নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় রাকিব নামে অসুস্থ এক জেলের চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা এবং নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের কাছে সহায়তা চেয়েও যথাসময়ে সাড়া পাননি ওই জেলে।
এই অভিযোগের জবাবে তার মনে ছিল না বলে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ। সোমবার (২০ এপ্রিল) ফেসবুকে নিজের আইডিতে ‘জবাবদিহিতা’ শিরোনামে এক পোস্টে তিনি এ নিয়ে ব্যাখ্যা দেন।
পোস্টে হান্নান মাসউদ লেখেন, যেকোন ভুলেরই জবাবদিহিতা করতে আমরা প্রস্তুত। ছোট ভাই মিরাজ যে বিষয়টি নিয়ে লিখেছে, সে বিষয়ে প্রথমেই আমি দুঃখ প্রকাশ করছি এবং একজন মানুষ হিসেবে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
“ছোট ভাই মিরাজ গত সপ্তাহে শনিবার রাত ১১টার দিকে আমাকে ওনার বিষয়টি জানায়, এর আগে বিষয়টি একেবারেই আমার অগোচরে ছিল। তার পরদিন সকাল ১১টায় নোয়াখালীতে জেলা আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করতে আমি রাত ১টার পর নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে রওনা করি এবং মিরাজকে জানাই ‘দুই দিন পর আমি ঢাকায় আসলে তুইসহ ওনাকে দেখতে যাবো, মনে করাইস।’”
‘এরপর বিষয়টি আমার আর মাথায় ছিল না। মিরাজও আজ পোস্ট দেয়ার আগে একবারের জন্যেও বিষয়টি মনে করায়নি। ওর কাছ থেকে সেদিন আমি রোগীর নাম্বারটা চেয়ে নিই, সেদিন রাতেই দুইবার কল করেও রেসপন্স পাইনি।’
‘সব মিলিয়ে বিষয়টি মাথায় না থাকা এবং যথাসময়ে ওনার পাশে দাঁড়াতে না পারায় আমি সত্যিই লজ্জিত।’
তরুণ এই এমপি বলেন, ‘তারপরও প্রতিদিনই অন্তত ২/৩জন রোগীর চিকিৎসায় কোন না কোনভাবে সহযোগিতা করা হয়, কাউকে এসে আমার কাছ থেকে ফিরে যেতে হয়নি। আমার নেতাকর্মীদের কাউকে না কাউকে দায়িত্ব দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই। হয়তো সেসব আড়ালে থেকে যায়, ভুলগুলোই সামনে আসে। ক্ষমাপ্রার্থী।’
এর আগে মিরাজ উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্টে দাবি করেন, সোনাদিয়া ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাকিব (৩৫) হান্নান মাসউদের সমর্থক ছিলেন। জাতীয় নির্বাচনের দিবাগত রাতে আনন্দ মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় তার হার্ট অ্যাটাক হয়। পরে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। চার সন্তানের জনক রাকিবের বড় মেয়ের বয়স মাত্র ১১ বছর। দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও অপারেশনের নির্দিষ্ট তারিখ না পাওয়ায় হতাশ ছিলেন তিনি।
মিরাজ দাবি করে বলেন, ‘রাকিব নিজেও স্থানীয় সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের সঙ্গে দেখা করে চিকিৎসার বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছিলেন। এ ছাড়া মিরাজ নিজেও একাধিকবার বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানালেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন। তার ভাষায়, “আমার মতো একজন অনুরোধ করার পরও সময় হয়নি, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে সহায়তা পাবে?’
তিনি আরও বলেন, ‘ভোটের সময় সক্রিয় থাকা এই জেলের মৃত্যুর ঘটনায় নেতাদের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি সতর্ক করেন—সাধারণ মানুষের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হলে জনপ্রিয়তার পতন ঘটে।’