Image description

সেই যুবক বয়সে ব্যবসা শুরু করেন মফিজুল ইসলাম। ব্যবসার কাজে গাজীপুর থেকে ঢাকায় যাতায়াত করতেন ট্রেনে। এখন তার বয়স ৬০ বছর। বৃদ্ধ হয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘ এক অনুশোচনায় ভুগছিলেন তিনি। ট্রেনে ভ্রমণের সময় টিকিট কাটতেন না তিনি। অনুশোচনা থেকেই ভ্রমণের টাকা পরিশোধ করার উপায় খুঁজছিলেন।

 

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার চন্নাপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নান বেপারির ছেলে মফিজুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি বেপারিবাড়ী ফাতেমাতুজ যাহ্রা (রা.) মহিলা মাদ্রাসা পরিচালনা করছেন।

 

মফিজুল ইসলামের হিসেবে ২-৩ বছর টিকিট ছাড়া ট্রেনে যাতায়াত করেছেন। তিনি বলছিলেন, অনেক দিন ধরে মনে হচ্ছিল টাকাটা পরিশোধ করা দরকার। বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ। কিন্তু কত টাকা পরিশোধ করবেন? বুঝে উঠতে পারছিলেন না।

 

দায়বদ্ধতা থেকে তিনি ছুটে যান শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনে। স্টেশন মাস্টারকে অনুরোধ করেন তাকে ২০ হাজার টাকার টিকিট দেওয়ার জন্য। তবে একসঙ্গে এত টাকার টিকিট না থাকায় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। এক সপ্তাহ অপেক্ষার পর মফিজুল ইসলাম আবার শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনে যান। অবশেষে গত ১ এপ্রিল রেলওয়ের বিশেষ রসিদের (মানি রিসিট) মাধ্যমে তিনি ২০ হাজার টাকা জমা দিয়ে দায়মুক্ত হন।

 

মফিজুল ইসলাম জানান, ১৯৭৬ সালের দিকে তিনি ব্যবসা শুরু করেন। শ্রীপুরে উৎপাদিত কাঁঠাল ট্রেনের ছাদে পরিবহন করে ঢাকায় বিক্রি করতেন। যাতায়াতের জন্য তিনি টিকিট কেটে দায়িত্বরতদের ১ টাকা দিতেন। এভাবেই বছর কয়েক নিয়মিত যাতায়াত করেছেন। অর্ধশতাব্দী পর অনুভব করেন–সেই সময় দেওয়া ১ টাকা দায়িত্বরতদের পকেটে গেলেও রেলওয়ে তাদের পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ২ থেকে ৩ বছর টিকিট ছাড়াই যাতায়াত করেছি। দায়িত্বরতদের হাতে টাকা দিয়েছি ঠিকই, কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষ তো আমার কাছে টাকা পায়। নিজেই হিসাব করে ২০ হাজার টাকার কম হবে ধারণা করি।

 

শ্রীপুর রেলস্টেশন মাস্টার মো. সাইদুর রহমান বলেন, তিনি স্টেশনে এসে টাকা পরিশোধ করেন। তার দেওয়া ২০ হাজার টাকা ৬ এপ্রিল রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। রেলওয়েতে এভাবে পুরোনো বকেয়া বা দায়মুক্তির টাকা পরিশোধের আইনি বিধান রয়েছে।

 

তিনি বলেন, আমরা তার মানসিকতায় মুগ্ধ হয়েছি। মানুষের সব সময় একরকম বোধোদয় থাকে না। জীবনের এক পর্যায়ে যখন তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন এবং দায়মুক্ত হতে চেয়েছেন, তা অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে।