Image description

কোনো কাজেই আসছে না লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে বিভিন্ন খালের ওপর কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাঁচটি স্লুইস গেট। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে এগুলো অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। অকেজো স্লুইস গেটগুলোর কারণে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে কৃষিজমিতে সেচসংকট, জলাবদ্ধতা, মাছের প্রজনন হ্রাস এবং খালে পলি ও ময়লা-আবর্জনা জমে অল্প সময়ের মধ্যে খাল ভরাট হয়ে যাওয়াসহ নানা সমস্যায় এসব অচল স্লুইস গেট এখন রামগঞ্জবাসীর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানা গেছে, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০০১-০২ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে এসব স্লুইস গেট নির্মাণ করা হয়েছিল। অথচ রামগঞ্জ পাউবো, বিএডিসি, কৃষি বিভাগসহ কেউ বলতে পারছে না—স্লুইস গেটগুলো কারা নিয়ন্ত্রণ করছে।

রামগঞ্জ-সোনাইমুড়ি বিরেন্দ্র খালের আনসার ভিডিপি ক্যাম্পের পাশের স্লুইস গেট, একই খালের আলীপুর ব্রিজের পাশের স্লুইস গেট, কাঁটাখালী ও পানপাড়ার মজুপুর স্লুইস গেটগুলো খালের ওপর কংক্রিট কাঠামোয় স্টিলের ফ্রেম বসানো গেট সিস্টেমে তৈরি করা হয়েছে। স্লুইস গেটগুলো এখন আর কোনো কাজে আসছে না। গেট ছাড়াই খালের ওপর অসাড় অবস্থায় খাল দখল করে অকেজো স্লুইস গেটগুলো দাঁড়িয়ে আছে। খালের পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নেই। খালজুড়ে বিদ্যমান কচুরিপানা ও ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়। খালগুলো পলি ও ময়লা আবর্জনা জমে সরু হয়ে আছে। কিছু স্থানে জমাটবাঁধা পানি কালো হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

কৃষক আবুল মান্নান পাটোয়ারী বলেন, ‘সরকার কৃষকদের চাষাবাদের সুবিধার জন্য স্লুইস গেটগুলো তৈরি করেছিল। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণ না করার কারণে কিছুদিন পরই গেটগুলো নষ্ট হয়ে গেছে।’ অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য বাচ্চু মিয়া, ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন ও সমাজকর্মী আনোয়ার হোসেনসহ স্থানীয়রা জানান, স্লুইস গেটগুলো সেচের সুবিধার জন্য করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি।

রামগঞ্জ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, স্লুইস গেটগুলো বিএডিসি থেকে করা হয়নি। অন্য কোনো বিভাগ থেকে করা হয়েছে কি না, তাও জানা নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পউবো) রামগঞ্জ উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (এসও) মো. সাকিল মাহমুদ জানান, স্লুইস গেটগুলো তাদের বিভাগের আওতায় নয়। গত বছর বন্যার সময় তারা এ নিয়ে বেশ ঝামেলায় পড়েছিলেন; দেখেছেন স্লুইস গেটগুলো খুব খারাপ অবস্থায় রয়েছে।

রামগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মো. সাব্বির আহমেদ সিফাত জানান, স্লুইস গেটগুলো কৃষি বিভাগের আওতায় করা হয়নি, তাই এ ব্যাপারে কোনো তথ্য কৃষি অফিসে নেই। স্লুইস গেটগুলো সক্রিয় না থাকায় চাষাবাদে সেচের জন্য যে পানি দরকার হয়, তা সময়মতো পাওয়া যায় না। আবার অতিবৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে চাষাবাদ ও ফসল উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

রামগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী সাজ্জাদ মাহমুদ খান জানান, উপজেলা প্রকৌশল অফিসের আওতায় জানামতে কাঁটাখালিতে একটি স্লুইস গেট আছে। বাকিগুলো কোন বিভাগ থেকে করা হয়েছে, তা জানা নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা কাঁটাখালির স্লুইস গেটটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বরাবর চিঠি চালাচালি করে আসছি; বরাদ্দ পেলে সংস্কার করে ব্যবহারের উপযোগী করা হবে।’

রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাশিদ বিন এনাম জানান, স্লুইস গেটগুলো যদি ক্ষতির কারণ হয় তবে সেগুলো অপসারণ করতে হবে। আর যদি সংস্কার করলে মানুষের উপকারে আসে, তবে সংস্কারের ব্যবস্থা নিতে হবে। এগুলো কোন বিভাগ থেকে করা হয়েছে, সে ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।