ত্রিশ দিনের সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো পবিত্র রমজান মাস। হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি-সংঘাত ভুলে সাম্য-সম্প্রীতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার বার্তা নিয়ে বছর ঘুরে আবার এলো খুশির ঈদ। এবারও জাতীয় পর্যায়ের প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায়, যেখানে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ থেকে শুরু করে সাধারণ মুসল্লিরা একসঙ্গে নামাজ আদায় করবেন। পাশাপাশি বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও খোলা ময়দানে একাধিক জামাতের আয়োজন রাখা হয়েছে, যাতে নগরবাসী সহজে অংশ নিতে পারেন।
এদিকে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরেও কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ও প্রধান মসজিদগুলোকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। কোথাও সকাল ৮টা, কোথাও সাড়ে ৮টা কিংবা ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে প্রধান জামাত। একই সঙ্গে আবহাওয়ার সম্ভাব্য প্রতিকূলতা বিবেচনায় রাখা হয়েছে বিকল্প ব্যবস্থাও। সব মিলিয়ে ঈদের নামাজকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে এক আনন্দঘন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ।
জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায়
রাজধানীসহ সারা দেশে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে ঈদ জামাতের প্রস্তুতিও ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ব্যবস্থাপনায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়। আবহাওয়া প্রতিকূল বা অন্য কোনো অনিবার্য কারণে এ জামাত অনুষ্ঠান সম্ভব না হলে সকাল ৯টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধান জামাতে অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী
ঈদের প্রধান জামাতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক জাতীয় ঈদগাহে ইমামতির দায়িত্ব পালন করবেন।
বৈরী আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখেই ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠানের সব আয়োজন ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম ঢাকাবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
ঈদের প্রধান জামাতে নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ৩ হাজার ৫০০ নারীসহ মোট ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ, ওজু ও নামাজের সংরক্ষিত ব্যবস্থা থাকছে। এ ছাড়া পর্যাপ্ত ওজুখানাসহ মুসল্লিদের জন্য মেডিকেল টিমের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঈদ জামাত ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রস্তুতি
রাজধানীতে ঈদ জামাতকে ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জাতীয় ইদগাহের প্রস্তুতি পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা নেই। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পুরো জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ আশপাশের এলাকায় সিসি ক্যামেরা দিয়ে মনিটরিং করা হবে।
ঈদগাহ ময়দানে আসার প্রধান তিনটি সড়কের প্রবেশ মুখ মৎস্য ভবন, প্রেস ক্লাব এবং শিক্ষা ভবনে ব্যারিকেড থাকবে, যাতে অন্যান্য গাড়ি এই ঈদগাহ ময়দানের আশপাশের রাস্তায় না আসে। সেখানেও আর্চওয়ে এবং মেটাল ডিটেক্টর থাকবে।
ভারপ্রাপ্ত কমিশনার জানান, ঈদ জামাতের চারদিকে পুলিশের পেট্রোলিং ব্যবস্থা থাকবে। মূল গেট হয়ে সব মুসল্লিদের প্রবেশ করতে হবে। নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশ গেট এবং পৃথক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। ঈদগাহ ময়দান এবং আশপাশের এলাকায় সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড সুইপিং এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের সুইপিং টিম মোতায়েন থাকবে।
বায়তুল মোকাররমে ৫ ঈদ জামাত
প্রতি বছরের মতো এবারও জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদ জামাত সকাল ৭টা, সকাল ৮টা, সকাল ৯টা, সকাল ১০টা ও পৌনে ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে।
সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল ৮টায় জামাত
জাতীয় সংসদের সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ঈদের জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের স্পিকার, চিফ হুইপ, হুইপবৃন্দ, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ-সদস্য ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মুসল্লিরা এই জামাতে অংশ নেবেন। জামাত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
শোলাকিয়া মাঠে হবে ১৯৯তম জামাত
এদিকে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া মাঠে দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাতের প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে। ১৮২৮ সালে প্রথম অনুষ্ঠিত জামাতের হিসাবে এটি হবে ঈদুল ফিতরের ১৯৯তম জামাত। জামাত নির্বিঘ্ন করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া ঈদের জামাতে ইমামতি করবেন জেলা শহরের বড় বাজার মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ।
হাসপাতাল-কারাগার-শিশু সদন-বৃদ্ধ নিবাসে বিশেষ আয়োজন
ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু সদন, বৃদ্ধ নিবাস, ছোটমনি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, আশ্রয় কেন্দ্র, সেইফ হোমস, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র, দুঃস্থ কল্যাণ ও মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশন যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবে। এ উপলক্ষে সারা দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনা টিকিটে পার্কে বিনোদনের ব্যবস্থা
ঈদের দিন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনা টিকেটে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন সব শিশু পার্কে প্রবেশ এবং বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঈদের দিন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনা টিকিটে জাদুঘর, আহসান মঞ্জিল, লালবাগের কেল্লা ইত্যাদি দর্শনীয় স্থানে প্রবেশ এবং তা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে শিশুদের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।