Image description

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রবাস থেকে রণাঙ্গণের সেনাপতির মতো আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

 

রোববার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তিনি একথা বলেন।

 

তিনি বলেন, দেশের ভেতরে খালেদা জিয়া ছিলেন জাতীয় ঐক্যের প্রতীক ছিলেন আর প্রবাস থেকে ছিলেন তারেক রহমান। প্রবাস থেকে তারেক রহমান ঠিক সেনাপতির মতো রণাঙ্গণে কোন কর্মসূচির পর কোন কর্মসূচি দিতে হবে, কোন কর্মসূচি ঘোষণা করার পরে আন্দোলন সফল হবে সেসব দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন। আজকে তার বিরুদ্ধে যখন আমরা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শক্তিরা কথা বলতে যাই যখন ভুলে যাই, কাকে অপমান করে আমরা বড় হতে চাইছি। সেই বিবেচনাবোধ আমাদের মধ্যে কাজ করে না। এটা আমাদের আমাদের দুর্গতির সতর্কবাণী।

 

বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলার রায় ঘোষণার দিনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রায়ের পর উপস্থিত পুলিশ, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের মধ্যে অনেকেই সেদিন কেঁদেছিলেন, আর বিচারক পালিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু বেগম জিয়া অসীম সাহসিকতা নিয়ে পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়েছিলেন। তাকে যখন কোর্ট থেকে জেলখানায় নিয়ে যাওয়া হয় সেই দৃশ্য আমরা সবাই দেখেছিলাম। তাকে জেলে নেওয়ার পরের দিন আমাকে বন্দী করা হয়। ৪১ দিন আমাকে রিমান্ডে রাখা হয়েছিল। ফ্যাসিবাদের এই সময়ে সাড়ে তিন বছর কারাগারে থাকতে হয়েছে। শত জুলুম, অত্যাচারের মুখেও আমরা দেশ ও জনগণের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলাম, গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলাম।

 

শিমুল বিশ্বাস বলেন, তারেক রহমানের কথা ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আমরা শ্রমিক শ্রেণিকে যুক্ত করেছিলাম। শ্রমিক শ্রেণি অকাতরে জীবন দিয়েছেন। সহস্রাধিক মানুষ যে জীবন দিয়েছেন তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক শ্রেণি। আমাদের সব জীবন দেওয়ার লক্ষ্য ছিল একটা নিরাপদ জীবন গড়া।

 

তিনি বলেন, ডিবি অফিসে এপাড় আর ওপাড় (সরকারি ও বিরোধী দল), আমরা সবাই একসাথে ছিলাম। ডিবি অফিসের সেই করুণ পরিস্থিতি ও ভীতিকর দৃশ্যের সাক্ষী আমরা সবাই। আমার সহকর্মী যারা সামনে রয়েছেন অনেককে ডিবি অফিসে আমাদের সামনে আনা হতো ভয় দেখানোর জন্য, আতঙ্ক তৈরির জন্যে এবং আপসের প্রস্তাব দেওয়া হতো। এখানে উপস্থিত মন্ত্রীরা রয়েছেন, সদস্যরা রয়েছেন, বিরোধীদলীয় সদস্যরা রয়েছেন। ওই যে আমার সামনে হাত উঠিয়েছেন আমার সহকর্মী হাসনাত আবদুল্লাহও ছিলেন। আমরা সেখানে কী এক বিভীষিকাময় অবস্থা অতিক্রম করেছি। আমরা মাথানত করিনি, আপস করিনি। গণতন্ত্র ফেরানোর এই লড়াইয়ে যার যতটুকু অবদান তা আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি।