বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পর এবার নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) এক শিক্ষকের আমরণ অনশনে বসার ঘটনা ঘটেছে। পেশাগত বঞ্চনা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে আমরণ অনশনে বসেছিলেন ওশানোগ্রাফি বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. গোলাম মোস্তফা। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি আদায়ের আশ্বাস পাওয়ার পর তিনি অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনারে এই অনশন কর্মসূচি শুরু হয়। এ সময় তার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে অবস্থান নেন বিভাগের সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগী শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে আমাকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি বঞ্চিত করে আমার প্রাপ্য অধিকার, পেশাগত অবস্থান ও মর্যাদাহানি করে আমাকে চরমভাবে মানসিক নির্যাতন করেছে। বিভিন্ন ধাপে ধাপে প্রশাসন যেসব তথ্য চেয়েছে সব দিয়েছি, যেসব অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে এসেছে সেগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। তারপরও প্রশাসনকে শেষ পর্যন্ত সহযোগিতা করে গিয়েছি, এই আশায় যে আমার পদোন্নতি যেন এইবার অন্তত হয়ে যায়। কিন্তু তারপরও বিভিন্ন টালবাহানা করে করে নতুন প্রশাসনও আমার অধিকার ফিরিয়ে দেয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “জীবনে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সকল পরীক্ষায় মেধাস্থান ১-২-৩ এর মধ্যে থেকেছি। সবচেয়ে নোংরা বিষয়টি হলো আমার নামে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে নকল করার কারণে শাস্তি পেয়েছি মর্মে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে, যা ভেরিফিকেশনে মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো- আজ অবধি আমি পদোন্নতি বঞ্চিত হয়ে রয়েছি। সেই সাথে পেলাম না আমার জীবনে ঘটে যাওয়া অপূরণীয় ক্ষতির ক্ষতিপূরণ। ইতিমধ্যে অধ্যাপক পদে পদোন্নতির ওভারডিউ হয়েছে ০৪ বছরের বেশি।”
সাত (০৭) দিনের আলটিমেটাম দিয়ে তিনি জানান, প্রো-ভিসি স্যারের কথায় আমি আজকে অনশন স্থগিত করেছি। আগামী ৭ দিনের মধ্যে উনারা যদি আমার প্রাপ্য সম্মান ও অধিকার ফিরিয়ে না দেন তাহলে আমি আবারও অনশন শুরু করবো। এই অনশন আমি আমার পদের জন্য করিনি, আমার সাথে যে অন্যায়, অপমান ও মানসিক নির্যাতন হয়েছে তার জন্য করেছি।
অনশন ভাঙতে এসে নোবিপ্রবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল হক বলেন, আমাদের সহকর্মী এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাবে এটি কোনভাবেই কাম্য না। সেজন্য আমি, ট্রেজারার স্যারসহ সিনিয়র শিক্ষকবৃন্দ এখানে এসেছি। ভিসি স্যার প্রশাসনিক কাজে ঢাকায় আছেন। স্যারের সাথে আমরা কথা বলেছি। আমি আশ্বস্ত করছি আগামী ৭-১০ দিনের মধ্যে উনার লিগ্যালি যতটুকু নায্য পাওনা তা ফিরিয়ে দেওয়া হবে।