Image description

উচ্চশিক্ষার জন্য প্রতিবছরই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। ইউনেস্কো প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী শুধুমাত্র ২০২৩ সালেই বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন ৫২ হাজার ৭৯৯ জন শিক্ষার্থী। এসব শিক্ষার্থী বিদেশের মাটিতেই কাটাচ্ছেন মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ। রমজান মাসব্যাপী রোজা রেখে এবারেও ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন পরিবারবর্গ ও আত্মীয়স্বজন ছাড়া। কানাডায় অবস্থানরত এক শিক্ষার্থীর ঈদ ভাবনা তুলে ধরেছেন— আমান উল্যাহ আলভী।

মো. ইয়াজ উদ্দিন বর্তমানে কানাডার মনিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করছেন। তিনি ২০২৪ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য কানাডায় পাড়ি জমান।

ইয়াজ উদ্দিন জানান, আমি ২০২৪ সালে কানাডায় আসার পর থেকে দুইবার বিদেশে ঈদ উদযাপন করেছি। প্রথমবারের ঈদটি ছিল খুবই আবেগঘন। বাংলাদেশে পরিবারের সঙ্গে উদযাপিত ঈদের আনন্দের সাথে তার তুলনা করা যায় না। ঈদ নামাজে গিয়েছি, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা করেছি, কিন্তু বাবা-মা, ভাইবোন ও আত্মীয়দের খুব মিস করেছি। এই অভিজ্ঞতা আমাকে পরিবারের সঙ্গে ঈদের মিলনের গুরুত্ব আরও ভালোভাবে বুঝিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পরিবার ছাড়া ঈদ উদযাপন করা সত্যিই কঠিন। ঈদ সাধারণত পরিবারকেন্দ্রিক উৎসব, তাই তাদের অনুপস্থিতিতে দিনটি অসম্পূর্ণ মনে হয়। বন্ধু বা স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় কিছুটা আনন্দ দেয়, তবে পরিবারের সঙ্গে থাকা আবেগপূর্ণ সংযোগের বিকল্প নেই।

বাংলাদেশে ঈদের দিনটি কেমন কাটত, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ঈদের সকালে আমরা পরিবারসহ নামাজে যেতাম। নামাজ শেষে পরস্পরকে সালাম দিতাম এবং একে অপরের বাড়িতে যেতাম। ঐ দিনের প্রতিটি মুহূর্ত পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কাটত ভোজন, আড্ডা ও সামাজিক মিলনমেলা ছিল সারাদিনের আনন্দ।

ইয়াজ উদ্দিন বিদেশে রমজান মাসের পরিবেশকেও আলাদা উল্লেখ করেন, কানাডায় রমজান বেশ শান্তময়। বাংলাদেশে রমজান মাসে পুরো পরিবেশই বদলে যায় বাজার, মসজিদ ও মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। কানাডায় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ হওয়ায় দেশের সাধারণ পরিবেশ অপরিবর্তিত থাকে। তবে মসজিদ ও মুসলিম কমিউনিটি কিছু অনুষ্ঠান আয়োজন করে। ক্লাস ও কাজের ব্যস্ততার কারণে পুরো রমজানের আমেজ অনুভব করা যায় না।

ইয়াজ উদ্দিন বলেন, বিদেশে ইফতার বা সেহরিতে আমি বাংলাদেশি খাবার যেমন সামোসা, পকোরা, পেয়াজু ও ফল খাই। মাঝে মাঝে বন্ধুদের সঙ্গে সাধারণ বাংলাদেশি খাবার তৈরি করি, যা রমজানকে আরও বিশেষ করে তোলে।

ঈদ উদযাপনকেও তিনি তুলে ধরেন, ঈদের সকালে আমি মসজিদে নামাজ পড়ি। এরপর বন্ধুদের সঙ্গে মিলিত হয়ে খাবার ও আড্ডা করি। যদিও বাড়ির মতো নয়, তবে আমরা একত্রে উৎসবের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করি। স্থানীয় মসজিদ বা ইসলামিক সেন্টারে অন্যান্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর উপস্থিতি চোখে পড়ে এবং এটি মনকে স্বাচ্ছন্দ্য দেয়।

পরিবারকে মিস করার অনুভূতি নিয়ে তিনি বলেন, পরিবারের সঙ্গে ঈদের সকাল, মায়ের হাতের সেমাই, বাবার সালামি এগুলো সবচেয়ে বেশি মিস করি। তবে ভিডিও কল ও মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি। বিদেশে প্রথমবারের মতো পরিবারবর্গ ছাড়া ঈদ উদযাপন করা মানসিকভাবে কিছুটা কঠিন, তবে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে একাকীত্বের অনুভূতি কমানো যায়।

ইয়াজ উদ্দিন বিদেশে ঈদ উদযাপন ও বাংলাদেশে ঈদের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হিসেবে পরিবার এবং সার্বিক উৎসবমুখর পরিবেশকে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে পুরো দেশ ঈদ উদযাপন করে, আর পরিবারের সঙ্গে মিলনের আনন্দ ও দেশীয় উৎসবের আমেজ এখানে অনুভূত হয় না। তবে বন্ধু ও সহপাঠীদের সঙ্গে মিলিত হয়ে কিছুটা সেই আনন্দ তৈরি করার চেষ্টা করি।

ডেইলি ক্যাম্পাস