যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, শান্তি চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরানের কাছে এটাই ‘শেষ সুযোগ’। যদি ইরান এই চুক্তিতে স্বাক্ষর না করে, তবে পুরো দেশটাই উড়িয়ে দেওয়া হবে। রোববার (১৯ এপ্রিল) ফক্স নিউকে তিনি এ কথা বলেন।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মতো ‘একই ভুল’ করবেন না। ওবামা প্রশাসন ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে একটি ব্যাপক পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যদি ইরান এই চুক্তিতে স্বাক্ষর না করে, তবে পুরো দেশটাই উড়িয়ে দেওয়া হবে।’
এর আগে তিনি নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ইরান গতকাল হরমুজ প্রণালিতে গুলি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তির সম্পূর্ণ লঙ্ঘন! এর মধ্যে অনেকগুলো গুলি একটি ফরাসি জাহাজ ও যুক্তরাজ্যের একটি মালবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। এটা ঠিক হয়নি, তাই না?
ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল যাচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, আমার প্রতিনিধিরা আলোচনার জন্য পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যাচ্ছেন। তারা আগামীকাল সন্ধ্যায় সেখানে পৌঁছাবেন।
ইরান সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে, তারা প্রণালিটি বন্ধ করে দিচ্ছে, যা অদ্ভুত, কারণ আমাদের অবরোধের ফলে এটি ইতোমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে। তারা না জেনেই আমাদের সাহায্য করছে, এবং এই পথ বন্ধ থাকায় তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন ডলার! যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ক্ষতিই হচ্ছে না।
তিনি বলেন, অনেক জাহাজ এই মুহূর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও আলাস্কার দিকে যাচ্ছে মালামাল বোঝাই করার জন্য, সৌজন্যে আইআরজিসি, যারা সবসময় ‘কঠোর লোক’ সাজার চেষ্টা করে! আমরা একটি অত্যন্ত ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত চুক্তির প্রস্তাব দিচ্ছি, এবং আমি আশা করি তারা তা গ্রহণ করবে।
ইরানে পুনরায় হামলার হুমকি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, যদি তারা তা না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও প্রতিটি সেতু ধ্বংস করে দেবে। ইরানের এই হত্যাযজ্ঞের অবসান ঘটানোর সময় এসেছে।
সূত্র: আলজাজিরা