Image description

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে জনগণ রাজপথে সিদ্ধান্ত নেবে।

 

তিনি বলেন, জনগণের দীর্ঘ আন্দোলন, ত্যাগ ও আত্মদানের মধ্য দিয়ে যে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, সেটিকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। এজন্য সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকারকে চাপ দিয়ে যাচ্ছে জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোট।

 

শুক্রবার (১ মে) রংপুর মডেল কলেজে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

 

এদিন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রংপুর মহানগর ও জেলা শাখার বাছাইকৃত (রুকন) সদস্যদের তিন দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরের দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।

এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও বহু ত্যাগের বিনিময়ে আমরা নতুন একটি বাংলাদেশ পেয়েছি। প্রায় দেড় হাজারের বেশি ছাত্র-যুবকের আত্মদানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটেছে। আমি এটিকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা মনে করি। এই পরিবর্তনের মাধ্যমেই আমি মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে এসেছি, জেল থেকে মুক্ত হয়েছি এবং জনগণের ভোটে সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি।

 

তিনি জানান, সংসদে গিয়ে তারা গণভোট বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর শপথ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু বিএনপি সেই শপথ নেয়নি এবং সংসদে গিয়ে বেশ কয়েকটি মৌলিক অধ্যাদেশ বাতিল করেছে। যেসব অধ্যাদেশের মাধ্যমে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি বা দল স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠতে পারে, সেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তারা কার্যকর হতে দেয়নি।

 

জামায়াতে ইসলামীর এই সংসদ সদস্য বলেন, আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি, সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেছি এবং সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছি। এখন সংসদের ভেতরে ও বাইরে আন্দোলন করছি, যাতে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হয়।

 

সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ১৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের কথা বলেছেন। সেখানে সরকার ১২ জন সদস্য দিয়েছে এবং বাকি পাঁচজনের নাম জামায়াতের কাছে চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দলীয় ও সংসদীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

 

মুক্তিযুদ্ধ ও ঐক্যের রাজনীতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ টি এম আজহার বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১ সালে হয়েছে, আর বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯৭৮ সালে। তাদের দলে মুক্তিযোদ্ধা থাকতে পারে, জামায়াতেও মুক্তিযোদ্ধা আছেন। অথচ আপনারাই (বিএনপি) আবার ঐক্যের কথা বলে বিভেদের রাজনীতি করছেন।

 

নিজ নির্বাচনি এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, পার্বতীপুর থেকে রংপুর পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীত করা, বদরগঞ্জে বাইপাস সড়ক নির্মাণ, শ্যামপুর চিনিকল চালু, হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা দূর করা, নারী ও যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মাদকাসক্তি প্রতিরোধে সংসদে বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করেছেন।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর সহকারী অঞ্চল পরিচালক মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর মহানগর আমির এ টি এম আযম খান, মহানগর সেক্রেটারি কেএম আনোয়ারুল হক কাজল, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক, মহানগর সহকারী সেক্রেটারি আল আমিন হাসান, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাউসার আলী প্রমুখ।