রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণার প্রথম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সেই প্রথম গণহত্যা শুরু এবং সেখান থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান গণহত্যার খবর পেয়ে চট্টগ্রামে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। পরে ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন কামনা করা হয়। এ ঘটনাকেই তিনি স্বাধীনতার ঘোষণার ‘প্রকৃত ইতিহাস’ হিসেবে অভিহিত করেন।
শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের পুলিশ সদস্যদের রক্তদানের মাধ্যমেই স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা ঘটে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে তিনিও সেখানে শ্রদ্ধা জানান। এরপর স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি রাজারবাগে আসেন।
দীর্ঘ কয়েক বছর পর পুনরায় স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজ শুরু হওয়াকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, শহীদদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা আরও জোরদার হবে।
ভারত থেকে ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। বন্দি বিনিময় চুক্তি অনুযায়ী তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পুলিশ সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি জানান, বাহিনীকে আধুনিক ও দক্ষ করে তুলতে উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে কারিগরি সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।