Image description

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাছুম বলেছেন, ‘বর্তমান সরকারের গত দুই মাসের কার্যকলাপের কারণে মানুষের মধ্যে এই ধারণা দিন দিন প্রকট হচ্ছে যে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই।’ 

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে ফেনীতে রুকনদের এক শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

এ টি এম মাছুম বলেন, ‘একটি সুখী, সমৃদ্ধিশালী ও ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী কাজ করে যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী এ কাজ শুধু আল্লাহর জন্যই করছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এ দেশের অধিকাংশ ইসলামী দলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলাম। আমাদের সঙ্গে জুলাই আন্দোলনে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, সেই দলটিও যোগ দিয়েছিল। জনগণ জামায়াত জোটকে ভোট দিয়েছিল সরকার গঠন করার জন্য, কিন্তু আজ দেশবাসীর কাছে এটি পরিষ্কার হয়েছে যে, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জামায়াতকে হারানো হয়েছে। দেশি এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা চেয়েছিল জামায়াত যেন একটি আসনও না পায়, কিন্তু মানুষ যা চায় তা হয় না, আল্লাহ যা চান তাই হয়।


 

জামায়াতের এই নেতা আরো বলেন, ‘আল্লাহর মেহেরবানিতে এত ষড়যন্ত্রের পরও জামায়াতে ইসলামী আসন নিয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করছে। বর্তমান সরকারের গত দুই মাসের কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে এটা পরিষ্কার যে তারা দেশের মানুষের রায়ের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছে, জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। বর্তমানে সরকার আওয়ামী লীগের ভূমিকাই পালন করে যাচ্ছে।’

এ টি এম মাছুম বলেন, ‘সংসদে যতক্ষণ জনগণের পক্ষে কথা এবং কাজ করতে পারব, ততক্ষণ আমরা সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে যাব।

কিন্তু যদি সেখানে বিরোধী দলের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে আমাদের রাজপথ ছাড়া আর কোনো গতি নেই। আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তুলব। দেশবিরোধী শক্তির কাছে জামায়াত কখনো মাথা নত করেনি, আপস করেনি এবং করবে না।’

 

শহর আমির ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও শহর সেক্রেটারি মাওলানা সামাউন হাসানের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন, নোয়াখালী জেলা আমির মো. ইসহাক খোন্দকার, ফেনী জেলা আমির মুফতি আবদুল হান্নান, সাবেক ফেনী জেলা আমির এ কে এম শামছুদ্দিন, নায়েবে আমির অধ্যাপক আবু ইউসুফ, জেলা নায়েবে আমির মাওলানা মাহমুদুল হক।