পূর্বের কর্মস্থলে এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির দায়ে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন তিনি। সেই তথ্য গোপন করে, কোনো অভিজ্ঞতা সনদ ও ছাড়পত্র ছাড়াই বাগিয়ে নেন অন্য একটি বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ। এভাবে টানা ১৪ বছর অবৈধভাবে চাকরি করে ৪২ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫০ টাকা বেতন-ভাতাও তুলে নেন তিনি। অবশেষে তদন্তে জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় ওই শিক্ষককে তুলে নেওয়া সব টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে জেলা শিক্ষা অফিস।
এমন একটি জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গণিপুর জাফরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম শাহীন মাহমুদ।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শাহীন মাহমুদ ২০০১ সালে আক্কেলপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০১০ সালে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির দায়ে পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এই ঘটনার পর থেকে শাহীন মাহমুদ আর ওই বিদ্যালয়ে যাননি। তবে ২০১২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি এই বরখাস্তের তথ্য গোপন করে এবং কোনো ছাড়পত্র বা অভিজ্ঞতা সনদ ছাড়াই শাহীন মাহমুদ গণিপুর জাফরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে যোগ দেন। পরে এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি জেলা শিক্ষা অফিসের তদন্তে এই নিয়োগ বিধিবহির্ভূত ও অবৈধ প্রমাণিত হয়।
ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন স্বাক্ষরিত এক পত্রে বলা হয়েছে, নিয়োগ অবৈধ হওয়ায় ২০১২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত সরকারি অংশের বেতন-ভাতা বাবদ ৪২ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫০ টাকা সোনালী ব্যাংকের নির্দিষ্ট চালানের মাধ্যমে তাকে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

এদিকে জেলা শিক্ষা অফিসের এই চিঠিটি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অনুলিপি দেওয়ার কথা উল্লেখ করা থাকলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাড়া কেউ তা এখনো পায়নি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাবেদ ইকবাল হাসান এবং সোনালী ব্যাংকের আক্কেলপুর শাখার ব্যবস্থাপক জারজিস আলম দুজনেই চিঠি না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তবে অভিযুক্ত শিক্ষক শাহীন মাহমুদ বলেন, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সঙ্গে বিষয়টি সমঝোতা হয়েছে। তাই আমি চিঠি আনতে যাইনি।’
তার এই দাবি নাকচ করে দিয়ে ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, ‘সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই। তিনি এখনো টাকা ফেরত দেননি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। চিঠির অনুলিপি হয়ত দ্রুতই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো পেয়ে যাবে।’
অন্যদিকে আক্কেলপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোমিন জানান, সহকারী প্রধান শিক্ষক পদের জন্য ১০ বছরের অভিজ্ঞতা লাগে, কিন্তু তার আগেই শাহীন মাহমুদ বরখাস্ত হওয়ায় তাকে কোনো ছাড়পত্র বা সনদ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি তিনি লিখিতভাবে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন।