কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় চার আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। একই মামলায় অপর আসামি ইসমাইল হোসেন জনিকে (২৫) তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ৭টায় কুমিল্লা আমলি আদালত-৬ এর বিচারক আবেদা সুলতানা এ নির্দেশ দেন।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) টিটু কুমার নাথ কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্বীকারোক্তি দেওয়া আসামিরা হলেন ইমরান হোসেন হৃদয় (৩৭), মোহাম্মদ সোহাগ (৩০), মোহাম্মদ সুজন (৩২) ও রাহাতুল রহমান জুয়েল (২৭)।
টিটু কুমার নাথ বলেন, কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫ আসামিকে বিকেল সাড়ে ৩টায় কুমিল্লা আমলি আদালত-৬-এ হাজির করা হয়। এ সময় আদালতের বিচারক আবেদা সুলতানার নিকট প্রত্যেক আসামির ১০ দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়। পরে বিচারক মামলার ২ নম্বর আসামি ইসমাইল হোসেন জনির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং বাকি চার আসামি নিজেদের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারার জবানবন্দি দেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আরো বলেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে ইসমাইল হোসেন জনির কাছ থেকে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আমরা আশাবাদী।
এর আগে শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোট ৫ জনকে আটক করে কুমিল্লা র্যাব-১১।
নিহত বুলেট বৈরাগী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুশীল বৈরাগীর ছেলে।
বুলেট বৈরাগী চট্টগ্রামে ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রামের অলঙ্কার মোড় থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে বাসে রওনা হন। সর্বশেষ রাত ২টা ১০ মিনিটে মা নিলীমা বৈরাগীর সঙ্গে তার কথা হয়। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পরদিন শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় আইরিশ হোটেলের পাশে তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা হাইওয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন।