Image description

পিরোজপুরের নাজিরপুরে গভীর রাতে ডাকাতির সময় বাড়ির লোকজন ও ডাকাতদের মধ্যে সংঘর্ষে এক ডাকাত নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন বাড়ির মালিক উজ্জ্বল বাহাদুর ও তার ছেলে মিশকাফ বাহাদুর।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাত ২টার দিকে সাতজনের একটি ডাকাতদল উপজেলার কলারদোয়ানিয়া গ্রামের উজ্জ্বল বাহাদুরের বাড়িতে ঢোকে। এ সময় তারা বাড়ির মালিককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করলে পরিবারের সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও কোপানোর ঘটনা ঘটে।

 

ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসতে শুরু করে। এ সময় ডাকাত দলের ছয় সদস্য ফাঁকা গুলি ছুড়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তবে সংঘর্ষে এক ডাকাত ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হয়।

 

পরে আহতদের উদ্ধার করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কিছু সময় পর ডাকাত দলের সদস্যকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। একই সঙ্গে গুরুতর আহত উজ্জ্বল বাহাদুর ও তার ছেলে মিশকাফ বাহাদুরকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়।

নিহত ডাকাত দলের সদস্য বরিশালের হিজলা উপজেলার একতা বাজার এলাকার মজিবর রাঢ়ির ছেলে দুলাল বলে জানা গেছে। তবে পালিয়ে যাওয়া সদস্যদের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি।

 

উজ্জ্বল বাহাদুর স্থানীয় একটি বেসরকারি কলেজের শিক্ষক ও ব্যবসায়ী বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে ডাকাতরা বাড়িতে ঢুকেছিল। তবে পরিবারের প্রতিরোধের মুখে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং এতে হতাহতের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

 

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন জাহান।

 

নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান বলেন, আহত ডাকাতকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসার কিছু সময় পরে তিনি মারা যান। এ ছাড়া আহত বাড়ির মালিক ও তার ছেলেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে।

 

নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, ডাকাতি ও নিহতের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।