Image description

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমি রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শুনিনি, পড়িওনি। তাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগকে আমরা প্রত্যাখ্যান করেছিলাম। আমরা খুব স্পষ্টভাবে বলেছিলাম, রাষ্ট্রপতির অপসারণ ও গ্রেফতার করা প্রয়োজন। রাষ্ট্রপতির কোনো অধিকার নেই বঙ্গভবনে থাকার, এখানে এসে বক্তব্য দেওয়ার।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় এ কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

রাষ্ট্রপতির ‘কুকীর্তি’ তুলে ধরার কথা জানিয়ে নাহিদ বলেন, তাকে তিনটি লক্ষ্য দিয়ে দুদকের কমিশনার করা হয়। এর এক নম্বর হচ্ছে, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের নিশ্চিত করা। দুই নম্বর হচ্ছে, পদ্মাসেতুর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে ক্লিনশিট দেওয়া। তিন নম্বর হচ্ছে, ফখরুদ্দিন-মইনউদ্দিন সরকারের সময় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে হওয়া দুর্নীতির মামলা বাতিল করা। এমন একজন ব্যক্তিকে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রপতি হিসেবে এখনো মেনে নিচ্ছে- তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু এস আলমের হাতে ইসলামী ব্যাংককে তুলে দেওয়ার কারিগর। এস আলম দুই কোটি আমানতকারীকে পথে বসিয়েছিল। জুলাই গণহত্যার সময় তার (রাষ্ট্রপতি) ভূমিকা, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা সবকিছু আমরা জানি। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, একজন দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ, মিথ্যুক, গণহত্যার দোসর এখনো বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।

 

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, তখনকার পরিস্থিতি ও বর্তমান সময় এক নয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের সামনে দুটি বিকল্প ছিল। একটি ছিল জাতীয় সরকার গঠন, আরেকটি ছিল ক্ষমতা সেনাবাহিনীর হাতে ছেড়ে দেওয়া।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব আমরা দিয়েছিলেন, তবে তা বিএনপি নাকচ করে দেয়। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা গেলে আজ যারা সরকারে আছেন, তারা সেখানে থাকতে পারতেন কি না, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।

সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে তারা সে সময় সরকারে গিয়েছিলেন। এখন নির্বাচিত সরকার। চাইলে বিএনপি রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করতে পারে। বিএনপিতে সে ধরনের যোগ্য ও আস্থাভাজন লোক রয়েছে। গাধাকে দিয়ে হাল চাষ করিয়ে কোনো ‘বাহাদুরি নেই’, এটা সরকারের দেউলিয়াত্ব।

 

তিনি বলেন, আর্থিক খাত নিয়ে মাননীয় অর্থমন্ত্রী এক বাক্যে বারবার বলেন, বিএনপির সময়ে আর্থিক খাতে বিশৃঙ্খলার কোনো রেকর্ড নেই। উনি কিছুক্ষণ আগে অস্বীকার করেছেন যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর একটা রাজনৈতিক নিয়োগ, তাদের দলের নির্বাচন কমিটির সদস্য। তিনি অস্বীকার করলেন।

টিআইবির প্রতিবেদন উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া সরকার দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে ৫৯ দশমিক ৪১ শতাংশের ঋণ রয়েছে। সংসদে সদস্যদের ১১ হাজার কোটি টাকার ঋণ রয়েছে, যার অধিকাংশই সরকার দলের। যাদের অধিকাংশই ঋণখেলাপি ছিলেন, নির্বাচনের আগে কিছু টাকা দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিল করে নিয়েছেন।

নাহিদ বলেন, বর্তমান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বিশেষত্ব হচ্ছে ঋণ পুনঃতফসিল করা। এটাতে তিনি অভিজ্ঞ, ফলে তাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কেন করা হয়েছে তা পরিষ্কার। হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ যাতে তিনি পুনঃতফসিল করতে পারেন, সেই সুযোগ-সুবিধা করে দেওয়ার জন্যই দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন ব্যবসায়ীকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করা হয়েছে। ফলে আর্থিক খাতের আরও নিয়োগ তারা কী বিবেচনায় দেবেন, তাদের ওপর আর আস্থা রাখতে পারছি না।

'৭২-এর সংবিধানকে '৭১-এর সঙ্গে বিএনপি কোন বিবেচনায় মেলাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বাহাত্তরের সংবিধানকে একাত্তরের সঙ্গে মিলিয়েছিল তো আওয়ামী লীগ। আমরা এর বিরোধিতা করেছি, বিএনপির বহু নেতাও বিরোধিতা করেছিল। মওলানা ভাসানী, বদরুদ্দিন উমরসহ আরও অনেকে বিরোধিতা করেছিলেন। নাহিদ প্রশ্ন তোলেন, শুধু জামায়াত ৭২-এর সংবিধানের বিরোধিতা করেছিল বলেই কী বিএনপি আওয়ামী লীগের অবস্থানে চলে গেছে?

'৭২-এর সংবিধানের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, '৭২-এর সংবিধান স্বাধীন বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা রচনা করেননি। '৭২-এর  সংবিধান রচনা করেছিল ৭০-এর নির্বাচনে আইয়ুব খানের এলএফওয়ের অধীনে যারা নির্বাচিত হয়েছিল, যা হয়েছিল পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র রচনা করার জন্য। তখন থেকেই সংবিধানের সমালোচনা শুরু হয়েছিল।

নাহিদ বলেন, বাহাত্তরের সংবিধান উত্তরাধিকার সূত্রে অগণতান্ত্রিক। সে সময় শেখ মুজিবকে সামনে রেখে এ সংবিধান তৈরি করা হয়েছিল। স্বৈরতন্ত্রের বীজ বাংলাদেশে বাহাত্তরের সংবিধানে বপন করা হয়েছিল। এ সংবিধান মুজিববাদী আদর্শে রচিত। '৭১-এর সংবিধানের বিরুদ্ধে জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ করেছিলেন বলেও দাবি তিনি।

নাহিদ বলেন, সিপাহি জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে ’৭২-এর সংবিধান বাতিলের সুযোগ এসেছিল। সেই সুযোগ আমরা মিস করেছি। সম্মান রেখেই বলছি, জিয়াউর রহমান সে ঐতিহাসিক ভুলটি করেছিলেন। '২৪ ও সুযোগ এসেছিল। এখনো সুযোগ মিস করে যাচ্ছি। এ বিষয়ে বিএনপি তাদের অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছে দাবি করে নাহিদ বলেন, তারা তাদের অবস্থান থেকে সরে গেলে, আমরাও আমাদের পূর্বের জায়গায় ফেরত গিয়ে সংবিধান পুনর্লিখনের দাবি জানাতে হবে। বিএনপি যদি '৭২-এর পক্ষে অটল থাকে।

জুলাই জাতীয় সনদ প্রসঙ্গ

জুলাই জাতীয় সনদে বিএনপি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়ার সমালোচনা করে নাহিদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে সেটাকে কলুষিত করে ফেলা হয়েছে। তিনি বলেন, যেদিন জুলাই জাতীয় সনদ সই হয়, সেদিন জুলাই জাতীয় সনদের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলোতেই পাশে একটা নোট লেখা হয়েছে। যে কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট তাদের নির্বাচন ইশতেহার উল্লেখ করবো। যে দল নির্বাচনে জয়ী হবে তারা তাদের ইশতেহার অনুযায়ী সবকিছু করবে, এটার জন্য তো ঐকমত্যের কোনো প্রয়োজন নেই। বল প্রয়োগ করে ঐকমত্য কমিশনকে চাপ দিয়ে জুলাই সনদে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ লেখানো হয়েছে বলে দাবি করে নাহিদ বলেন, তিনি মনে করেন এ বিষয়ে এখন ঐকমত্য কমিশনের বলার সময় এসেছে।

গণভোটের প্রসঙ্গে তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, সবার সম্মতির ভিত্তিতেই সবাই মিলে গণভোটে অংশগ্রহণ করেছি। প্রধানমন্ত্রী নিজেও সংস্কারের পক্ষে, গণভোটে 'হ্যাঁ'-এর পক্ষে প্রচারণা করেছেন। কিন্তু নির্বাচনের পর বিএনপি ভিন্ন অবস্থান নেয়। এর সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে পরিষ্কার করা প্রয়োজন ছিল যে গণভোট আপনারা মানেন না। এই গণভোটে হ্যাঁ বা না জিতুক এটার সঙ্গে আপনাদের কোনো সম্পর্ক নাই। উনারা কিন্তু সেটা করেননি।’

নাহিদ বলেন, আমরা মনে করি গণভোট অনুসারে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে সাংবিধানিক সংস্থার পরিষদ গঠন করা উচিত।

তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বা গণভোট যেটাই বলেন একটা উচ্চকক্ষ হবে ভোটের অনুপাতে হবে এ সরকার নিয়ে এত ঝামেলা, গত ১৬  বছর এত আন্দোলন কীভাবে নিয়োগ হবে নিয়োগটা আমাদের জানতে হবে নির্বাচন কমিশনার এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে কীভাবে নিয়োগ হবে একটা নির্দলীয় গ্রহণযোগ্য নিয়োগ আমরা কীভাবে করতে পারি যেটা দেশকে বিভাজিত করবে না বিরোধীদলের পরে বিরোধীদলের অধিকার ক্ষুণ্ন করবে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিচার বিভাগ তৈরি করা। 

নাহিদ বলেন, এগুলো আমরা ৫ আগস্টের পরে আসমান থেকে বলি এগুলো গত ১৬ বছর আলোচনা হয়েছে বিএনপির ৩১ দফা এই আলোচনা ছিল আরও অনেক রাজনৈতিকদলের আলোচনাতে সংস্কার আলোচনা থেকে আমরা ধার করেছিলাম হ্যাঁ বিচার বিভাগ এই মুহূর্তে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে কনসার্ন আছে কারণ আওয়ামী লীগের নিয়োগ দেওয়া অনেক বিচারক এখনো রয়ে গিয়েছে মাননীয় স্পিকার, যারা এই জামিনগুলো করিয়েছে ফ্যাসিস্ট কিন্তু সেটার একটা আপনারা করেন আমরা সহযোগিতা করবো কিন্তু তারপরেও তো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা মাননীয় স্পিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং মানবাধিকার অধ্যাদেশ বাতিল করলেন আপনারা বলছেন ভালো আইন নিয়ে আসবেন। তো ভালো আইন যতক্ষণ পর্যন্ত আনতে পারছে না ততক্ষণ পর্যন্ত মাননীয় স্পিকার আপনাদের সমালোচনাটা সহ্য করতে হবে। আপনারা ভালো আইন নিয়ে আসুন এবং অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়ে আসুন। 

নাহিদ বলেন, আরেকটি বিষয় বারবার এসেছে সেটা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান। মুক্তিযুদ্ধকে আমরা শ্রদ্ধা করি। আমরা মনে করি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের নতুন রূপ তৈরি হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের নবায়ন হয়েছে। ফলে মুক্তিযুদ্ধের সাথে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থান নেই।

এটা নিয়ে অহেতুক বিতর্ক করা হচ্ছে জানিয়ের নাহিদ বলেন, আমরা কেউ বলি নাই যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান মুক্তিযুদ্ধের থেকে বড় বা জুলাই গণঅভ্যুত্থান '৯০- এর থেকে বড় বা '৯০-এর থেকে ছোট। জুলাই গণঅভ্যুত্থান এক বিশেষ ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে। মুক্তিযুদ্ধ এক বিশেষ ঘটনা, মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ফাউন্ডেশন। এটার ব্যাপারে আমরা আপসহীন, এটা নিয়ে কোনো বিতর্কের সুযোগ নেই। তবে এই কথাটা উনারাই বারবার বলে মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করছেন, জুলাই অভ্যুত্থানকে ছোট করছেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সবার অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, আমরা আন্দোলনের সময় থেকে এখন পর্যন্ত কখনো অস্বীকার করি নাই। এখন যদি বলা হয় যে অমুকের নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, আমাদের লোকেরা এই গণঅভ্যুত্থান করেছে। এটা গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে যারা সাধারণ মানুষ নেমেছিল, যারা শহীদ হয়েছে, তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সবার অংশগ্রহণ ছিল। গণঅভ্যুত্থান আমরা একসাথেই করেছিলাম। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের পরে আমাদের রাস্তা রাজনৈতিকভাবে আলাদা হয়ে গেছে।

নাহিদ বলেন,  আমরা ভারত এবং পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। এই সরকার আসার পরে একটা জিনিস বারবার আসছে ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী- যিনি আগের সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি যে বিবৃতি দিয়েছেন সে বিবৃতি আমাদের কাছে স্পষ্ট না। আমরা কোন ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বলছি।

নাহিদ বলেন, ভারতের সাথে সম্পর্ক আমরা উন্নয়ন করতে চাই। ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ। কিন্তু এই সম্পর্ক উন্নয়ন হতে হবে মর্যাদার ভিত্তিতে, সাম্যের ভিত্তিতে। ভারত শুধু আওয়ামী লীগের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে এই দেশকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে, সেই দিনকে কবর দিতে হবে।

আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে নাহিদ বলেন, দুই মাসে বিএনপির হাতে খুন হয়েছে ৩১ জন, ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১৪টি, বিএনপির চাঁদাবাজির খবর এসেছে ৮৩টি। কিন্তু সরকার কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। শাহবাগ খানার সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির কয়েকজন সদস্যকে বেধড়ক মারধর করেছে ছাত্রদলের নেতা-কর্মী। এটার এখনো কোনো মামলা নেয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি জানান, এই মামলাটা কেন নেওয়া হচ্ছে না। থানার ভেতর প্রবেশ করে ওসি রুমে ডাকসুর দুইজন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলা করা হয়েছে।

নাহিদ বলেন, জঙ্গিবাদ নিয়ে নতুন করে কথা আসছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন জঙ্গিবাদ নেই, আবার প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা বলছেন জঙ্গিবাদ আছে। সরকারের প্রতি অনুরোধ থাকবে আপনারা একটু সমন্বয় করে বক্তব্য দিন। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ বাংলাদেশের সিকিউরিটি প্রশ্ন এবং এটা সরকার এককভাবে ডিল করতে পারবে না। এতে জাতীয় ঐক্য লাগবে এবং সরকারকে আমরা সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করবো। তবে বিগত আমলের মতো জঙ্গিবাদকে ওয়্যার অন টেরর প্রজেক্ট হিসেবে যাতে না দেখা হয়।'

সংসদে সরকারি দলের সদস্যরা যেভাবে স্তুতি করেছে, যেভাবে সংবিধান সংস্কার পরিষদকে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে, যেভাবে গণভোটকে অস্বীকার করেছে, তাতে আমি অনেক হতাশ হয়েছি। আশা করি, আমাদের এই হতাশা অতিদ্রুতই শেষ হবে এবং আমরা যেই কমিটমেন্ট জনগণের কাছে করেছি সেই সকল প্রতিশ্রুতি আমরা রক্ষা করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবো।