কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ‘পীর’ আব্দুর রহমান শামিম ওরফে শামিম জাহাঙ্গীরকে হত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২৬ এপ্রিল) দিবাগত গভীর রাতে ফিলিপনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যার ঘটনার ১৫ দিন পর এই প্রথম গ্রেপ্তারের ঘটনা।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন পশ্চিম দক্ষিণ ফিলিপনগর বিপ্লব ও আলিফ ইসলাম। সোমবার (২৭ এপ্রিল) তাদের আদালতের মাধ্যমে কুষ্টিয়া কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাত ২টার দিকে দৌলতপুর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল ফিলিপনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শামিম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার একাধিক ভিডিও ফুটেজ ও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পুলিশের হাতে রয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের ধরতে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ওসি জানান, অভিযানের সময় আরও এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হলেও সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গত ১১ এপ্রিল দুপুরে কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে বিক্ষুব্ধ জনতা ফিলিপনগর এলাকায় অবস্থিত দরবার শরিফে হামলা চালায়। হামলাকারীরা দরবার প্রধান শামিম জাহাঙ্গীরকে হত্যা করে। এ সময় দরবার শরিফে ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটে। হামলায় নিহত শামিমের তিন অনুসারীও গুরুতর আহত হন।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত ১৩ এপ্রিল রাতে নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর এই প্রথম দুজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলো পুলিশ।