ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীরা দ্রুত বৈধ আবাসন নিশ্চিতের দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করছেন। সোমবার সকাল ৮টা থেকে মধুর ক্যান্টিনের সামনে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি বিকেল ৬টা পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছেন তারা।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ক্লাস শুরুর পরও আবাসিক হলে সিট না পাওয়ায় পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। তাই তারা বৈধ সিটের দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
এদিকে আবাসন সংকট দীর্ঘদিনের হলেও নতুন সেশনের শিক্ষার্থীদের জন্য তা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। এর ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে মেস, সাবলেট কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাসায় অবস্থান করছেন। এতে সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকির কথাও তুলে ধরছেন তারা।
গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর প্রায় এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ নবীন এখনো কোনো আবাসিক হলে বৈধ আসন পাননি। এতে নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী আসহাব আহমেদ সাহিব বলেন, আমরা স্বপ্ন নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি, কিন্তু শুরুতেই এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে আমাদেরকে পড়তে হচ্ছে। প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ক্লাসে আসতে হচ্ছে, ফলে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আবাসনের অভাবে অনেকেই নিয়মিত ক্লাস করতে পারছে না।
তিনি আরও বলেন, বাইরে থাকার কারণে অনেকের খরচ বেড়ে যাচ্ছে, একই সঙ্গে খাবার ও নিরাপত্তা- দুই দিক থেকেই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক। আমরা চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সবার জন্য বৈধ সিট নিশ্চিত করা হোক।
শিক্ষার্থীরা জানান, কর্মসূচির প্রথম দুই ঘণ্টার মধ্যেই সহস্রাধিক শিক্ষার্থী এতে স্বাক্ষর করেছেন, যা তাদের দাবির প্রতি ব্যাপক সমর্থনের ইঙ্গিত দেয়। তারা বলছেন, গণস্বাক্ষরের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী বার্তা প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দিতে চান।
আরেক শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান তিথি বলেন, আমাদের অনেক সহপাঠী এখনো ঢাকায় ঠিকমতো সেটেল হতে পারেনি। কেউ আত্মীয়ের বাসায়, কেউ আবার অনিরাপদ মেসে থাকছে। এতে মানসিক চাপও বাড়ছে। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত এই সংকটের স্থায়ী সমাধান দিক।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, গণস্বাক্ষর শেষে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিবেন তারা।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তারা।