Image description

রাজধানীসহ সারা দেশে গৃহকর্মীদের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বাস্তবায়নে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে আজ রবিবার বিচারপতি রাজিক-আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

রুলে আদালত জানতে চেয়েছেন, গৃহকর্মীদের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন না করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি ডমেস্টিক সারভেন্টস রেজিস্ট্রেশন অর্ডিন্যান্স, ১৯৬১ কার্যকরভাবে প্রয়োগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে কেন আদালত নির্দেশ দেবেন না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

আইন সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব, নারী ও শিশু বিষয়ক সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

জনস্বার্থে মামলাটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী খাদিজাতুল কোবরা। রিট আবেদনের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন।

খাদিজাতুল কোবরা বলেছেন, ‘দেশে এ বিষয়ে আইন বিদ্যমান থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগে কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে গৃহকর্মীরা ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।’

‘তাছাড়া গৃহকর্মীরা অনেক সময় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়েন। সঠিক পরিচয় ও নিবন্ধন না থাকায় অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করতে পারে না পুলিশ।’- যোগ করেন তিনি।

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, দেশের অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমখাতের একটি উল্লেখযোগ্য অংশে দায়িত্ব পালন করছেন গৃহকর্মীরা। এদের অধিকাংশই নারী ও শিশু এবং অনিবন্ধিত, দালিলিক প্রমাণহীন এবং অনিয়ন্ত্রিত।

বাংলাদেশ সরকার ‘ডমেস্টিক ওয়ার্কার্স প্রটেকশন অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার পলিসি ২০১৫’ আত্মীকরণ করেছে যেখানে গৃহকর্মীদের ‘দুর্বল শ্রম গোষ্ঠী’ হিসাবে স্বীকৃতিও দিয়েছে। কিন্তু তাদের নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণে আজ পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।