Image description
মালদ্বীপে বৈধপথে অবৈধ জনশক্তি পাচার

২০২৪ সালে মালদ্বীপে ১৫০ জন কর্মী পাঠানোর অনুমোদন পায় রিক্রুটিং এজেন্সি ‘দ্য ইফতি ওভারসিজ’। বেশ কিছু শর্তসাপেক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ অনুমোদন দেয়। অনুমোদনপত্রে গন্তব্য দেশের নির্দিষ্ট কোম্পানির নাম, চুক্তির শর্ত ও কর্মীদের নিরাপত্তা সুবিধা নিশ্চিতসহ প্রায় এক ডজন স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল। অথচ দুই বছর পর সেই চিঠি দেখিয়ে মালদ্বীপে কর্মী পাঠাতে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে অনুমোদন নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এরই মধ্যে বেশ কিছু কর্মী পাঠানোও হয়েছে। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওই অনুমোদনের বিপরীতে কর্মীদের পাঠানো হচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কয়েকটি কোম্পানিতে। সেসব কোম্পানিকে কর্মী পাঠানোর অনুমোদন দেয়নি মন্ত্রণালয়। সরকার নির্ধারিত ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা নির্ধারিত থাকলেও কর্মীপ্রতি নেওয়া হয়েছে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা। মালদ্বীপের সরকারি ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা গেছে আরও ভয়াবহ তথ্য। এসব কর্মীর কাজের অনুমতিপত্রের (ওয়ার্ক পারমিট) মেয়াদ আছে মাত্র দুই থেকে তিন মাস। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনপত্রে বেশকিছু নির্দেশনা থাকলেও তার কোনোটাই মানা হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৩ এপ্রিল প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মসংস্থান শাখা-৪ থেকে অনুমোদিত একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘মেসার্স ইফতি ওভারসিজের (আরএল-৮৯৪) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মালদ্বীপের ‘ফেডো প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে’ বিভিন্ন পদে ১৫০ জন কর্মীর নিয়োগানুমতি নিম্নলিখিত শর্তসাপেক্ষে নির্দেশক্রমে প্রদান করা হলো।’

চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘বাসস্থান, আহার, মেডিকেল, রেসিডেন্ট পারমিট, যাতায়াত কোম্পানি কর্তৃক প্রদান করা হবে; কর্মঘণ্টা ৮ ঘণ্টা, সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টা, চুক্তির মেয়াদ দুই বছর; চাকরির অন্য শর্তাবলি মালদ্বীপের শ্রম আইন অনুযায়ী প্রযোজ্য হবে।’

চিঠিতে ১৫টি পদের বিপরীতে ১৫০ জনের অনুমোতি দেওয়া হয়। বেতন লেখা হয় ৩০০ থেকে ৩৫০ ডলার। এ ছাড়া চিঠির নিচে প্রায় এক ডজন শর্তারোপ করা হয়। যেসব শর্ত রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য মানা বাধ্যতামূলক। ৭ নম্বর শর্ত ছিল—কর্মীর ভিসা এবং ফ্লাইট নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে রিক্রুটিং এজেন্সি কর্তৃক অভিবাসন ব্যয় সর্বোচ্চ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা কর্মীর কাছ থেকে চেক বা ব্যাংক ড্রাফট অথবা পে-অর্ডারের মাধ্যমে গ্রহণ করা যাবে। এর প্রমাণপত্র বিএমইটির মহাপরিচালক বরাবর জমা দিতে হবে। এ ছাড়া ৮ নম্বর শর্তে বলা হয়েছে, চুক্তিপত্রের কোনো শর্ত লঙ্ঘন হবে না; অনুমোদিত কর্মীরা কোম্পানিতে অবশ্যই চাকরি পাবেন এবং প্রত্যেক কর্মীকে প্রস্তাবিত বেতন-ভাতা, আবাসন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সিকে কর্মীর থাকা-খাওয়ার খরচ ও প্রত্যাবর্তন ব্যয়সহ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আরোপিত ক্ষতিপূরণ প্রদানে বাধ্য থাকবে মর্মে তিনশ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দাখিল করতে হবে। এ ছাড়া ১০ নম্বরে ভিসা ডেলিগেশন সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য যাচাই করতে হবে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব শর্তের কোনোটাই মানছে না দ্য ইফতি ওভারসিজ। গত ৬ থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত তিন দিনে অনুমোদিত ৭৫টি ছাড়পত্রের তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছে কালবেলা। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে বড় ধরনের গরমিলের প্রমাণ মিলেছে। কর্মীপ্রতি সব মিলিয়ে খরচ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা হলেও কালবেলা বেশ কয়েকজন কর্মী এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পেরেছে, তাদের কাছ থেকে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছে, যা সরকার নির্ধারিত ব্যয়ের ৫ থেকে ৭ গুণ বেশি। এ ছাড়া ভিসা স্ট্যাটাস যাচাই করে দেখা গেছে, মন্ত্রণালয় থেকে দুই বছর মেয়াদি চুক্তির কথা বলা হলেও ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ দেওয়া হয়েছে মাত্র তিন মাসের। আরও ভয়াবহ তথ্য হচ্ছে, মন্ত্রণালয় থেকে যে কোম্পানিতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, সেই কোম্পানি থেকে একজন কর্মীও যাননি।

অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, বিএমইটি থেকে নেওয়া ছাড়পত্রে মালদ্বীপের কোম্পানির নাম ফেডো প্রাইভেট লিমিটেড। কিন্তু অসংগতি মেলে ভিসা স্ট্যাটাস যাচাইয়ে। মালদ্বীপের সরকারি ওয়েবসাইটে ভিসা যাচাই করে দেখা যায়, প্রত্যেক কর্মীর কোম্পানি ও কাজের ধরন ভিন্ন। গত ৬ এপ্রিল মো. বাদল মিয়া নামে এক ব্যক্তির ছাড়পত্র অনুমোদন হয়; যার পাসপোর্ট নম্বর এ২০৭২০৩** ও ভিসা নম্বর ডব্লিউপি ০০৭৬৯০৩*। বিএমইটির স্মার্টকার্ডে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের জায়গায় লেখা ‘ফেডো প্রাইভেট লিমিটেড’। তবে ভিসা যাচাই করে দেখা যায়, মালদ্বীপের ওয়েবসাইটে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের নাম ‘Huravee farm’। ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ রয়েছে চলতি বছরের ৯ জুন পর্যন্ত।

একই দিন আরও বেশ কয়েকজন ছাড়পত্র নিয়েছেন। তাদের মধ্যে মোহাম্মদ সুহেল মিয়ার পাসপোর্ট নম্বর এ০২৭৪৫৯** ও ভিসা নম্বর ডব্লিউপি ০০৭৬৩৬**। বিএমইটির ছাড়পত্রে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের নাম ফেডো প্রাইভেট থাকলেও মালদ্বীপের সরকারি ওয়েবসাইটে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা রয়েছে, ‘one realty pvt ltd’। ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ রয়েছে চলতি বছরের ২০ মে পর্যন্ত। মজিবুর মোল্লার পাসপোর্ট নম্বর এ২১২৭৯৭** ও ভিসা নম্বর ডব্লিউপি ০০৭৭২২**। ছাড়পত্রে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ফেডো প্রাইভেট লিমিটেড থাকলেও সরকারি ওয়েবসাইটে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের নাম ‘white garden investment’। ভিসার মেয়াদ ২৩ জুন পর্যন্ত। বায়েজিদ বকতিয়ারের পাসপোর্ট নম্বর এ ০৩২৮৬৫** ও ভিসা নম্বর ডব্লিউপি ০০৭৭০৩**। নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের জায়গায় ‘Mercado pvt ltd’। ভিসার মেয়াদ ১৩ জুন পর্যন্ত। আনিস মিয়ার পাসপোর্ট নম্বর এ ১৬৩১৮৫** ও ভিসা নম্বর ডব্লিউপি ০০৭৬৫৬**। ছাড়পত্রে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সেই ফেডো থাকলেও মালদ্বীপের সরকারি সাইটে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ‘Villa shipping and trading company pvt ltd’ এবং ভিসার মেয়াদ রয়েছে ১ জুন পর্যন্ত। কাজল রানার পাসপোর্ট নম্বর এ ২০২৫৪৭** ও ভিসা নম্বর ডাব্লিউপি ০০৭৬৭৩**। ছাড়পত্রে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের নাম ফেডো। কিন্তু মালদ্বীপের সরকারি ওয়েবসাইটে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের নাম ‘Suria H&R pvt ltd’। ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ ৩০ মে পর্যন্ত। সুজন মিয়ার পাসপোর্ট নম্বর এ ২১৬৯৭৭** ও ভিসা নম্বর ডব্লিউপি ০০৭৬৯৬**। ছাড়পত্রে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের নাম ফেডো হলেও বাস্তবে দেখা যায়, ‘In tailors’। ভিসার মেয়াদ ১৯ জুন পর্যন্ত।

৭ এপ্রিল ছাড়পত্র পাওয়া জামির হোসেনের পাসপোর্ট নম্বর এ ২১২০৬৩** ও ভিসা নম্বর ডব্লিউপি ০০৭৭৪০**। বিএমইটির ছাড়পত্রে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের নাম ফেডো। মালদ্বীপের ওয়েবসাইটে রয়েছে ‘Maldives ports ltd’। ভিসার মেয়াদ ১ জুলাই পর্যন্ত। সোহেল বাবুর পাসপোর্ট নম্বর এ ১৯১৭৫১** ও ভিসা নম্বর ডব্লিউপি ০০৭৭২৮**। ছাড়পত্রে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের নাম ফেডো। মালদ্বীপের সরকারি ওয়েবসাইটে দেখা যায়, ‘snt maldives’। ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ ২৭ জুন পর্যন্ত। মো. রিয়াদের পাসপোর্ট নম্বর এ ২০৭৬৪৫** ও ভিসার নম্বর ডব্লিউপি ০০৭৭৪৪৯৩। নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের নাম ফেডো। বাস্তবে দেখা যায়, ‘tic tac investment’। ভিসার মেয়াদ ৫ জুলাই পর্যন্ত। মো. আরিফ আলীর পাসপোর্ট নম্বর এ ০০৯৫৭০** ও ভিসা নম্বর ডব্লিউপি ০০৭৬৮৪। ছাড়পত্রে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ফেডো। মালদ্বীপের সরকারি সাইটে ‘siorai Maldives pvt ltd’। ভিসার মেয়াদ ৮ জুন পর্যন্ত।

একইভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে ৮ এপ্রিল আরও বেশ কিছু ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে মোহাম্মদ ইয়াসিনের পাসপোর্ট নম্বর এ ০৬৩৭১১** ও ভিসার নম্বর ডব্লিউপি ০০৭৬৯৭**। ছাড়পত্রে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের নাম ফেডো থাকলেও রয়েছে ‘Fahi Dhiriulhun Corporation Ltd’। ভিসার মেয়াদ ১২ মে পর্যন্ত। মো. মহিউদ্দিনের পাসপোর্ট নম্বর এ ১৫৮১২১** ও ভিসার নম্বর ডাব্লিউপি ০০৭৬৯৫**। ছাড়পত্রে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ফেডো। বাস্তবে ‘Fahi Dhiriulhun Corporation Ltd’। ভিসার মেয়াদ ১০ জুন পর্যন্ত। আলামিনের পাসপোর্ট নম্বর এ ১১৫৭৩৬৯৭ ও ভিসার নম্বর ডব্লিউপি ০০৭৬৯৪**। ছাড়পত্রে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের নাম ঠিক থাকলেও বাস্তবে দেখা যায়, ‘Fahi Dhiriulhun Corporation Ltd’। ভিসার মেয়াদ ১০ জুন পর্যন্ত। আশরাফুল খানের পাসপোর্ট নম্বর এ ১৯১২৮৩** ও ভিসার নম্বর ডব্লিউপি ০০৭৬৯৩**। বিএমইটির ছাড়পত্রে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের নাম ফেডো। বাস্তবে দেখা যায়, ‘Villa shipping and trading company ltd’। ভিসার মেয়ার ১০ জুন পর্যন্ত। মোহাম্মদ আল আমিনের পাসপোর্ট নম্বর এ ২০৬৫৮২** ও ভিসার নম্বর ডব্লিউপি ০০৭৬৫৭**। ছাড়পত্রে নিয়োগকারী কোম্পানির নাম ফেডো। বাস্তবে দেখা যায়, ‘VILLA Shipping and trading company pvt ltd’। ভিসার মেয়াদ ১ জুন পর্যন্ত। মো. জুয়েলের পাসপোর্ট নম্বর এ ০৮৪১৬৪** ও ভিসা নম্বর ডব্লিউপি ০০৭৬৯৫**। কোম্পানির নামের জায়গায় লেখা রয়েছে ‘emerging technologies’। ভিসার মেয়াদ ১০ জুন পর্যন্ত।

উল্লিখিত ব্যক্তিরা ছাড়া গত ৬, ৭ ও ৮ এপ্রিল জালিয়াতির মাধ্যমে ছাড়পত্র পাওয়া আরও বেশ কয়েকজনের নথি রয়েছে কালবেলার হাতে।

মালদ্বীপে পৌঁছেছেন এমন বেশ কয়েজন কর্মীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে কালবেলা। গত ৮ মার্চ মালদ্বীপে যাওয়ার জন্য ছাড়পত্র পেয়েছেন এমন একজনের মা কালবেলাকে বলেন, ‘আমার ছেলের সঙ্গে তো কথা অইছে। কাম তো পাইছে। যেই রিসোর্টে দেওয়ার কথা ছিল, সেই রিসোর্টে দেয় নাই। এহন পোলা আমার কষ্ট করতাছে।’

বেতনের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘মাত্র আড়াইশ ডলার। দেওয়ার কথা তো ছিল সাড়ে তিনশ ডলার।’ বিদেশে যেতে খরচের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সাড়ে ৬ লাখ।’

১২২ টাকা করে ডলার রেট ধরলে মাসে বেতন দাঁড়ায় মাত্র ৩০ হাজার ৫০০ টাকা। সে হিসাবে খরচ হওয়া সাড়ে ৬ লাখ টাকা তুলতে লাগবে ২০ মাসেরও বেশি সময়। অথচ ওই ব্যক্তির ভিসার মেয়াদ আছে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত।

মালদ্বীপে পৌঁছেছেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা হয় কালবেলার। তারা এখনো কাজ পাননি জানিয়ে বলেন, তাদের সবাইকে একটি রুমের মধ্যে রাখা হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যেই কাজ পাবেন বলে জানানো হয়েছে। তবে কেউই ফেডো প্রাইভেট কোম্পানিতে যাননি। এমনকি এ নামের কোনো কোম্পানি তারা চেনেন না বলেও জানান। প্রত্যেকেই ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা দিয়ে মালদ্বীপে গিয়েছেন বলে তারা নিশ্চিত করেছেন।

এসব জালিয়াতির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে গত ১৪ এপ্রিল প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সচিবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। বিস্তারিত জেনে সচিবের একান্ত সচিব মো. তরিকুল ইসলাম দেখা করার অনুমতি না দিয়ে নিজেই সচিবের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান। তিনি প্রতিবেদকের কাছ থেকে অভিযোগের বিস্তারিত লিখে রাখেন। এরপর যোগাযোগ করা হয় কর্মসংস্থান শাখার যুগ্ম সচিব মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি বিস্তারিত শুনে একই শাখার উপসচিব গাজী মো. শাহেদ আনোয়ারকে ডেকে ‘এটা কীভাবে ঘটল’ বলে বিষয়টি খতিয়ে দেখত বলেন। এরপর উপসচিব প্রতিবেদকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্রের ফটোকপি রাখেন।

যুগ্ম সচিব মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরী বিএমইটিতে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়ে কালবেলাকে বলেন, ‘আমরা খোঁজ নেব। এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তবে কালবেলার অনুসন্ধান বলছে, ১৪ এপ্রিলের পরও একই কোম্পানি একইভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে আরও অন্তত অর্ধশত ছাড়পত্রের অনুমোদন করিয়েছে। যার মধ্যে গত ১৫ এপ্রিল ছাড়পত্র পেয়েছেন মো. গিয়াস উদ্দিন। যার পাসপোর্ট নম্বর এ ৮১৭৫৮০** ও ভিসা নম্বর ডাব্লিউপি ০০৭৭০৭**। এই ব্যক্তির ছাড়পত্রেও নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের নাম ফেডো। কিন্তু বাস্তবে রয়েছে ‘A4z construction pvt ltd’। ভিসার মেয়াদ ১৪ জুন ২০২৬ পর্যন্ত।

জানতে চাইলে দ্য ইফতি ওভারসিজের ম্যানেজিং পার্টনার মো. রুবেল কালবেলাকে বলেন, ‘আমাদের অথরাইজেশন দেওয়া হয়েছে।’ কে কাকে অথরাইজেশন দিয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কাগজপত্র নিয়ে আপনার সঙ্গে দেখা করি। আপনাকে ডকুমেন্টস দিই, দেখেন।’ এরপর তাকে কাগজপত্র নিয়ে অফিসে এসে দেখা করতে বলা হলেও গতকাল বুধবার এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি দেখা করেননি।

এ বিষয়ে বিএমইটির মহাপরিচালক মো. আবুল হাছানাত হুমায়ূন কবীর কালবেলাকে বলেন, ‘মিনিস্ট্রি থেকে নিয়োগানুমতি নিয়ে সত্যায়িত যে ফাইলগুলো আসে, ধরেই নেওয়া হয় সেগুলো সঠিক। সেগুলো লোয়েস্ট লেভেলেই (নিচের স্তরে) অনুমোদন দেওয়া হয়ে যায়। আপনি যে বিষয়টি বলেছেন সেটি আমার জানা নেই। আমি কালকে (আজ) খোঁজ নিয়ে দেখব।’

রিক্রুটিং এজেন্সির ভয়াবহ এ জালিয়াতি নিয়ে কথা হয় ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম অ্যান্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল ইসলাম হাসানের সঙ্গে। তিনি সবটা শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন। কালবেলাকে শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘যার যে কোম্পানিতে কাজ পাওয়ার কথা সে কোম্পানিতে কাজ দিতে হবে। চুক্তি অনুযায়ী যে বেতন পাওয়ার কথা সেটা দিতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে অবশ্যই আইনের ভায়োলেশন। এক্ষেত্রে ওই কর্মী অভিযোগ না করলেও বিএমইটি নিজ উদ্যোগে ব্যবস্থা নিতে পারে।’