জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় বিচার প্রক্রিয়ায় একটি অগ্রগতি বলে জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা জানান তিনি।
শহীদ আবু সাঈদের বিচারের রায়কে স্বাগত জানিয়ে আতাউর রহমান বলেন, ‘মামলার রায়ে দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার, মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এই মামলার ২৫ আসামির মধ্যে মাত্র দুজন গ্রেপ্তার আছে। বাকি সবাই পলাতক। পলাতক আসামিদের আটক করতে সরকারের জোরালো উদ্যোগ নিতে হবে।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণা বিচার প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ। এরপর উচ্চ আদালতের শুনানিসহ নানা প্রক্রিয়া শেষ করে রায় বাস্তবায়ন হয়। এই মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্য মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করে সাজা বাস্তবায়নে সরকারকে আরও আন্তরিকতা ও সতর্কতার সঙ্গে দ্রুত কাজ করতে হবে।’
তার মতে, জুলাই হত্যাকাণ্ডের প্রধান কুশীলব অপরাধী রাজনৈতিক নেতৃত্বকে গ্রেপ্তারে অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক নয়। এই বিষয়ে সরকারের আন্তরিকতা কামনা করেন তিনি।
এই মামলাতে হুকুমের আসামিদের নমনীয় শাস্তি হয়েছে, বলছেন আতাউর রহমান।
তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিও রায়ের পর চিৎকার করে বলছিল, ‘আমি হুকুমের গোলামমাত্র।’ বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। কর্মরত একজন পুলিশের এএসআই ও কনস্টেবলের পক্ষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বা রাজনৈতিক নেতাদের নির্দেশ মান্য করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। এ ধরনের ঘটনায় হুকুমদাতাই মূল শাস্তি প্রাপ্য হওয়া উচিত।’
আইনের ধারা ও প্রক্রিয়ার প্রতি তাদের আস্থা রয়েছে বলে জানান তিনি।
অপরাধীরা তাদের প্রাপ্য শাস্তি পাবে বলে আশা আতাউর রহমানের। তার মতে, অপরাধীরা প্রাপ্য শাস্তি পেলে কেউ কোনো দিন জনতার ওপর গুলি চালানোর সাহস করবে না।