মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে আরও নাগরিকদের ফেরানো হবে।
শুক্রবার (২০ জুন) সৌদি আরবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত প্রবাসী মোশারফ হোসেনের মরদেহ দেশে পৌঁছায়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে আমরা এ পর্যন্ত পাঁচজন বাংলাদেশি ভাইকে হারিয়েছি। সরকার সবার পাশে রয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে এবং তাদের সুরক্ষা দেওয়া আমাদের অগ্রাধিকার।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশি মিশনগুলো প্রবাসীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নিচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত এই যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান হবে এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।
এদিকে, ইরান থেকে ১৮৬ বাংলাদেশি নাগরিককে আজারবাইজান হয়ে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। অন্য দেশগুলো থেকেও বাংলাদেশিদের ফেরানো হবে কিনা—এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে সবাইকে ফেরানো হবে। যারা দেশে ফিরতে চান, সরকার তাদের ফিরিয়ে আনতে প্রস্তুত রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এ বিষয়ে প্রস্তুত আছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকার প্রবাসীদের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। নিহত মোশারফ হোসেনের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে এবং তার দুই সন্তানের পড়ালেখার দায়িত্ব প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বহন করবে।
যুদ্ধের কারণে দেশে ফিরে আসা প্রবাসীদের কর্মসংস্থান নিয়ে তিনি বলেন, তারা দেশে ফেরার পর তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ পুনরায় বিদেশে যেতে চাইলে সে ক্ষেত্রেও সরকার সহযোগিতা করবে। ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর মতো বিষয়গুলোতেও সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
মন্ত্রী আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে নিহতদের মরদেহ দেশে আনার খরচ সরকার বহন করছে। পাশাপাশি নিহতের পরিবারকে সাড়ে তিন লাখ টাকা দেওয়া হচ্ছে এবং যেসব প্রবাসীর বিএমইটির কার্ড রয়েছে তারা অতিরিক্ত ১০ লাখ টাকা সহায়তা পাবেন।
এর আগে গত ৮ মার্চ সৌদি আরবের আল-খারিজ শহরের কাছে আল-তোয়াইক এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রবাসী বাংলাদেশি মোশারফ হোসেন নিহত হন। ইফতারের আগে চালানো ওই হামলায় তারসহ মোট তিনজন প্রাণ হারান। শুক্রবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
নিহত মোশারফ হোসেন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কীর্তনখোলা গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. সুরজত আলীর ছেলে। পরবর্তীতে তার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।