Image description

‘সেভেন সিস্টার খেয়ে ফেলার হুমকি দাতা তথা বাংলাদেশের তথাকথিত জুলাই এর নেতা সার্জিস আলমের বাবা গত ২ এপ্রিল থেকে কলকাতায়। সর্বক্ষণ গজওয়াততুল হিন্দ এর স্বপ্নে বিভোর এই ছাত্র নেতার বাবা এখন নিরাপদেই ভারতের সরকারি চিকিৎসা গ্রহণ করছে।’ এ ধরনের ক্যাপশনে এনসিপি নেতা সারজিস আলমের বাবা উন্নত চিকিৎসা'র জন্য ভারতে গিয়েছেন দাবিতে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক এবং ইউটিউবে ছড়ানো হয়েছে।

 

এ সম্পর্কিত কয়েকটি পোস্ট দেখৃুন এখানেএখানেএখানে এবং এখানে

 

তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং সারজিসের শ্বশুরের ছবিকে এআই’র সহায়তায় সম্পাদনা করে বাবা দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

 

প্রচারিত ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট কয়েকশ পেজ এবং প্রোফাইল থেকে ছবিটি পোস্ট করা হয়েছে। এ ছাড়াও ভারত থেকে পরিচালিত ব্যক্তিগত এবং সংবাদভিত্তিক বিভিন্ন পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেল থেকেও একই দাবিতে ছবিটি ছড়ানো হয়েছে। যেমন: হেডলাইন্স ত্রিপুরা ন্যাশনাল নামে একটি পেজ থেকে ছবিটি পোস্ট করা হলে নেটিজেনদের ব্যাপক প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা গেছে। এতে বাংলায় ক্যাপশন দিয়ে দাবি করা হয়েছে, ‘সার্জিস আলমের বাবা গত ২ এপ্রিল থেকে কলকাতায়।’

 
 

 

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (০৯ এপ্রিল,২০২৬) পোস্টটিতে ৮ হাজারের কাছাকাছি প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি হাজার খানেক বার শেয়ার হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া পোস্টটিতে ৪ হাজারের বেশি মন্তব্য পড়েছে, যেখানে প্রায় সবাইকেই দাবিটি বিশ্বাস করে প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা গেছে।

 

অন্যদিকে,প্রচারিত দাবিটি বিশ্বাস করে সংবাদমাধ্যম কালের কণ্ঠের টকশো অনুষ্ঠান ‘কালের সংলাপে’ বক্তব্য দিতেও দেখা গেছে মাসুদ কামাল নামে একজন আলোচককে। আলোচনাটি দেখুন এখানে। এ ছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মওলা রনির ভ্যারিফায়েড প্রোফাইল থেকে একই দাবিতে পোস্ট করতে দেখা গেছে।

 

প্রচারিত ছবিটি সাইট ইঞ্জিন এবং হাইভমডারেশনসহ একাধিক এআই কন্টেন্ট শনাক্তকরণ সাইটে আপলোড করে ছবিটির ৯৭-৯৯ শতাংশই এআই বলে জানা গেছে।

 

এদিকে সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে সংবাদমাধ্যমগুলোতে সার্জিস আলমের বাবার চিকিৎসার জন্য ভারত যাওয়া সম্পর্কিত কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সার্জিস আলমের পেজ থেকে দাবিটি খারিজ করে একটি পোস্ট করা হয়েছে। এতে তিনি লিখেন, ‘শুনলাম আমার বাবা নাকি ভারতে চিকিৎসার জন্য গিয়েছে ! ফটোকার্ডে আবার ছবি দিয়েছে আমার শ্বশুরের। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হইলো- আমার আম্মু, শাশুড়ি কিংবা আমরা কেউই এ বিষয়ে কিছু জানি না!’

 

এ ছাড়াও গত বছরের ২৫ আগস্ট সংবাদমাধ্যম ‘দেশ রূপান্তরে’ প্রকাশিত এক সংবাদের ছবির সঙ্গে প্রচারিত ছবিটির মিল পাওয়া যায়। হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হলেন সারজিসের শ্বশুর শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি দেখুন এখানে

 

অর্থাৎ, এনসিপি নেতা সারজিস আলমের বাবা উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছেন দাবিতে প্রচারিত ছবিটি তার বাবার নয়, বরং তার শ্বশুরের ছবি এআইয়ের সহায়তায় সম্পাদনা করে ছবিটি তৈরি করা হয়েছে।