Image description

সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় তেলিবাজারে ট্রাকের সঙ্গে পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে আটজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার সময় ট্রাকের চালক ঘুমে ছিলেন বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ট্রাকচালক ঘুমিয়ে পড়ায় তার সহকারী গাড়ি চালাচ্ছিলেন।

 

রোববার (৩ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের তেলিবাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে দুই নারীসহ ৮ জন নিহত হন। নিহতরা নির্মাণশ্রমিক। পিকআপ ভ্যানে করে তারা কাজের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন।

 

নিহতরা হলেন সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় পলাশ ইউনিয়নের মুক্তিখলা গ্রামের আব্দুল গফফারের দুই ছেলে আজির উদ্দিন ও আমির উদ্দিন, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের মৃত খরম আলীর ছেলে মো. সুরুজ আলী, একই উপজেলার শেষস্তি গ্রামের আব্দুল বাসিরের মেয়ে মোছা. মুন্নি, দিরাই উপজেলার নুরনগর এলাকার মৃত নূর সালামের ছেলে মো. ফরিদুল, ধর্মপাশা উপজেলার সাবিরা গ্রামের ইদ্রিসের স্ত্রী নার্গিস, সিলেটের জালালাবাদ থানার লালারগাঁও এলাকার সুজাত আলীর ছেলে মো. বদরুল আমীন এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের কুঠির বিশ্বাসের ছেলে পান্ডব বিশ্বাস।

 

দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল রতিফ নামে এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘ড্রাইভার আছিল ঘুমো, আর হেলপার ইছল গাড়ি চালানিত।’

 

 

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান জানান, পুলিশ ট্রাকচালকের সহকারীকে আটক করেছে। তিনি গাড়ি চালাচ্ছিলেন এমন কিছু পুলিশের জানা নেই। ট্রাক ও পিকআপ জব্দ করা হচ্ছে।

 

দুর্ঘটনার সময় ট্রাকের চালক ঘুমিয়ে পড়েছিলেন জানিয়ে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সিলেটের উপপরিচলাক মো. শফিকুল ইসলাম ভূঞা বলেন, ট্রাকের চালক কাঁঠাল নিয়ে সারারাত গাড়ি চালিয়ে এসেছেন। ভোরের দিকে তিনি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তদন্ত করার পর বিস্তারিত জানা যাবে।

 

ঘটনাস্থলে চারজন ও হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও চারজন মারা যান। খবর শুনে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। রোববার দুপুরে ওসমানী হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, নিহত ও আহতদের স্বজনরা মর্গের সামনে ভিড় করেছেন।

 

আহত হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের আলমগীর এশিয়া পোস্টকে জানান, তারা লালাবাজারে একটি ভবনের ঢালাইয়ের কাজে যাচ্ছিলেন। একই পিকআপ ভ্যানে ২০-২২ জন শ্রমিক ছিলেন। তেতলি এলাকায় সুনামগঞ্জ বাইপাসের আগে বিপরীত থেকে আসা কাঠালবোঝাই একটি ট্রাক সরাসরি পিকআপ ভ্যানে ধাক্কা দেয়। এরপর তারা আর কিছু বলতে পারেননি। জ্ঞান ফেরার পর দেখতে পান কেউ হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত, কেউ ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন।

 

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. উমর রাশেদ মুনির এশিয়া পোস্টকে জানান, মরদেহগুলো মর্গে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে ময়নাতদন্ত করা হবে। আহতদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে।