Image description

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটির ওপর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দায়িত্বভার তুলে দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। এ কমিটিকে অবৈধ দাবি করে বিশ্বক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসিতে অভিযোগপত্র দিয়েছেন সদ্য সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তবে বুলবুলের আপত্তিকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, তার অবস্থানের অসংগতির কারণেই অভিযোগটি গুরুত্ব হারিয়েছে।

 

আইসিসির ভেতরের সূত্রগুলো বলছে, বুলবুলের অবস্থানে স্পষ্ট দ্বৈততা রয়েছে। দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তিনি আইসিসিকে জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ সরকার জাতীয় দলকে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে অনুমতি দেয়নি। অথচ সাম্প্রতিক আবেদনে তিনি দাবি করছেন, সরকারের হস্তক্ষেপেই তাকে অপসারণ করা হয়েছে। দুই সময়ে তার দুই ধরনের কথাই অনেকটা আইসিসির সংবিধান পরিপন্থী। আইসিসির এক পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘যে সভাপতি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার পেছনে সরকারি নির্দেশনার কথা বলেছেন, তিনি এখন একই সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইসিসির সুরক্ষা চাইছেন—এটি বিস্ময়কর।’

এদিকে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন কমিটি জানিয়েছে, দেশের ক্রিকেটের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা তাদের মূল লক্ষ্য। যে লক্ষ্যে এগোতে গিয়ে প্রথমেই বিসিবি ভারত সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং একইসঙ্গে চলতি বছরই বাংলাদেশে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে ভারতকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। চলমান বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্র অনুযায়ী ভারতের বাংলাদেশ সফরের সূচি আগেই নির্ধারিত থাকায় এ উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের মতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর দুদেশের ক্রিকেট সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে বিসিবির নতুন প্রশাসনের এটি এক কূটনৈতিক পদক্ষেপ। উল্লেখ্য, ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর দুদেশের সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছায়। পরে বাংলাদেশের পরিবর্তে টুর্নামেন্টে অংশ নেয় স্কটল্যান্ড।

সব মিলে বিসিবির নতুন নেতৃত্বের অধীনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ কোনদিকে যায় সেটাই এখন দেখার।