জাতীয় সংসদে সরকারদলীয় এমপি আবদুল ওয়াদুদ ভূঞার বক্তব্য ঘিরে হট্টগোল দেখা গেছে। তিনি বিরোধী দলের তীব্র সমালোচনা করেন এবং ‘গুপ্ত’ ইস্যু নিয়ে কথা বলেন। এ সময় বিরোধীদলীয় সদস্যরা বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। পরে সরকারদলীয় সদস্যরাও পাল্টা টেবিল চাপড়াতে থাকেন।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে আলোচনায় অংশ নিয়ে ওয়াদুদ ভুঞা বলেন, চট্টগ্রামে সিটি কলেজে ছাত্রদলের ওপর হামলা করেছে কারা? শিবির। কী অপরাধ ছিল ছাত্রদলের? ছাত্রদল শুধু বলেছে গুপ্ত, লিখেছে গুপ্ত।
তিনি বলেন, ‘সরকারকে নাজেহাল করতে চক্রান্ত চালাচ্ছে বিরোধী দল। আমি বলতে চাই আজকে সংসদে আমাদের বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা যে আচরণ দেখাচ্ছেন, এতে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশে আগামী দিনে সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি তারা করতে দেবেন না। এটাই প্রতীয়মান হচ্ছে। বিরোধী দলকে আমি এটাও বলে দিতে চাই, আমাদের যারা ভোট দিয়েছে তারা আঙ্গুল চুষবে না, বসে থাকবে না।
বিরোধী দলের তীব্র সমালোচনা করে ওয়াদুদ ভুঞা বলেন, একাত্তরের স্বাধীনতাযুদ্ধকে তারা মেনে নিতে পারেনি। যারা ৭১ সালের স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারে না, তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন চাইতে পারে না। ৭১ সালের জন্ম হওয়া বাংলাদেশকে তারা মেনে নিতে পারেনি বলে আজকে সদ্যজাত সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করছে।
এরপর বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ফ্লোর নিয়ে বলেন, ‘প্রথমে আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এখানে যে অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, এটা এক্সপ্যাঞ্জ করা হোক। একজন সংসদ সদস্য সংসদের ভেতরে দাঁড়িয়ে যে হুমকির ভাষায় কথা বললেন, আমরা এতে আঘাত পেয়েছি। আমরা আমাদের ক্ষোভ প্রকাশ করছি। জনগণ বসে থাকবে না মানে কী? তিনি কি জনগণকে বিশৃঙ্খলার দিকে উস্কে দিচ্ছেন? এগুলো সংসদীয় আচরণ না।’
এ সময় স্পিকার বলেন, ‘আমরা পরীক্ষা করে দেখব, যদি কোনো অসংসদীয় ভাষা থাকে, সেটা এক্সপাঞ্জ করব। তবে যেসব বক্তব্য এসেছে, এটা তো বাংলাদেশের রাজনীতির ভাষা। আমরা চুপ করে থাকব না—এইগুলো তো শত বছর ধরে রাজনীতিবিদরা বলে এসেছেন। আপনারা বক্তৃতার সময় এর জবাব দেবেন, কিন্তু বক্তব্য চলাকালে অনুগ্রহ করে ডিস্টার্ব করবেন না।’