যশোরের শার্শার উলাশী খালের পাড়ে আজ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল ৫০ বছরের দুই ইতিহাস। ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর যখন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উলাশীতে দেশের প্রথম স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচির সূচনা করেন। তখন ৩০ বছরের টগবগে যুবক ছিলেন শাহাদাত। সেসময় তিনি ঝুড়ি-কোদাল হাতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গী হয়েছিলেন। আজ ৮০ বছর বয়সে সেই একই স্থানে দাঁড়িয়ে শাহাদাত হোসেন। দেখলেন, তার যৌবনের স্মৃতিধন্য সেই খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করছেন শহীদ জিয়ার সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ সকালে উলাশী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী যখন উপস্থিত বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছিলেন। তখন সাদা দাঁড়ি আর বয়সের ভারে ন্যুব্জ শাহাদাত হোসেনকে দেখে তিনি নিজেই এগিয়ে যান। পরম শ্রদ্ধায় প্রবীণ এই মানুষটির হাত ধরে প্রধানমন্ত্রী স্মিত হেসে জিজ্ঞেস করেন, ‘চাচা, আমার বাপের নাম কী?’
জবাবে আবেগাপ্লুত শাহাদাত হোসেন অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে উচ্চারণ করেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম। ওই বৃদ্ধ প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, ‘আপনার বাবা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, আর মা বেগম খালেদা জিয়াও তো প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।’ এরপর প্রধানমন্ত্রী তার বয়সের কথা জানতে চাইলে শাহাদাত হোসেন স্মৃতিচারণ করে জানান, যখন এই খালের কাজ শুরু হয়েছিল তখন তার বয়স ছিল ৩০ বছর। আর এখন তিনি আশি ঊর্ধ্ব এক বৃদ্ধ।
কথোপকথনের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী হাসিমুখে জিজ্ঞেস করেন, ‘চাচা, আজকে কাটতে পারবেন না খাল?’ প্রধানমন্ত্রীর এমন রসিকতায় বৃদ্ধ শাহাদাত হোসেন হেসে বললেন, ‘বাবার সঙ্গে একবার এই মাটিতে কোদাল দিয়েছিলাম, এখন কি আর সেই শক্তি আছে বাজান!’
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত উলাশী খাল পুনঃখননে আজ সোমবার যশোরে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে যশোর ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। যশোর ইনস্টিটিউট পরিদর্শন ও যশোর ঈদগাহে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার উদ্দেশ্যে তার এই সফর বলে জানা গেছে।