থার দুই বোনকেই গ্রহণ করেছেন। জানা গেছে, এক কঠিন সময়ে তাদের মা আর্থারের সাহায্য চাইতে গিয়ে গর্ভবতী হয়েছিলেন।
অন্যদিকে মিশেল তার জৈবিক বাবা অ্যালেক্সের সঙ্গে দেখা করলেও সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী নন।
তাদের মায়ের এই সত্য জানা ছিল কি না, তা আর নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব নয়। তবে দুই বোনই বলছেন, ডিএনএ তাদের পরিচয় বদলে দিলেও তাদের পারস্পরিক বন্ধন আগের মতোই অটুট থাকবে।