রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে সংঘটিত মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনায় মায়ের পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অর্থনীতি বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আহনাফ তাহমিদ খান রাইয়ান, তার ভাগ্নের মরদেহ উদ্ধার ও শনাক্ত করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে তাদের মরদেহ শনাক্ত করেন পরিবারের সদস্য ও সহপাঠীরা। দুর্ঘটনার সময় একই বাসে রাইয়ানের মা, বড় বোন ও ভাগ্নে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বুধবার (২৫ মার্চ) তার মায়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় বড় বোনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুর্ঘটনার পর থেকে রাইয়ান ও তার ভাগ্নে দীর্ঘ সময় নিখোঁজ ছিলেন। পরবর্তীতে আজ তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রাইয়ানের মামা আওয়াল আনোয়ার জানান, বুধবার ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। এ সময় জীবন বাঁচাতে হুড়োহুড়ির মধ্যে কোনোভাবে বাস থেকে বের হতে পারেন ডা. সাবা। তবে রাইয়ান, তার মা এবং ছোট্ট ভাগ্নে বের হতে পারেননি।
এ বিষয়ে অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, আমার সন্তানতুল্য ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাইয়ানের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক, ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। সে বিভাগের সবার সঙ্গে খুবই ঘনিষ্ঠ ছিল। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও ব্যাচের কার্যক্রমে সে সক্রিয়ভাবে অংশ নিত। তার সঙ্গে আমাদের অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে আছে। কিছুদিন আগেই তার বাবা মারা গেছেন, এখন সে ও তার মায়ের মৃত্যু তাদের পরিবারের জন্য আরও বড় আঘাত। আমরা সবাই গভীরভাবে শোকাহত।’