আমার জীবদ্দশায় বৈশ্বিক পরিসরে দুটো মেজর ক্রাইসিস দেখেছি। একটা হলো ২০১০ সালের আগে হওয়া গ্লোবাল রিসেশন। আর দ্বিতীয়ত ২০২০-২১ সালে হওয়া করোনা অতিমারী। আমার ধারনা এ দুটো আগামী দিনের সম্ভাব্য সংকটের তুলনায় খুবই নগন্য। কারণ উপরোক্ত সংকটগুলোর কারণে মানুষ কর্মহীন হয়েছে, অনেক লোক মারা গেছে কিন্তু বৈশ্বিক সম্পদ বিশেষ করে ভূগর্ভস্থ সম্পদ ও পানিতে কোনো টান পড়েনি।
কিন্তু এবারের পরিস্থিতি অতিমাত্রায় ভয়ংকর হওয়ার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এমনও হতে পারে যে, সামনের দিনগুলোতে আপনি ঘরে বসে থাকবেন, লকডাউনের জন্য নয়। বরং তেলের অভাবে গাড়ি, বাস, হোন্ডা চলবে না সে কারণে। একইভাবে সংকট আসবে গ্যাসের ওপর। বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর এমনকী শস্য উৎপাদনের ওপর। এটা বাংলাদেশের একক কোনো সংকট নয়। বাংলাদেশের পাম্পে যেমন ভিড় দেখা দিচ্ছে, সেই চিত্র প্রতিবেশি দেশ ভারতসহ এশিয়ার প্রায় সব দেশেই একইভাবেই দৃশ্যমান হচ্ছে।
ফিলিপাইনে ক্রমবর্ধমান তেল সংকটের কারণে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে গতকাল। হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় হেটে চলাচল করছে। সেই অবস্থা এখানেও হতে পারে। সরকারকে বাধ্য হয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানী সম্পদ ব্যবহারে রেশনিং সিস্টেম চালু করতে হতে পারে। এই পরিস্থিতি থেকে পালিয়ে অন্য দেশে যাবেন- সেই উপায়ও নেই। কারণ অনেক দেশেই বিমান রুট বন্ধ হয়ে গেছে। আর যেগুলো খোলা আছে- সেখানেও বিমান বাড়া আগের তুলনায় ৫-৭ গুণ বেশি। কারণ বিমানের জেট ফুয়েলের দাম এরই মধ্যে একশ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
ঘরোয়া রাজনীতি সামনের দিনগুলোতে মেজর কনসার্ন হয়ে থাকবে না। বরং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, ঘরের চুলোর গ্যাস, বা গাড়ির তেলের অভাব আর লোড শেডিং বড়ো সংকট হিসেবে আবির্ভুত হবে। এমনকি খাবার পানির জন্যেও অনেক দেশে হাহাকার তৈরি হয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি যে পরিমাণ অবনতি হয়েছে, তাতে চলমান যুদ্ধ এ মুহুর্তে থামলেও এর রেশ কাটতে সময় লাগবে অনেক। অলরেডি ২৭ দিন যুদ্ধ চলছে। আরো ২৭ দিন চললে বিশ্ব এর লোড নিতে পারবে না। আর যদি ইসরাইল ইরানে নিউক্লিয়ার এ্যাটাক করে কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনো দেশ সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে যায়, তাহলে বিশ্বজুড়ে জাহান্নামের মতো পরিস্থিতি হয়ে যাবে।
পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ; অনেকে হয়তো তা অনুধাবনও করতে পারছেন না।