মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের তেল সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটলে বৈশ্বিক ক্রুড তেলের দাম ৯০-১১০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। ইকুইরাস সিকিউরিটিজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান প্রতিদিন প্রায় ৩৩ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করে, যা বৈশ্বিক বাজারের প্রায় ৩ শতাংশ।
প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, সরবরাহের মাত্র ১ শতাংশ ব্যাহত হলে তেলের দাম ৩-৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর ফলে ক্রুড তেলের দাম ৯-১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে।
এবিপি লাইভের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বা আংশিক ব্যাঘাত হলে জিওপলিটিক্যাল ঝুঁকি প্রিমিয়াম ২০-৪০ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে তেলের দাম ৯৫-১১০ ডলারের ওপরে ওঠার সম্ভাবনা থাকে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পারমাণবিক আলোচনায় সাম্প্রতিক রাউন্ডে সামান্য অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। বাজার ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য উত্তেজনা মাথায় রেখে দাম বাড়িয়েছে।
ইসরায়েল ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার পর হরমুজ প্রণালির ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে। ভারতের ইকুইরাস সিকিউরিটিজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি তেহরান প্রতিশোধ হিসেবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫-১১০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
গোল্ডম্যান স্যাকসের একটি পূর্ববর্তী বিশ্লেষণেও বলা হয়েছিল, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে বৈশ্বিক উৎপাদন খরচ বাড়বে এবং ভোক্তাদের জন্য তেলের পাশাপাশি খাদ্য, পোশাক ও রাসায়নিক পণ্যের মূল্যও বৃদ্ধি পাবে।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক পঞ্চমাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত গ্যাস পরিবহন হয়। প্রণালির একটি পাশে ইরান, অন্য পাশে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। তাই এই প্রণালিতে যেকোনো ঝুঁকি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলে।
ক্রাইসিস গ্রুপের মতে, ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রণালি বন্ধ না করলেও জাহাজ চলাচলে হয়রানি বা সীমিত নৌ চলাচল ঘটাতে পারে। এতে বীমা ও পরিবহন খরচ বেড়ে যায়।
সংঘাত শুরু হলে প্রথম দিকে তেলের বাজারে ভূ-রাজনৈতিক প্রিমিয়াম যুক্ত হয়। পরবর্তী সময় সরবরাহ পুনর্বিন্যাস ও বাস্তবতা বিবেচনায় দাম ধীরে ধীরে ভারসাম্য অর্জন করে। যদিও ইরান এর আগে অনেকবার হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দিয়েছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বন্ধ করেনি।