চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চাতরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল খেয়ে অন্তত ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে পাউরুটি, দুধ, কলা ও ডিম খাওয়ার পরপরই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বমি, তীব্র পেটব্যথা ও মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও শিক্ষা কর্মকর্তা দ্রুত বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, এর আগেও গত ২২ এপ্রিল শংকরবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই ধরনের খাবার খেয়ে ২০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছিল, যার ফলে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'গাক'-কে ৪০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহা. মেফতাহুদ্দৌলা জানান, খাবার বিতরণের কিছুক্ষণ পর থেকেই একে একে শিশুরা অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং কান্নাকাটি শুরু করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম জানান, সংশ্লিষ্ট খাবারের নমুনা পরীক্ষার জন্য বিএসটিআইয়ে পাঠানো হয়েছে এবং আপাতত মিড-ডে মিল সরবরাহ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুসাব্বির হোসেন খান ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়ে বলেন, যদি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কোনো গাফিলতি প্রমাণিত হয়, তবে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বর্তমানে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের শারীরিক অবস্থার ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'গাক'-এর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বারবার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার এই ঘটনায় অভিভাবকরা স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মান ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রতিবেদনটি পাওয়ার পর প্রশাসন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।